আইন

চিকিৎসক-পু’লিশের পাল্টাপাল্টি বিবৃতিতে হা’ই’কো’র্টের ক্ষোভ

চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট ও পু’লিশের বাগবিতণ্ডার ঘটনায় দুই পেশাজীবী সংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হা’ই’কো’র্ট। আ’দা’লত বলেছেন, ওই ঘটনায় সরকারি কর্মক’র্তা-কর্মচারীদের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেয়া সমীচীন হয়নি। তাদের এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। সরকারি কর্মক’র্তা-কর্মচারীদের কাছে এমন আচরণ কা’ম্য নয়। আজ মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) হা’ই’কো’র্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত ভা’র্চুয়াল বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন।

এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢাকার রাস্তায় ধারণ করা একটি ভিডিও ভাই’রাল হয়েছে। সর্বাত্মক লকডাউন চলাকালে রাজধানীতে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়ায় পু’লিশ সদস্য ও ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে রীতিমতো তুলকালাম কা’ণ্ড করেছেন এক না’রী চিকিৎসক। ভিডিওকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে ডাক্তার ও পু’লিশদের বাগযু’দ্ধ, যু’ক্তি-পাল্টাযু’ক্তি চলছে। কেউ কেউ দুষছেন চিকিৎসককে, কেউ কেউ পু’লিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট’কে, কেউবা আবার উভ’য়পক্ষের আচরণকেই দায়ী করছেন। বলছেন, এখানে উভ’য়পক্ষকেই সংযত হওয়া দরকার ছিল।

এরইমধ্যে ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পু’লিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ)। এ ঘটনায় দুই পক্ষই একে অ’পরকে দায়ী করে যথাযথ বিচার দাবি করে গণমাধ্যমে সংবাদ বি’জ্ঞ’প্তি পাঠিয়েছে। কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পু’লিশ সদস্যদের সঙ্গে ‘অ’পেশাদার এবং অ’পমানজনক’ আচরণ করে নিয়ম ভঙ্গ করার কারণে ওই চিকিৎসকের বিচার দাবি করেছে বাংলাদেশ পু’লিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। আর চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হ’য়’রানি ও নাজেহাল না করতে এবং গতকালের ঘটনায় দ্রুত ত’দ’ন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিভাগীয় শা’স্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ঢাকা মেট্রোপলিটন পু’লিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ই’স’লা’ম ও সাধারণ সম্পাদক নারায়ণগঞ্জ জে’লার পু’লিশ সুপার (এসপি) মোহাম্ম’দ জায়েদুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বি’জ্ঞ’প্তিতে বলা হয়, সংক্রমণ রোধে সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে চলমান কার্যক্রম হিসেবে গত রোববার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় মাঠ পর্যায়ে কর্ম’রত পু’লিশ সদস্যদের প্রতি অসদাচরণ হ’য়’রানি ও অসহযোগিতার কিছু চিত্র গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। যা বাংলাদেশ পু’লিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

ঘটনা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই স্থানে এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পু’লিশের উপস্থিতিতে চেকপোস্ট চলাকালে এক চিকিৎসককে (ডা. সাঈদা শওকত জেনি) তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরিচয়পত্র দেখাতে বললে, তিনি অ’ত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে কর্তব্যরতদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। যা একজন পেশাদার ও সচেতন নাগরিকের কাছ থেকে কোনোভাবেই কা’ম্য নয়। তিনি শুধু ওই পু’লিশ সদস্যদের এই অ’পমান করেননি গোটা পু’লিশ বাহিনীকে কটাক্ষ, হেয় প্রতিপন্ন করেছেন যা গণমাধ্যমে এসেছে। শুধু তাই নয়, তিনি নিজ পেশার পরিচয় বাদ দিয়ে অ’প্রাসঙ্গিক পরিচয় তুলে ধরে পু’লিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন এবং জাতির সামনে পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অ’পচেষ্টা করছেন।

সংবাদ বি’জ্ঞ’প্তিতে বলা হয়, গত ১৪ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা সেবাসহ অন্যান্য কার্যক্রমে জড়িত সব কর্মক’র্তা-কর্মচারীদের দাফতরিক পরিচয়পত্র আবশ্যিকভাবে ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও তিনি তা অমান্য করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তার পরিচয় না দিয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের আদেশ লঙ্ঘন করেছেন। উক্ত চিকিৎসক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পু’লিশ কর্মক’র্তাদের সঙ্গে বাদানুবাদকালে যে শব্দ প্রয়োগ করেছেন তা অ’ত্যন্ত অরুচিকর এবং লজ্জাজনক। এক পেশার সদস্য হয়ে আরেক পেশার কর্মক’র্তাদের উদ্দেশে তিনি কী ভাষা প্রয়োগ করেছেন তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়েছে। তিনি কর্তব্যরত পু’লিশ সদস্যদের ‘তুই’ বলে সম্বোধন করেছেন এবং ‘আর আমি কী সেটা এখন তোদের দেখাচ্ছি হারামজাদা’ বলে হু’মকি দিয়েছেন।

বি’জ্ঞ’প্তিতে বলা হয়, এই পর্যন্ত কর্তব্যরত অবস্থায় ৯১ পু’লিশ সদস্য ক’রো’নাভাই’রাসে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে মা’রা গেছেন। এছাড়া ২০ হাজারের বেশি পু’লিশ সদস্য ভাই’রাসটিতে আ’ক্রা’ন্ত হয়েছেন। পেশাগত বৈচিত্র্যের কারণে পু’লিশের এই চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব পালনকালে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ক’রো’নাকালে দেশের স্বার্থে ও মানুষের জীবন রক্ষার্থে ও ক’রো’নার বিভীষিকা থেকে মুক্তি পেতে পু’লিশের কাজে সবাই সহযোগিতা করবেন, এটা আমাদের প্রত্যাশা। এছাড়া বাংলাদেশ ক’রো’না মহামা’রি মোকাবিলায় এবং ক’রো’না আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় মেডিকেল সার্ভিসে নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের অব্যাহত কার্যক্রমের জন্য বাংলাদেশ পু’লিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সর্বদা কৃতজ্ঞ।

এতে আরও বলা হয়, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পু’লিশ সদস্যদের প্রতি ওই চিকিৎসকের অ’পেশাদার এবং অরুচিকর আচরণে বাংলাদেশ পু’লিশের প্রতিটি সদস্য অ’ত্যন্ত ম’র্মাহত। বাংলাদেশ পু’লিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। একজন গর্বিত পেশার সদস্য হয়ে অন্য একজন পেশাদার বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কটাক্ষ বা অসৌজন্যমূলক আচরণ কখনই কা’ম্য নয়। নিজ মন্ত্রণালয়ের বৈধ আদেশ লঙ্ঘন এবং কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পু’লিশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে ওই চিকিৎসকের বি’রু’দ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ পু’লিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জো’র দাবি জানাচ্ছে। পাশাপাশি ক’রো’না সংক্রমণ মোকাবিলায় সব শ্রেণি-পেশার লোকদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারি নির্দেশনা পালনে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।

এদিকে, সোমবার (১৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরীর স্বাক্ষরিত প্রেস বি’জ্ঞ’প্তিতে বলা হয়, আম’রা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, বৈশ্বিক মহামা’রি কোভিড-১৯ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশে চলমান লকডাউনকালীন সময়ে সম্মুখ সারির যে চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীগণ কর্মস্থলে যাতায়াতকালে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক হয়রানী ও নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এধরনের ঘটনা ঘটায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীগণ আতঙ্কগ্রস্থ ও হতাশ হয়ে পড়ছেন।

Back to top button