বাড়ছে সমুদ্র উপরিভাগের তাপমাত্রা, চরম বিপদের মুখে বাংলাদেশ

সিডর, আইলা, রোয়ানু কিংবা আম্ফান—একের পর ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে আ'ঘাত হেনেছে। বঙ্গোপসাগর উপকূলে গত ৬০ বছরে প্রায় ৪ গুণ বেড়েছে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা। প্রতিটি ঘূর্ণিঝড় স্বকী'য়তা নিয়েই এগিয়েছে। কোনোটা গতি বা জলোচ্ছ্বাসের দিক দিয়ে এগিয়ে ছিল, আবার অনেক ঘূর্ণিঝড় ব্যাপকত্বে।

সমুদ্রের পানির উপরিভাগের তাপমাত্রা বাড়ার কারণেই এসব দু'র্যোগের সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক এবং প্রাকৃতিক দু'র্যোগ গবেষক ড. বিশ্বজিৎ নাথ। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বার বার ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে উপমহাদেশের দেশগুলোকে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা বলছে, ১৭৯৭ থেকে ২০২০ পর্যন্ত ২২৩ বছরে বঙ্গোপসাগর উপকূলে আ'ঘাত হেনেছে ৭৮টি ঘূর্ণিঝড়। এর মধ্যে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত ১৮১ বছরে যেখানে ঘূর্ণিঝড় হয়েছিল ৩০টি এবং এর পরের ৬০ বছরে হয়েছে ৪৮টি।

গত এক বছরেই আ'ঘাত হেনেছে ৩টি ঘূর্ণিঝড়। সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি যার শক্তিও পৌছেঁছে ভ'য়াবহ মাত্রায়। যেমন- বুলবুল ও সর্বশেষ আম্ফান কতটা ক্ষতি করেছে তা সবারই জানা। এসব ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথে ছিল স্বকী'য়তা।

সমুদ্রের পানির উপরিভাগের তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস কিংবা তার বেশি থাকলে নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাপমাত্রা যত বাড়ে সমুদ্রের পানি ততই বাষ্পীভূত হয়। এতে করে নীচের স্তরে শূন্যস্থান তৈরি হয়।

প্রাকৃতিক দু'র্যোগ গবেষক ড. বিশ্বজিৎ নাথ বলেন, বঙ্গোপসাগরে এভা'রেজে তাপমাত্রা ২.৭ সেন্টি গ্রেড বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা একটা এলার্মিং বিষয়। আমাদের জন্য ভ'য়ংকর বিষয়।