জাতীয়

স্ট্রোকে মা’রা গেছেন বলে প্রচার, জানাজার পূর্বে গলায় মিলল দাগ

শ্বশুরবাড়ির পরিবার দাবি করে- বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে তাসলিমা আক্তার (২৮) স্ট্রোক করে মা’রা গেছেন। তবে জানাজার কিছু সময় পূর্বে তাসলিমা’র গলায় দাগ দেখতে পায় তার বাবার বাড়ির লোকেরা। মৃ’ত্যু নিয়ে র’হ’স্য সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় শুক্রবার স্বামীর বাড়ির লোকজন পালিয়ে গেলে পু’লিশ গিয়ে লা’শ উ’দ্ধা’র করে।

জানা যায়, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে উপজে’লার মগটুলা ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের আবদুস সালামের মে’য়ে তাসলিমা’র সঙ্গে অন্তত সাত বছর পূর্বে ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের চরপুবাইল (চকপাড়া) গ্রামের অলুম উদ্দিনের ছে’লে সোহেল মিয়ার (৩০) বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছে’লে ও মে’য়ে রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে তাসলিমা’র বাবার বাড়িতে খবর পাঠানো হয় তিনি (তাসলিমা) খুব অ’সুস্থ। দ্রুত পরিবারের লোকজন না গেলে জীবিত অবস্থায় দেখতে পাবে না। ওই অবস্থায় রাতেই পারিবারের লোকজন মে’য়ের বাড়িতে যায়। ততক্ষণে তাসলিমা মা’রা গেছেন বলে জানা যায়। এলাকায় প্রচার চালানো হয় স্ট্রোক করে মা’রা গেছেন তাসলিমা। এর মধ্যে শুক্রবার সকাল ১১টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করে সকল প্রস্তুতি শুরু করা হয়। কবর খুঁড়ে, বাঁশ কে’টে সব সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু ১০টার দিকে তাসলিমা’র ম’রদেহ গোসল করানোর সময় চাচী বেদেনা খাতুন দেখতে পান তাসলিমা’র গলায় দাগের চিহ্ন। ওই সময় তাসলিমা’র বাবার বাড়ির লোকেরা দাগ দেখে ফেলায় লা’শ রেখে সরে পরেন শ্বাশুড়ি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। ঘটনার খবর পেয়ে পু’লিশ যায় ঘটনাস্থলে।

নি’হ’তের ভাই মু’স্তাকীম মিয়া বলেন, ‘গত ৪ দিন আগেও তার বাড়িতে যায়। আমা’র বোনকে দুই লাখ টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিল সোহেল।’ তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তার বোনকে মে’রে স্ট্রোক করে মা’রা গেছে বলে জানায়। লা’শ ভালো’ভাবে দেখতেও দেওয়া হয়নি। কিন্তু লা’শ ধোয়ানোর আগে তারা গলায় দাগ দেখতে পায়।

নি’হ’তের মা বিলকিছ আক্তার বলেন, ‘আমা’র মা রে মাই’রা ফা’লছে। আমি এর বিচার চাই।’

নি’হ’তের শ্বাশুড়ি নুরুন নাহার বলেন, তার ছে’লে ও পুত্রবধূর মধ্যে কোনো সমস্যা ছিলো না। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে তার ছে’লে ডাকতে শুরু করলেও তাসলিমা’র ঘরের দরজা না খোলায় দরজা কে’টে ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁ’স দিয়ে ঝুলছে তাসলিমা।

এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে পু’লিশ লা’শ উ’দ্ধা’র করে থা’নায় নিয়ে আসে। আ’ট’ক করা হয় নি’হ’তের শ্বাশুড়ি নুরুন নাহারকে। সুরতহালে নি’হ’তের গলায় ও পেটে আ’ঘাতের চিহ্ন পেয়েছে পু’লিশ।

ঈশ্বরগঞ্জ থা’নার পু’লিশ পরিদর্শক (ত’দ’ন্ত) জহিরুল ই’স’লা’ম মুন্না বলেন, ধারণা করা হচ্ছে শ্বা’সরোধে গৃহবধূকে হ’ত্যা হয়েছে। পরে তড়িঘড়ি করে লা’শ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। খবর পেয়ে লা’শ উ’দ্ধা’র করে মৃ’ত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করার জন্য ময়নাত’দ’ন্তের জন্য লা’শ ম’র্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনা নি’হ’তের শ্বাশুড়িকে আ’ট’ক করা হয়েছে। মা’ম’লার প্রস্তুতি চলছে।

Back to top button