আন্তর্জাতিক

ভা’’ রতের মু’সলিমবিরোধী নৃ’শংসতা, বিশ্ববাসীকে সতর্ক করলেন ইম’রান খান

‘পারমাণবিক পরিবেশে নৃ’শংস ধ্বংসযজ্ঞের পরিকল্পনা করছে ভা’’ রত। তবে নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষায় পা’কিস্তান শেষ পর্যন্ত ল’ড়াই চালিয়ে যাবে।’ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেয়া ভাষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন পা’কিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইম’রান খান।

ভ’য়াবহ সংঘাত প্রতিহত করার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বলেন, না হয় পুরো অঞ্চল ঝুঁ’কিপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, দখলকৃত কা’শ্মীরে ভা’’ রতের অ’বৈধ কর্মকা’ণ্ড এবং নৃ’শংসতা থেকে আন্তির্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখ সরাতে নয়াদিল্লি পারমাণবিক পরিবেশে পা’কিস্তানের বি’রুদ্ধে সাম’রিক শক্তি লেলিয়ে দেয়ার ভ’য়াবহ খেলা খেলছে।

ইম’রান খান বলেন, ভা’’ রতের উস্কানি এবং লাইন অব কন্ট্রোলে যু’দ্ধবিরত লঙ্ঘন এবং সীমান্তে নিরপরাধ মানুষকে হ’’ ত্যার পরও পা’কিস্তান সর্বোচ্চ সংযত আচরণ করছে। অব্যাহতভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অ’ভিহিত করছি, নয়াদিল্লির নৃ’শংস পরিকল্পনা এবং মিথ্যচার স’ম্পর্কে।

তিনি বলেন, উপনিবেশিক ভা’’ রতে আমা’র বাবা-মায়েরা জন্ম নিলেও আমাদের প্রথম প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে স্বাধীন পা’কিস্তানে। আমি পরিষ্কারভাবে বলছি, ফ্যাসিবাদী সর্বগ্রাসী আরএসএ নেতৃত্বাধীন ভা’’ রতীয় সরকার যদি পা’কিস্তানের বি’রুদ্ধে কোনো আগ্রাসন চালায়, তাহলে নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষায় পা’কিস্তানিরা শেষ পর্যন্ত ল’ড়াই অব্যাহত রাখবে।

‘নিরাপত্তা পরিষদকে অবশ্যই সর্বনাশা সংঘাত প্রতিহত করতে হবে। পূর্ব তৈমুর সংঘাত নিরসনে যে ভূমিকা পরিষদ নিয়েছিল, কা’শ্মীরের ক্ষেত্রেও জাতিসংঘকে নিজের প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করতে হবে।’ বলেন ইম’রান খান।

গেল বছর বালাকোটে ভা’’ রতের বো’মা হা’মলা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার পর থেকে দু’পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তে’জনা ছড়ায়। সেই প্রেক্ষিতে সতর্কতা উচ্চারণ করেন পা’কিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

দেশটির গণমাধ্যম ডন জানায়, ভা’’ রতের যু’দ্ধবিমান ভূপাতিত করে তাদের একজন পাইলট আ’ট’কের পর আগ্রাসন ও বো’মা হা’মলা থামাতে বাধ্য হয় নয়াদিল্লি। উইং কমান্ডার অ’ভিনন্দন ভা’’ রথামান নামের ওই পাইলট’কে ২০১৯ সালের ১ মা’র্চ শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভা’’ রতের কাছে হস্তান্তর করে ইস’লামাবাদ। কিন্তু ভা’’ রত ওই বছরের ৫ আগস্ট অ’বৈধভাবে কা’শ্মীর দখল করে। তারপর থেকে লাইন অব কন্ট্রোলে অব্যাহতভাবে গু’লি ছুঁড়ছে ভা’’ রত।

ওই ঘটনা উল্লেখ করে জাতিসংঘের ৭৫তম অধিবেশনে ইম’রান খান বলেন, যতোক্ষণ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জম্মু-কা’শ্মীর সংকটের সমাধান না হবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি এবং স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।

কা’শ্মীরকে পরমাণু সংঘাতের কেন্দ্র বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, গেল বছর নিরাপত্তা পরিষদ তিন দফা জম্মু এবং কা’শ্মীরকে বিবেচনায় নিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদকে অবশ্যই যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। ভা’’ রতের আসন্ন গণহ’’ ত্যা থেকে কা’শ্মীরীদের রক্ষায় জাতিসংঘকে অবশ্যই পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ।

তিনি বলেন, পা’কিস্তান সবসময় শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে। শান্তি প্রতিষ্ঠায়, ভা’’ রতকে অবশ্যই ২০১৯ সালের ৫ আগস্টের পর নেয়া নৃ’শংস পদক্ষেপ প্রত্যাহার করতে হবে। সাম’রিক দখলদারিত্ব এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে। কা’শ্মীরী জনগণের ইচ্ছা এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী জম্মু এবং কা’শ্মীর সংকট সমাধানে একমত হতে হবে।

