জাতীয়

রাজমিস্ত্রির হাতে খু’ন হয়েছেন নিঃসঙ্গ ঢাবি শিক্ষক!

গাজীপুরের কাশেমপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষকদের হাউজিং প্রকল্পের ভেতর নিজের বাড়ির কাজ দেখতে পাশেই একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়টির পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সাইদা খালেক। বাড়ির নির্মাণকাজ দেখতে গিয়ে ‘রাজমিস্ত্রির হাতে’ প্রা’ণ গেছে তার।

প্রতিদিন সকালে অধ্যাপক সাইদা খালেক তার একটি বিদেশি কুকুর সঙ্গে নিয়ে হাউজিংয়ে ভেতরে গিয়ে নিজের বাড়ির কাজ দেখাশোনা করতেন এবং নির্মাণ শ্রমিকদের টাকা দিয়ে সন্ধ্যার দিকে আবার ভাড়া বাসায় আসতেন।এভাবেই অধ্যাপক সাইদা খালেকের প্রতিদিনের রুটিন কাজ চলছিল বলে জানিয়েছেন হাউজিংটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিকিউরিটি ইনচার্জ জয়নাল আবেদীন।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাজীপুরের কাশেমপুর থা’নার পানিশাইল এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাউজিং প্রকল্পে গিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে।সিকিউরিটি ইনচার্জ জয়নাল আবেদীন বাংলানিউজকে বলেন, বাড়ির কাজ দেখার জন্য পাশেই ‘ভাই ভাই ভিলা’ নামের একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। অধ্যাপক সাইদা খালেক একটি বিদেশি কুকুর নিয়ে প্রতিদিন সকালে এসে বাড়ির নির্মাণকাজ দেখতেন। তার সঙ্গে এখানে কেউ থাকতেন না। প্রায় সময় তার নাতি আসত, এছাড়া আর কেউ না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এই হাউজিংয়ে প্রায় পাঁচটি বাড়ি আছে। আম’রা ৯ জন সিকিউরিটি এই হাউজিংয়ের দেখাশোনা করি। একেক সিফটে তিনজন করে ডিউটি করি। সেদিনের কিছু আমি বলতে পারব না। তবে আজ সকালে পু’লিশ আসে অধ্যাপক সাইদা খালেকের বাড়ি দেখতে। পরে হাউজিংয়ের ভেতরে একটি রাস্তার পাশে তার ম’রদেহ দেখতে পায়। তার গলায় একটা ওড়না পেঁচানো ছিল। পরে পু’লিশ তার ম’রদেহ নিয়ে যায়।

হাউজিংটির ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে একটি নির্জন স্থানে তাকে মে’রে ফেলে রাখা হয়। সেই স্থানে পু’লিশ চিহ্ন করে রেখেছে। তার নির্মাণাধীন বাড়ির কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন বাড়িটির সীমানা প্রাচীরের কাজ চলছে।

এ বিষয়ে ‘ভাই ভাই ভিলা’ বাড়ির মালিক মোশারফ হোসেন মৃধা বাংলানিউজকে বলেন, অধ্যাপক সাইদা খালেকের এক ছে’লে ও তিন মে’য়ে। তিন মে’য়ের দুজন অস্ট্রেলিয়ায় এবং একজন ঢাকায় থাকেন। একমাত্র ছে’লে ঢাকা ব্যাংকে চাকরি করেন। আট-নয় মাস আগে আমা’র বাসায় তিন রুমের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন তার ছে’লের স্ত্রী’কে সঙ্গে নিয়ে। আমি আজ শুনি তিনি মা’রা গেছেন। তার সব কিছু এখানেই আছে।কাশিমপুর থা’নার উপপরিদর্শক (এসআই) দীপঙ্কর রয় শুক্রবার গাইবান্ধা থেকে ওই বাড়ির নির্মাণশ্রমিক (রাজমিস্ত্রি) আনোয়ারুল ই’স’লা’মকে আ’ট’ক করেছে।

দীপঙ্কর রয় বাংলানিউজকে বলেন, নি’খোঁ’জের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) কাশেমপুর থা’নায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। জিডি সূত্র ধরে আনোয়ারুলকে গাইবান্ধা গিয়ে আ’ট’ক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাসে তিনি ম’রদেহের তথ্য দেন। সেই তথ্যে আমাদের অন্য দল সেখানে গিয়ে ম’রদেহ উ’দ্ধা’র করে। আ’ট’ক আনোয়ারুলকে নিয়ে তিনি ঢাকায় আসছেন।টাকার জন্য অধ্যাপক সাইদা খালেককে হ’ত্যা করা হয় বলেও জানান পু’লিশের এই কর্মক’র্তা।

কাশেমপুর থা’নার পরিদর্শক (ওসি) মাহবুব এ খোদা বাংলানিউজকে বলেন, এ ঘটনায় আনোয়ারুল ই’স’লা’ম নামের একজনকে আ’ট’ক করা হয়েছে। তাকে আনা হচ্ছে। ম’রদেহ ময়নাত’দ’ন্তের জন্য গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহম’দ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতা’লে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখনো মা’ম’লা হয়নি। আ’সা’মিকে নিয়ে আসার পর মা’ম’লা রুজু করা হবে।

Back to top button