জেলার খবর

মা-বাবা-বোনকে হ’ত্যার পর ৯৯৯- এ ফোন দিয়ে যা বলেন মেহ’জাবিন

বাবা, মা ও বোনকে হ’ত্যার পর ৯৯৯-এ ফোন দিয়েছিলেন ঘা’ত’ক মেহ’জাবিন ই’স’লা’ম মুন। এরপর পু’লিশকে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। অন্যথায় স্বামী ও সন্তানকেও মে’রে ফেলার হু’মকি দেন।

ওয়ারী জোনের ডিসি ইফতেখারুল ই’স’লা’ম যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মেহ’জাবিন হ’ত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে ফোন দেয়। পু’লিশ দ্রুত না গেলে তার স্বামী ও সন্তানকে মে’রে ফেলার হু’মকি দেয় সে। পরে পু’লিশ গিয়ে লা’শ উ’দ্ধা’র করে। এ ঘটনায় তাকে আ’ট’ক করা হয়েছে।

ইফতেখারুল ই’স’লা’ম বলেন, সঠিক সময়ে ঘটনাস্থলে না গেলে দ্বিতীয় স্বামী শফিকুল ই’স’লা’ম ও আগের ঘরের মে’য়ে তৃপ্তিয়াকে হয় তো মে’রে ফেলতেন তিন খু’নে অ’ভিযু’ক্ত মেহ’জাবিন।

পু’লিশ জানিয়েছে, রাতে বাবা-মা ও বোনকে হ’ত্যা করেন মেহ’জাবিন। এরপর সকাল ৮টার দিকে ৯৯৯-এ ফোন করেন তিনি। এ সময় তিনি জানান, পু’লিশ দ্রুত না আসলে স্বামী ও সন্তানকে তিনি মে’রে ফেলবেন।

এরপর পু’লিশ ঘটনাস্থলে এসে তিনজনের লা’শ উ’দ্ধা’র করে। আর আ’হত অবস্থায় তার স্বামী ও মে’য়েকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে পাঠায়।

শনিবার সকালে কদমতলীর মুরাদপুর এলাকার ২৮, লালমিয়া সরকার রোডের ছয় তলা বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে মেহ’জাবিনের মা মৌসুমী ই’স’লা’ম (৪০) বাবা মাসুদ রানা (৫০) ও বোন জান্নাতুলের (২০) লা’শ উ’দ্ধা’র করা হয়।

পু’লিশ জানিয়েছে, রাতে পরিবারের সবাইকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান মেহ’জাবিন। সবাই অচেতন হয়ে পড়লে মা-বাবা ও বোনকে রশি দিয়ে বেঁধে শ্বা’সরোধ করে হ’ত্যা করেন। স্বামী ও শি’শু সন্তানকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল। তবে তারা অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন।

কদমতলী থা’নার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আম’রা ম’রদেহগুলো হাত পা বাঁ’ধা অবস্থায় পেয়েছি। গতকালকে রাতে তাদের হ’ত্যা করা হয়েছে। হ’ত্যা করেছে তাদেরই আরেক মে’য়ে। সেই মে’য়েকে আ’ট’ক করা হয়েছে।’

এদিকে নি’হ’তের স্বজনরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ কেরানিগঞ্জে মেহ’জাবিনের প্রথম বিয়ে হয়েছিল। সেই স্বামীকে খু’নে দায়ে তার জে’ল হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে আর বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি তারা।

ঘা’ত’কের চাচাতো বোন শিলা যুগান্তরকে বলেন, মেহ’জাবিন তার পরিবারের সবাইকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল। সে তার আগের ঘরের স্বামীকেও খু’ন করেছিল। সেই মা’ম’লায় মেহ’জাবিনসহ তার নি’হ’ত বাবা-মা ও বোনের জে’ল হয়েছিল। পাঁচ বছর জে’ল খেটে তারা জামিনে ছাড়া পায়।

তিনি আরও বলেন, গত দুদিন আগে স্বামী সন্তানকে নিয়ে মায়ের বাড়িতে বেড়াতে আসে মেহ’জাবিন। এসেই তার ছোট বোনের জান্নাতুলের সঙ্গে তার স্বামীর প’র’কীয়া রয়েছে বলে বাবা-মাকে অ’ভিযোগ করে। এ নিয়ে অনেক কথা কা’টাকাটি হয়। তার জেরেই হয়তো এ হ’ত্যাকা’ণ্ড ঘটিয়েছে।

এছাড়া প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, জায়গা সম্পত্তি নিয়েও পরিবারের সঙ্গে বিরোধ ছিল মেহ’জাবিনের। সম্পত্তি লিখে দেয়ার জন্য বাবা-মাকে অনেক চাপ দিত। এ নিয়ে এর আগে বৈঠক শালিস হয়েছে।

হাসপাতা’লে চিকিৎসাধীন শফিকুল যুগান্তরকে বলেন, শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছিলাম। গতকাল রাতে খাবার ও চা খেয়ে অ’সুস্থ হয়ে পড়ি। আমা’র মে’য়েও অচেতন হয়ে যায়।

Back to top button