রাজনীতি

নতুন ষড়যন্ত্রে সুশীল সমাজ

যু’ক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেনকে মানবাধিকার ইস্যুতে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই বলেছেন যে, এই সমস্ত প্রশ্নগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেছেন, কোনো কোনো মহল বাংলাদেশ স’ম্প’র্কে অসত্য, মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্রিটিশ সরকারকে বি’ভ্রান্ত করতে চাইছে। শুধু যু’ক্তরাজ্য নয় মা’র্কিন কংগ্রেসেও বাংলাদেশের তথাকথিত গু’ম নিয়ে অ’ভিযোগ করা হয়েছে এবং এই অ’ভিযোগের বিষয়টিও বাংলাদেশের একটি মহল কর্তৃক উদ্ভাবিত এবং তারাই মা’র্কিন যু’ক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বি’রু’দ্ধে কুৎসা রটনা করছে বলে অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের বিচারবহির্ভূত হ’ত্যাকা’ণ্ড গু’ম ইত্যাদি নিয়ে অ’ভিযোগ করা হয়েছে। এই অ’ভিযোগটির পিছনেও রয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার একটি পরিক’ল্পি’ত ষড়যন্ত্র।

শুধু এসবই নয় বাংলাদেশর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার’, ‘রিপোর্টার্স সান ফ্রন্টের’ সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংস্থাকে অ’ভিযোগ করা হয়েছে এবং এই সমস্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের বি’রু’দ্ধে নানারকম প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন করা হচ্ছে বাংলাদেশের বি’রু’দ্ধে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ইত্যাদি বিষয়ে বিশদগাড় করার জন্য। আর এই সমস্ত কাজগুলো করছে বাংলাদেশের একটি সংঘবদ্ধচক্র যারা দেশের সুশীল সমাজ হিসেবে পরিচিত। লক্ষণীয় ব্যাপার হল যে ডেইলিস্টার, প্রথম আলো বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের মানবাধিকার ইস্যু, ডিজিটাল নিরাপত্তা ইস্যু ইত্যাদি নিয়ে কথা বলে। এই কথাগু’লি যাচ্ছে যু’ক্তরাজ্য, যু’ক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থায়। আর এই কাজগুলো করা হচ্ছে পরিক’ল্পি’তভাবে আওয়ামী লীগ সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য।

বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, সুশীল সমাজ এখন দেশের বাইরে এ ধরনের তৎপরতা সঙ্গে জড়িত, এটি তারা করছে পরিক’ল্পি’তভাবে। প্রথমে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে একটি প্রত্যেহ রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে সেই রিপোর্টটিকে এনজিওদের দ্বারা বিদেশে পাঠানো হচ্ছে এবং সেটিকে বাংলাদেশের বি’রু’দ্ধে অ’স্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যারা বাংলাদেশে ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলব ছিল সেসকল গোষ্ঠী তৎপরতার সঙ্গে জড়িত। যু’ক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠকের যে মানবাধিকার ইস্যুগুলো তুলে ধ’রা হয়েছিল সেই মানবাধিকার ইস্যুগুলোর ৮০ শতাংশই ছিল প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম দুজনই ওয়ান-ইলেভেনের মাইনাস ফর্মুলা অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন। এই সমস্ত প্রতিবেদনগুলো তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি হচ্ছে এবং এগুলো বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। মাহফুজ আনাম এবং মতিউর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন ড. মোহাম্ম’দ ইউনূস। শান্তিতে নোবেল পাওয়ার কারণে তারা আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, এই গ্রহণযোগ্যতা কারণে তিনি বাংলাদেশের বি’রু’দ্ধে বিষোদগার করা একটি পরিক’ল্পি’ত মিশনে নেমেছেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন না করার জন্য ড. মোহাম্ম’দ ইউনূস এর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। এখন মা’র্কিন যু’ক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন ফোরামে তিনি বাংলাদেশে বিরোধী প্রচারণা কে উস্কে দিচ্ছেন। ফলে বাংলাদেশ স’ম্প’র্কে একটি নেতিবাচক ধারণা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে তৈরি হচ্ছে। সুশীলদের লক্ষ্য হলো দুটি একটি, বাংলাদেশ বিরোধী একটি পরিক’ল্পি’ত প্রচারণা করা অন্যদিকে সাইবার যু’দ্ধে স্বাধীনতা বিরোধী যু’দ্ধাপরাধীদের শক্তিকে ম’দদ দেওয়া। যাতে তারা যেন সরকারের বি’রু’দ্ধে লাগাতার মিথ্যা অসত্য ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করতে পারে। আর সুশীল সমাজের এই সক্রিয়তা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন একটি মেরুকরণ তৈরি করছে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Back to top button