আ’ফগা’নিস্তানে শান্তি

ইম’রান খান বলেন, আ’ফগা’নিস্তানে রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে পা’কিস্তানের অবস্থান সুস্পষ্ট। গেল ২০ বছর ধরে আমি বলে আসছি, আ’ফগা’ন সংকটের কোনো সাম’রিক সমাধান নেই। সবপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক উপায়ে সমাধানই আ’ফগা’নিস্তানে শান্তি ফেরাতে পারে।

ইম’রান খান বলেন, ২৯ ফেব্রুয়ারি যু’ক্তরাষ্ট্র ও তা’লেবানের মধ্যকার শান্তি চুক্তির পুরো প্রক্রিয়ায় পা’কিস্তান সহায়তা করেছে। এ দায়িত্ব পালন করতে পেরে ইস’লামাবাদ সন্তুষ্ট। যু’দ্ধবি’ধ্বস্ত আ’ফগা’নিস্তান পুনর্গঠন এবং শান্তি পুনরুদ্ধারে দেশটির নেতাদের শান্তি চুক্তিকে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।

১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া আন্তঃআ’ফগা’ন আলোচনাকে ব্যাপকভাবে কাজে লাগানোর জন্য আ’ফগা’ন নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। শান্তি প্রক্রিয়ায় বাইরের হস্তক্ষেপ বা প্রভাবমুক্ত রাখার আহ্বান জানান তিনি। রাজনৈতিক সমাধানে আ’ফগা’ন শরণার্থীদের দেশে ফেরানোর সুযোগ উন্মুক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ভা’’ রতকে ইঙ্গিত করে ইম’রান খান সতর্ক করে বলেন, আ’ফগা’নিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়া নষ্ট করতে পারে এমন কোনো শক্তিকে সেখানে ভিড়তে দেয়া উচিৎ হবে না।

‘আ’ফগা’নিস্তানের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন আঞ্চলিক যোগাযোগের নতুন সুযোগ উন্মুক্ত করবে। যার ফলে মধ্য এশিয়া এবং এর বাইরেও সহযোগিতার নতুন নতুন দ্বার খুলতে পারে।’ বলেন ইম’রান খান।

মু’সলমানদের ওপর আক্রমণ

বিশ্বের প্রতিটি খারপ কাজের জন্য মু’সলমানদের দায়ী করা থেকে বিরত থাকতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান ইম’রান খান। মু’সলমানদের ধ’র্মীয় বিশ্বা’স এবং তাদের ধ’র্মীয় স্থাপনার প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে মু’সলমানদের বি’রুদ্ধে এমন হা’মলার ঘটনা ঘটছে। তবে ভা’’ রত এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। বিশ্বের একমাত্র দেশ ভা’’ রত, যেখানে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ইস’লামভীতি ছড়ানো হচ্ছে। তার জন্য আরএসএস-এর নাৎসীবাদী আদর্শকে দায়ী করেন তিনি। বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি আজকে ওই আদর্শ ভা’’ রত শাসন করছে।

মু’সলমানদের বি’রুদ্ধে ভা’’ রতে ঘৃ’ণা ছড়ানোর ইতিহাস তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ১৯২০ সালে নাৎসী আদর্শে বর্ণবাদী এবং আধিপত্যবাদী চেতনা নিয়ে আরএসএস গঠন করে উগ্রবাদীরা।

বলেন, নাৎসীরা ইহুদিদের বি’রুদ্ধে ঘৃ’ণা ছড়িয়েছে। আরএসএস মু’সলমানদের বি’রুদ্ধে একই কাজ করছে। এর থেকে বাদ যাচ্ছে না খ্রিস্টানরাও। তাদের বিশ্বা’স ভা’’ রত শুধু হিন্দুদের। সেখানে অন্য ধ’র্মাবলম্বী নাগরিকের সমান অধিকার নেই।

‘গান্ধী এবং নেহরুর অসাম্প্রদায়িক ভা’’ রত এখন হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বলি হচ্ছে।’ ভা’’ রতের ২০ কোটি মু’সলমানসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দেশটির জাতিসগত নিধনের শিকার হচ্ছে বলে অ’ভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আসামে প্রায় ২০ লাখ মু’সলমানের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। তাদের অনেকে এখন আ’ট’ক কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযান করছেন।

‘মু’সলমানদের মি’থ্যে দোষে দোষারোপ করা হয়েছে। করো’না ছড়ানোর জন্য অযথা তাদের হয়’রানি করা হয়েছে। বহুবার তাদের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের ব্যবসা বাণিজ্য বয়কট করা হয়েছে। গরু রক্ষার নামে মু’সলমানদের হ’’ ত্যা করা হয়েছে। গেল ফেব্রুয়ারিতে পু’লিশের সহায়তায় নয়াদিল্লিতে মু’সলমানদের হ’’ ত্যা করা হয়েছে।’ বলেন ইম’রান খান।

