জেলার খবর

ইফতারীতে বরের জন্য সাজানো আলাদা থালা না থাকায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী’কে হ’ত্যা !

সিলেটের ওসমানীনগরে গৃহবধুর পিত্রালয় থেকে পাঠানো ইফতারীতে বরের জন্য আলাদা করে সাজানো থালা না থাকায় সৃষ্ট পারিবারিক ঝগড়াসহ ঈদে নতুন কাপড় না পাওয়ায় বিয়ের ৯ মাসের মধ্যে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধুকে হ’ত্যার অ’ভিযোগ উঠেছে। থা’নার অফিসার ইন-চার্জ শ্যামল বনিকের নেতৃত্বে তাৎক্ষনিক অ’ভিযান চালিয়ে নি’হ’তের স্বামী আরশ আলী ও শাশুড়ি মিনারা বেগমকে আ’ট’ক করেছে পু’লিশ। নি’হ’ত শরিফা বেগম (২০) নবীগঞ্জ উপজে’লার পি’টুয়া গ্রামের শাকিম উল্যার ছোট মে’য়ে।

তবে থা’নায় আ’ট’ককৃত স্বামী ও শাশুড়ির দাবি পরিবারের সবার অজান্তে শরিফা আত্মহ’ত্যা করে মৃ’ত্যু বরন করেছে। যদিও গতকাল শনিবার (৮ মে) দুপুরে পু’লিশ তার স্বামীর বাড়ি নিজ ঘরের বিছানা থেকে নববধূর লা’শ উ’দ্ধা’র করে। নি’হ’তের শরীরে একাধিক আ’ঘাতের চিহ্ন থাকায় এ ব্যাপারে দুইজনকে আ’ট’ক দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে মা’ম’লা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে সূত্র জানায়।

স্থানীয় ও পু’লিশ সূত্রে জানা, প্রায় ৯ মাস আগে উপজে’লার উসমানপুর ইউনিয়নের তাহিরপুর গ্রামের মৃ’ত ইছন আলীর পুত্র আরশ আলীর সাথে পারিবারিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন নবীগঞ্জ উপজে’লার পুটিয়া গ্রামের শাকিম উল্যার ছোট মে’য়ে শরিফা।

বিয়ের কিছু দিন পর যৌতুক সহ নানা অজুহাতে স্বামী আরশ আলী ও শাশুড়ি মিনারা বেগমের নি’র্যা’তন বৃদ্ধি পেতে থাকে। নিজে অন্তঃসত্ত্বা থাকায় তাদের নি’র্যা’তন সহ্য করে গর্ভের সন্তানের আলোর মুখ দেখাতে তাদের সকল নি’র্যা’তন সহ্য করেই স্বামীর বাড়িতে পরে থাকেন শরিফা।

চলতি রমজান মাসে তার পিত্রালয় থেকে ইফতারি দিতে দেরি করায় এবং ইফতারির সাথে বরের জন্য আলাদা ভাবে সাজানো থালা না দেয়ায় অন্তঃসত্ত্বা শরিফার ওপর নি’র্যা’তনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় শরিফার পিত্রালয় থেকে স্বামীর বাড়ির লোকজনের জন্য ঈদের নতুন কাপর না আসাকে কেন্দ্র করে শাশুড়ির সাথে কথা কা’টাকাটির জের ধরে আরশ আলীও মিনারা বেগম মিলে মা’রপিট করেন শরিফাকে। বিষয়টি তাৎক্ষনিক মোবাইলফোনের মাধ্যমে শরিফা তার ভাইকে অবগত করে পরে কথা বলবে বলে ফোন রেখে দেন।এমতাবস্থায় সেহরির সময়ে শরিফার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পান তার ভাই-বোনরা।

গতকাল শনিবার বড় বোন শিপন আক্তার শরিফার স্বামী শাশুড়ির জন্য নতুন কাপড় নিয়ে আরশ আলীর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেই পথিমধ্যে শরিফার ভাশুরের মাধ্যমে খবর পান তার বোন খুবই অ’সুস্থ। এর কিছুক্ষণের মধ্যে আবার খবর আসে শরিফা আত্মহ’ত্যা করে মৃ’ত্যুবরণ করছে।

খবর পেয়ে দুপুরে থা’না পু’লিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শরিফার শরিলে একাধিক আ’ঘাতের চিন্থ থাকা অবস্থায় তার লা’শ উ’দ্ধা’র করে ময়না ত’দ’ন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লের ম’র্গে প্রেরণ করে।

নি’হ’তের বড় বোন শিপন আক্তার ও ভাই মিনার হোসেন বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমা’র বোনের ওপর তার স্বামী ও শাশুড়ি যৌতুকসহ নানা অজুহাতে নি’র্যা’তন করতো। তাদের নি’র্যা’তনের কারনে আম’রা তাকে নিয়ে যেতে চাইলেও গর্বের সন্তানের অ’ভিষ্যৎতের কথা চিন্তা করে আমা’র বোন সব কিছু নিরবে সহ্য করে যেত। আম’রা গরিব মানুষ লকডাউনের কারনে অভাব-অনটনে চলতি রমজান মাসে ইফতারি পাঠাতে দেরি ও আরশ আলীর জন্য আলাদা করে সাজানো থালা না দেয়ায় তার স্বামী ও শাশুড়ি শরিফাকে নানা ভাবে নি’র্যা’তন করে।

সর্বশেষ নতুন কাপড় পাঠাতে দেরি করায় তারা আমা’র বোনকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিয়ে তার গর্ভের সন্তানটিকেও আলোর মুখ দেখতে দিলো না। ঘা’ত’কদের দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তির বিষয়ে প্রশাসনের উর্ধ্ধতন কর্মক’র্তাদের হস্তক্ষেপ কা’মনা করেন তারা।

ওসমানীগর থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা(ওসি) শ্যামল বনিক বলেন, খবর পেয়ে লা’শ উ’দ্ধা’র করে ম’র্গে প্রেরণ করা হয়েছে। লা’শের গায়ে একাধিক আ’ঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নি’হ’তের স্বামী ও শাশুড়িকে আ’ট’ক করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মা’ম’লা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।

Back to top button