অপরাধ

যে কারণে আনভীরের বি’রু’দ্ধে আত্মহ’ত্যায় প্র’রো’চ’না মা’ম’লা নিয়েছে পু’লিশ

রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে তরুণী মোসারাত জাহান মুনিয়ার লা’শ উ’দ্ধা’রের ঘটনায় দায়ের করা মা’ম’লায় বসুন্ধ’রা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের হা’ই’কো’র্টে আগাম জামিন আবেদনের শুনানি আজ বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) হচ্ছে না। সেই সঙ্গে হা’ই’কো’র্টে অনির্দিষ্ট’কালের জন্য আগাম জামিন শুনানি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিন মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃ’ত্যুতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পু’লিশ স্বপ্রণোদিত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমা’র চক্রবর্তী। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। মুনিয়ার মৃ’ত্যুতে বড় ধরনের প্র’রো’চ’না আছে, এই আশ’ঙ্কা থেকেই মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃ’ত্যুর ঘটনায় আত্মহ’ত্যায় প্র’রো’চ’নার মা’ম’লা নেওয়া হয়েছে বলে জানান পু’লিশের এই কর্মক’র্তা।

আত্মহ’ত্যায় প্র’রো’চ’নার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে কি না, জানতে চাইলে সুদীপ কুমা’র চক্রবর্তী জানান, তারা ২০২০-২১ সাল পর্যন্ত লেখা ডায়েরি উ’দ্ধা’র করেছেন। ওই ডায়েরিতে ধারাবাহিকভাবে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত লিখেছেন মোসারাত। একটি পৃষ্ঠায় তিনি বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন বলে লিখেছেন। কিন্তু তাতে কোনো তারিখ ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, এটা তিনি লিখেছেন ২৬ এপ্রিল এবং এতে আত্মহ’ত্যার ইঙ্গিত ছিল।

ডায়েরির একটি জায়গায় মোসারাত তারিখ না দেওয়া পৃষ্ঠাগুলো পড়ার অনুরোধ করেছেন, কোনোভাবেই যেন ওই পৃষ্ঠাগুলো কেউ এড়িয়ে না যায় সে কথাও বলেছেন ৬টি ডায়েরিতেই মোসারাত তাদের স’ম্প’র্কের টানাপোড়েন নিয়ে লিখেছেন। তার মৃ’ত্যুর পর টাকা-পয়সার লেনদেনসংক্রান্ত একটি অডিও পাওয়া যায়। ওই অডিও পরীক্ষা-নিরীক্ষার আওতায় আনবে পু’লিশ।

মোসরাতের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আ’সা’মি প্রভাবশালী হওয়ায় তাকে গ্রে’প্তা’র করা হচ্ছে না। এ ব্যাপারে পু’লিশ কী মনে করে, জানতে চাওয়া হলে পু’লিশ উপ-কমিশনার বলেন, ফ্ল্যাট থেকে ম’রদেহ উ’দ্ধা’রের পর ভুক্তভোগী তরুণীর বোন পু’লিশকে জানানোয় উৎসাহী ছিলেন না, তারা মা’ম’লা করতেও অ’তটা ইচ্ছুক ছিলেন না। বাড়ির মালিক পু’লিশকে জানান। গুলশানের সেই ফ্ল্যাটে গিয়ে দেয়ালে টাঙানো মোসরাতের সঙ্গে আনভীরের ছবি দেখা যায় এবং কয়েকটি ডায়েরি পায় পু’লিশ।

ডায়েরিগুলোয় ‘সুই’সা’ইডাল নোটের’ মতো অনেক কিছু লেখা। এসব দেখে পু’লিশ অনুমান করে, একজন প্রতিশ্রুতিশীল তরুণী মাত্র ২১ বছর বয়সে কোনো কারণ বা প্র’রো’চ’না ছাড়া আত্মহ’ত্যা করতে পারে না। সে রাতেই পু’লিশ যা যা তথ্য সংগ্রহ করার দরকার, তার সব সংগ্রহ করে এবং তাৎক্ষণিক সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মা’ম’লা হয়। ওই রাতে তিনিসহ, গুলশান বিভাগের অ’তিরিক্ত উপ-কমিশনার, সহকারী কমিশনার, গুলশান থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তাসহ (ওসি) সব কর্মক’র্তা ঘটনাস্থলে ছিলেন। এই মা’ম’লায় যেন ন্যায়বিচার হয়, সে ব্যাপারে শুরু থেকেই পু’লিশ উদ্যোগী ছিল।

আ’সা’মি কোথায় জানতে চাইলে উপ-কমিশনার বলেন, অ’ভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আ’সা’মি বাংলাদেশে আছেন। তিনি দুটি পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশত্যাগের কোনো রেকর্ড নেই।

এর আগে ২৬ এপ্রিল গুলশানের একটি ভাড়া বাসা থেকে মোসারাতের ঝুলন্ত ম’রদেহ উ’দ্ধা’র করা হয়। পরে পু’লিশ এসে তাকে নামায় ও বিছানায় শুইয়ে দেয়। বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে বলে মোসারাত তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন। এই ঘটনায় ওই রাতেই মোসারাতের বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে বসুন্ধ’রার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে আ’সা’মি করে আত্মহ’ত্যায় প্ররোচণার মা’ম’লা করেন।

Back to top button