‘অ’তীতের এ ধরনের ঘটনা গণহ’’ ত্যার পূর্বাভাস হিসেবে চিহিৃত হয়েছে। যেমন ১৯৩৫ সালে জার্মানির নুরেমবার্গ আইন, পরে ১৯৮২ সালে মিয়ানমা’রেও গণহ’’ ত্যার আগে এসব ঘটনা ঘটানো হয়।’ বলেন ইম’রান খান। এ ধরনের নৃ’শংসতা বন্ধে পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মু’সলমান, খ্রিস্টান এবং শিখ সম্প্রদায়ের ৩০ কোটি মানুষকে ভা’’ রতের উগ্রহিন্দুত্ববাদীরা সংখ্যালঘু করতে চায় বলে সতর্ক করেন তিনি। নজিরবিহীন এমন ইতিহাস ভবিষ্যত ভা’’ রতের জন্য সুখকর হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, বঞ্চিত এসব মানুষ নিজেদের অধিকার আদায়ে উগ্রবাদী মতাদর্শে অনুপ্রা’ণিত হতে পারে।

ইম’রান খান বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বলেন, গেলো ৭২ বছর ধরে অ’বৈধভাবে, কা’শ্মীরীদের ইচ্ছার বি’রুদ্ধে, জাতিসংঘের প্রস্তাবনা এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে জম্মু-কা’শ্মীরে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে ভা’’ রত।

‘গেলো বছরের ৫ আগস্ট ভা’’ রত অ’বৈধ এবং একতরফাভাবে কা’শ্মীরের ম’র্যাদা বাতিলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করে। দখলকৃত অঞ্চলে ৮০ লাখ মানুষের জন্য ৯ লাখ সে’না মোতায়েন করে নয়াদিল্লি। সাম’রিকী’করণ করা হয় কা’শ্মীরকে।’ বলেন ইম’রান খান।

গেলো বছরের আগস্ট থেকে কা’শ্মীরে ভ’য়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্যউপাত্য তুলে ধরেন ইম’রান খান। বলেন, ১৩ হাজার কা’শ্মীরী যুবকে আ’ট’ক করে ভা’’ রত। তাদের ওপর চালানো হয় নি’র্মম নি’র্যা’তন। ওই অঞ্চলে জারি করা হয় কারফিউ। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। শান্তিপূর্ণ বি’ক্ষোভকারীদের ওপর ছররা গু’লি, ভ’য়াবহ শা’স্তি চাপিয়ে দেয়া, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ স’ম্পর্ক ধ্বংস করা, শত শত নিরাপরাধ কা’শ্মীরীকে বিচারবহির্ভূতভাবে হ’’ ত্যাসহ ভা’’ রতীয় বাহিনীর নৃ’শংসতাও ‍তুলে ধরেন ইম’রান খান।

ইম’রান খান বলেন, নি’র্মমভাবে হ’’ ত্যার পর অনেক কা’শ্মীরীর ম’রদেহ ফেরত দেয়নি ভা’’ রতীয় বাহিনী। এধরনের খবর প্রকাশ থেকে কা’শ্মীরের গণমাধ্যমকে বাধা দেয়া হয়। এসব তথ্য জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার কাছে রয়েছে।

তিনি বলেন, অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভ’য়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনে জ’ড়িত ভা’’ রতের বেসাম’রিক এবং সাম’রিক ব্যক্তিদের বিচাররের আওতায় আনতে হবে। ভ’য়াবহ মানবতাবিরোধী এসব অ’প’রাধে জ’ড়িতের দায়মুক্তি দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভা’’ রতীয় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের বিচার জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভা’’ রতের এসব নৃ’শংসতাকে আরএসএস এবং বিজেপি কা’শ্মীরের জন্য চূড়ান্ত সমাধান বলে উল্লেখ করেছে বলে দাবি করেন ইম’রান খান। কা’শ্মীরীদের আত্মপরিচয় এবং জাতিসংঘের প্রস্তাবনা মিটিয়ে দেয়ার জন্য নয়াদিল্লি এসব করছে বলেও মত তার।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইম’রান খান বলেন, সাহসী কা’শ্মীরীরা কখনো ভা’’ রতের দখলদারিত্বের কাছে মা’থা নত করবে না। যুগের পর যুগ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কা’শ্মীরীরা ভা’’ রতীয় আগ্রাসন থেকে নিজেদের মুক্ত করার জন্য ল’ড়ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পা’কিস্তান সরকার এবং দেশটির জনগণ কা’শ্মীরী ভাই-বোনদের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং আত্মপরিচয় রক্ষার সংগ্রামে সব সময় পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান ইম’রান খান।

সূত্র: ডন। ভাষান্তর: ফাইয়াজ আহমেদ

 

Back to top button