রাজনীতি

তারেকের চাপেই লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে লন্ডনে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। সেই সময় জিয়া এতিমখানা দু’র্নী’তি মা’ম’লার বিচার চূড়ান্ত হয়েছিলো, রায় অ’পেক্ষায় ছিল। সে সময় বিএনপি নেতারা বেগম খালেদা জিয়াকে পরাম’র্শ দিয়েছিলেন যে, তিনি যেন এখন দেশে না ফেরেন। রায় দেয়ার পর পরিস্থিতি বুঝে যেন তিনি দেশে ফেরেন। বেগম খালেদা জিয়াও এই রকমই মনস্থির করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রায়ের জন্য যে নির্ধারিত তারিখ সেই রায়টি দেখে তারপর তিনি দেশে ফিরবেন। বেগম খালেদা জিয়ার একটা অজানা আশংকা ছিল যে, এই রায়ে তিনি দ’ণ্ডিত হবেন এবং তাকে কারাগারে যেতে হবে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়াকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন লন্ডনে পলাতক তার পুত্র বিএনপির ভা’রপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া।

তারেক জিয়া আসলে লক্ষ্য ছিল বিএনপিকে কুক্ষিগত করা। তিনি জানতেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রে’প্তা’র করা হতে পারে। এমনকি এটিও তিনি জানতেন যে, আওয়ামী লীগ সভাপতির যে সাহস এবং দৃঢ়তা তাতে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি বিন্দুমাত্র কোন সহানুভূতি দেখানো হবে না। আ’দা’লতের রায় যা হবে সেটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিপালন করবেন। এতকিছু জানার পরও বেগম খালেদা জিয়াকে সেদিন পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। বিএনপির একজন নেতা আজ আলাপচারিতায় বলেছিলেন, সেদিন যদি বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডন থেকে দেশে না পাঠানো হতো তাহলে হয়তো তার পরিণতি আজ এরকম হতো না। সে সময়ে রায়ের আগ দিয়ে বেগম জিয়া লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন এবং তারপর যা ঘটেছে সেটি তো ইতিহাস।

সেই সময় বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনে গিয়েছিলেন চিকিৎসা করার জন্য। তার চোখের অ’পারেশন হয়েছিল এবং আরো কিছু চিকিৎসা ছিল। চিকিৎসকরা তাকে আরও দু’মাস পর্যবেক্ষণে রাখার কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন যে, তাকে যে ওষুধগুলো দেওয়া হচ্ছে এবং এর ফলে তার শা’রীরিক অবস্থার কি উন্নতি হলো সেটি তারা পর্যবেক্ষণ করতে চান। এই সময় বেগম জিয়ার অ’তিরিক্ত র’ক্তচাপ ছিল, আর্থ্রাইটিসের সমস্যা ছিল এবং অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ছিল। কিন্তু তারেক জিয়া বেগম খালেদা জিয়াকে ভ’য় দেখান যে যদি বেগম জিয়া দেশে না যান তাহলে হয়তো তিনি আর কোনদিন ফিরতে পারবেন না। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে বেগম জিয়া তখন এ কথাও বলেছিলেন যে, তার সবকিছুই এখানে। দুই ছে’লে, ছে’লেদের সন্তানরা লন্ডনে, সেখানে একাকী তিনি দেশে যেয়ে কি করবেন?

কিন্তু তারেক জিয়া তার কথা শুনেননি। বিএনপির অনেক নেতাই মনে করেন তারেক জিয়া সম্ভবত ধারণা করেছিলেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রে’প্তা’র করার পর একটা গণবি’স্ফোরণ হবে, লোকজন রাস্তায় নেমে আসবে এবং এর ফলে তার দেশে ফেরার পথ সুগম হবে। অর্থাৎ বেগম খালেদা জিয়াকে তিনি জি’ম্মি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার উপর সরকার কি আচরণ করে সেটা দেখেই তিনি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিল। অবশ্য বিএনপির কোন কোন নেতারা মনে করেন যে, তারেক জিয়া আসলে চেয়েছিলেন যে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি থেকে সরে যাক এবং এর দায়-দায়িত্ব সরকারের উপর বর্তাক। তাহলেই বিএনপিকে তিনি পুরোপুরি কুক্ষিগত করবেন।

২০০৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া গ্রে’প্তা’র হওয়ার পর কার্যত বিএনপির কর্তৃত্ব তারেকের হাতে চলে আসে। সেখান থেকে বেগম খালেদা জিয়া তার হা’রা’নো সাম্রাজ্য আর ফিরে পাননি। এখন বিএনপিতে তিনি নামমাত্র চেয়ারপার্সন। দল পরিচালনা করছেন তারেক জিয়া। তাহলে কি তারেক জিয়ার ষড়যন্ত্রের কারণে খালেদা জিয়ার আজকের এই পরিণতি? বিএনপির অনেক নেতাই ক্ষোভে এই কথাগুলো বলছেন। কারণ তারা মনে করছেন, বেগম খালেদা জিয়ার এই পরিণতির জন্য তারেকই সবচেয়ে বেশি দায়ী।

Back to top button