দেশ লকডাউন হলেও ম'সজিদ বন্ধ করা যাবে না: শফী

করো'না ভাই'রাসে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে দেশের ই'মাম-খতিবদের উদ্দেশ্যে ৬ টি পরাম'র্শ প্রদান করেছেন দারুল উলূম মুঈনুল ইস'লাম হাটহাজারীর মহাপরিচালক ও আমীরে হেফাজত আল্লামা শাহ আহম'দ শফী।

বুধবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই পরাম'র্শ দেন তিনি।বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অন্যতম একটি মু'সলিম প্রধান দেশ। দেশে ৩ লাখের অধিক ম'সজিদ রয়েছে। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজে লক্ষ লক্ষ মানুষ অংশ নেন। ম'সজিদে গিয়ে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি লাভ করেন। আল্লাহ তায়ালার দরবারে কা'ন্নাকাটি করেন। ম'সজিদের সঙ্গে রয়েছে তাদের আত্মিক স'ম্পর্ক। কারণ ম'সজিদ হলো সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা।

আল্লাহ তায়ালার দৃষ্টিতে পৃথিবীর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট স্থান ম'সজিদ। তাই করো'নাভাই'রাসের প্রাদুর্ভাবে চলমান পরিস্থিতিতে দেশের সকল ম'সজিদের ই'মাম, খতিব, মুয়াজ্জিন ও মুতাওয়াল্লিদের সমীপে ছয়টি পরাম'র্শ প্রদান করা হলো। আশা করছি, পরাম'র্শগুলো যথাযথ আমলে নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

১. আমাদের দেশের জনগণ করো'নাভাই'রাস ইস্যুতে এখনো পরিপূর্ণ সচেতন নন। এমন নাজুক পরিস্থিতিতেও ধ'র্মীয় ও রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধ তোয়াক্কা করছেন না। অথচ এ পরিস্থিতিতে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আল্লাহমুখী হওয়া। কারণ তওবা ইসতেগফার ও কা'ন্নাকাটির মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার আজাব ও গজব থেকে আম'রা বাঁচতে পারব। তাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে বিশেষ মোনাজাত করুন। তওবা ইসতেগফার করুন। সুন্নাহসম্মত দোয়ার আমল করুন।

২. বাংলাদেশে লকডাউন ঘোষণা হলে ই'মাম মুয়াজ্জিন ও খাদেমগণ মিলে হলেও নামাজের জামাত কায়েম করতে হবে। ম'সজিদ বন্ধ করা যাবে না। তবে সুন্নত ও নফল নামাজ ঘরে আদায় করার প্রতি মু'সল্লিদের তাগিদ দিন। আর সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব আমল চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন।

৩. দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক'ষ্ট পাচ্ছে দিনমজুর ও সমাজের নিম্নবিত্তের মানুষ। তাই ই'মাম খতিব, মুয়াজ্জিন ও ম'সজিদ কমিটির দায়িত্বশীলগণ তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসুন। সমাজের বিত্তশালীদের সঙ্গে পরাম'র্শ করে অসহায় মানুষদের হাতে চাল, ডাল, তেল, আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দিন।

৪. ম'সজিদে ম'সজিদে অজুর আগে হাত ধোয়ার জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করুন। ফরজ নামাজ ও জুমা'র বয়ানে সংক্ষিপ্ত আকারে করো'নাভাই'রাস স'ম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আলোচনা করুন। গুজব, কানকথা, ভিত্তিহীন ও তথ্যহীন আলোচনা থেকে বিরত থাকুন। বিদেশফেরত ও অ'সুস্থ ব্যক্তিদের ম'সজিদে না এসে তাদের ঘরে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিন।

৫. প্রত্যেক মহল্লার ই'মাম ও সচেতন উলামায়ে কেরাম প্রত্যেকেই নিজ দায়িত্বে দোয়া ইউনুস, কোরআন খতম ও রোগমুক্তির জন্য বিশেষ দোয়ার আমল করুন। ‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জালিমিন।’

এই আয়াত সবাইকে বেশি বেশি পড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করুন। এবং ঘর থেকে বের হওয়ার আগে ‘বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআস মিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়া হুওয়াস সামিউল আলিম।’ উক্ত দোয়াটি নিয়মিত পড়তে বলুন।

৬. কোনো ব্যক্তি মা'রা গেলে তার কাফন দাফনের ব্যবস্থা ও জানাজা পড়ানোর ব্যাপারে গাফলতি করবেন না। নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে যথেষ্ট সম্মান দিয়ে নিয়মমাফিক সব কিছুর আঞ্জাম দেয়ার চেষ্টা করবেন।