ইসলাম ও জীবন

জান্নাত লাভের প্রধান শর্ত আল্লাহর প্রতি বিশ্বা’স

জান্নাত জাহান্নাম লাভ নির্ভর করে জীবদ্দশায় মানুষের কর্মের উপর। কর্মগুণে কেউ বাস করবে জান্নাতের শীতল ছায়ায়। আবার মন্দ কর্মের কারণে অনেক মানুষকে থাকতে হবে জাহান্নামের আ’গু’নের মধ্যে। মানুষের জান্নাতে যাওয়ার পথে যেসব কাজ প্রধান অন্তরায় সেসব কাজের বিবরণ তুলে ধরেছেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.), যা প্রত্যেক ঈ’মানদার মুমিন মু’সলমানের এড়িয়ে চলা উচিত।

সেগুলো হলো:

আল্লাহকে অবিশ্বা’স করা
জান্নাত লাভের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বা’স স্থাপন করা। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ঈ’মানদার ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (বুখারি ও মু’সলিম) তিনি আরও বলেন, ‘ঈ’মান না আনা পর্যন্ত তোম’রা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেন না’ (মু’সলিম)

প্রতিবেশীর প্রতি সদয় না হওয়া
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।’ (মু’সলিম)

অহংকারী ব্যক্তি
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার রয়েছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (মু’সলিম)

পরনিন্দাকারী ও চোগলখোর ব্যক্তি
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘চোগলখোর বা পরনিন্দাকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (মু’সলিম) তিনি আরও বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন সবচেয়ে খা’রা’প লোকদের দলভুক্ত হিসেবে ঐ ব্যক্তিকে দেখতে পাবে যে, যে ছিল দুমুখো- যে এক জনের কাছে এক কথা আরেক জনের কাছে ভিন্ন কথা নিয়ে হাজির হতো।’(মু’সলিম)

আত্মহ’ত্যাকারী
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহ’ত্যা করবে, সে জাহান্নামে যাবে। সেখানে (পরকালে) সব সময় সে ওইভাবে (দুনিয়ার মতো) নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে অনন্তকাল ধরে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহ’ত্যা করবে, সে বিষ তার হাতে থাকবে। জাহান্নামে সব সময় ওইভাবে সে বিষ পাণ করে নিজেকে মা’রতে থাকবে অনন্তকাল ধরে। যে ব্যক্তি কোনো ধারালো অ’স্ত্র দ্বারা আত্মহ’ত্যা করেছে তার কাছে জাহান্নামে সে ধারালো অ’স্ত্র থাকবে, যার দ্বারা সে সব সময় সর্বদা নিজের পেট’কে ফুঁড়তে থাকবে।’ (বুখারি ও মু’সলিম)

আত্মীয়তার স’ম্প’র্ক ছিন্নকারী
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আত্মীয়তার স’ম্প’র্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (মু’সলিম)

হারাম ভক্ষণকারী
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হারাম অর্থের মাধ্যমে (যে শরীরে) মাংস বৃদ্ধি পেয়েছে, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। অর্থাৎ যে ব্যক্তি হারাম অর্থ ও অ’বৈ’ধ উপার্জন দ্বারা দেহ গঠন (জীবিকা নির্বাহ) করেছে, জাহান্নামের আ’গু’নই তার প্রাপ্য।’ (মিশকাত)

উপকার করে খোটা দেয়া
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যে উপকার করে খোটা দেয়।’ (নাসাঈ)

তাকদির (ভাগ্য) অস্বীকারকারী ও অবাধ্য সন্তান
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, ম’দ্যপায়ী এবং তাকদিরের প্রতি অস্বীকারকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সিলসিলা)

জ্যোতিষ, জাদুকর, মা’দ’ক তথা নে’শাকারী
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘৫ শ্রেণির মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (তারা হলো) ম’দ্যপায়ী, যাদুর বৈধতায় বিশ্বা’সী, আত্মীয়তার স’ম্প’র্ক ছিন্নকারী, চোগলখোর এবং গণক তথা জ্যোতিশ ব্যক্তি।’ (মু’সনাদে আহম’দ)

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি
রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে কোনো ঋণগ্রস্ত মৃ’তের লা’শ (জানাজার জন্য) নিয়ে আসা হলে (তিনি) জিজ্ঞাসা করতেন, ‘সে ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করেছে কি না? যদি বলা হতো করেছে, তবে জানাজা পড়তেন। অন্যথায় (সাহাবীদেরকে) বলতেন- তোম’রা তোমাদের সাথীর জানাজা পড়ে নাও।’ (কিন্তু তিনি নিজে তাতে অংশ গ্রহণ করতেন না)। (মু’সলিম)
অন্য হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘ঋণ ছাড়া শহিদের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।’ (মু’সলিম)

পুরুষ বেশধারী না’রী ও দাইয়ুস
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘৩ শ্রেণির লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তারা হলো- ‘পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, দাইয়ূস এবং পুরুষ বেশধারী না’রী।’ (সহিহ জামে) অন্য হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তিকে দাইয়ুস বলা হয়, যে তার পরিবারের অশ্লীলতা ও কুকর্মকে মেনে নেয়।’ (মু’সনাদ আহম’দ, নাসাঈ)

ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক, অহংকারী গরিব
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহ ৩ শ্রেণির লোকের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদেরকে গোনাহ থেকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে য’ন্ত্র’ণাদায়ক শা’স্তি। তারা হলো- ‘বৃদ্ধ ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক এবং অহংকারী গরিব।’ (মু’সলিম)

কঠোরতা অবলম্বকারী ও কটূভাষী ব্যক্তি
যে ব্যক্তি মানুষের কাছে এমন বিষয় নিয়ে গর্ব-অহংকার করে বেড়ায়; প্রকৃতপক্ষে যা তার কাছে নেই। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কঠোর প্রকৃতি ও কটুভাষী লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং ওই লোকও নয়, যে এমন সব বিষয়ে মানুষের কাছে গর্ব-অহংকার প্রকাশ করে বেড়ায় প্রকৃতপক্ষে যা তার কাছে নেই।’ (আবু দাউদ)

Back to top button