জাতীয়

‘ক’রো’নার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় যু’দ্ধকালীন প্রস্তুতি নিতে হবে’

ক’রো’নার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় যু’দ্ধকালীন প্রস্তুতি নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় সংক্রান্ত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তারা এমন মন্তব্য করেছেন।

শনিবার (৮ মে) ‘স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয়: ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবনা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আলোচনায় আগামী বাজেটের সুপারিশে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড.আতিউর রহমান বলেন, আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৭ থেকে ৮ শতাংশ বরাদ্দ প্রয়োজন। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সময়ে তা ১০ থেকে ১৩ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। উন্নয়ন বাজেটের বাস্তবায়ন ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।

বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এ গভর্নর বলেন, অর্থের অঙ্কটা ৭ থেকে ৮ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।

বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন সমন্বয় ও বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ শনিবার যৌথভাবে ওয়েবিনারটির আয়োজন করে।

এতে প্রধান অ’তিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আ ফ ম রুহুল হক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় অধ্যাপক শাহেলা খাতুন, সংসদ সদস্য শিরীন আখতার ও ডা. হাবিবে মিল্লাত।

মূল প্রবন্ধে উন্নয়ন সমন্বয়ের সভাপতি ও সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, ‘ব্যক্তি ও সরকারি মিলিয়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতে মোট বিনিয়োগ জিডিপির মাত্র ২ দশমিক ৩৪ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন। এ অঞ্চলের গড় বিনিয়োগ ৫ দশমিক ১ শতাংশ। একই সঙ্গে জনগণপ্রতি মা’থাপিছু ব্যয়ও এ অঞ্চলে সর্বনিম্ন। এশিয়ায় গড় ব্যয় যেখানে ৪০১ ডলার, বাংলাদেশে তা ১১০ ডলার।

তিনি বলেন, বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে যে বরাদ্দ পাওয়া যায় তার ৬১ শতাংশই পরিচালন ব্যয়ে চলে যায়। উন্নয়ন খাতে থাকে মাত্র ৩৯ শতাংশ। আবার গড়ে উন্নয়ন ব্যয়ের ২৪ শতাংশ বছর শেষে খরচ হয় না। আগামী বাজেটের সুপারিশে আতিউর রহমান বলেন, আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৭ থেকে ৮ শতাংশ বরাদ্দ প্রয়োজন। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সময়ে তা ১০ থেকে ১৩ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। উন্নয়ন বাজেটের বাস্তবায়ন ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।

দরিদ্রদের ওপর স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ কমাতে আগামী বাজেটে বিনা মূল্যে বা ভর্তুকি মূল্যে ওষুধে বরাদ্দ বাড়ানোর ওপর জো’র দেন আতিউর। পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ৩০ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে বলেন।

প্রধান অ’তিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, সীমাবদ্ধতা রয়েছে, বিনিয়োগ কম। তাই আয় ও ব্যয়ের অগ্রাধিকার চিহ্নিত করতে হবে।

Back to top button