জাতীয়

রাতের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলে স’ন্ত্রা’সী গ্রুপের রাজত্ব

কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া উপজে’লার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো দিনের আলোতে যেমন-তেমন, রাতের আঁধারে পরিণত হয় আতঙ্ক আর ভ’য়ের নগরীতে। রাত হলেই ক্যাম্পগুলোতে রাজত্ব করে আরসা’সহ বিভিন্ন স’ন্ত্রা’সী গ্রুপ। ক্যাম্প দখল ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করে তারা।

প্রত্যাবাসনের পক্ষে সোচ্চার রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হ’ত্যা এবং উখিয়ার একটি মাদরাসায় স’ন্ত্রা’সী হা’ম’লায় ৬ রোহিঙ্গা নি’হ’তের পর থেকে ক্যাম্পে সক্রিয় হয়ে পড়েছে বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা স’ন্ত্রা’সী গ্রুপ। এ কারণে সন্ধ্যার পর একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকেই বের হতে চায় না ক্যাম্পের বাসিন্দারা। মুহিবুল্লাহর নেতৃত্বে মিয়ানমা’রে ফিরে যেতে ইচ্ছুক সাধারণ রোহিঙ্গারাও আছে নিরাপত্তাহীনতায়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ করতেই মিয়ানমা’রের পৃষ্ঠপোষকতায় রোহিঙ্গাদের স’ন্ত্রা’সী গ্রুপগুলো আরো সক্রিয় হয়ে উঠছে। মুহিবুল্লাহ হ’ত্যা, মাদরাসায় হা’ম’লার মাধ্যমে তারা ক্যাম্পে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। রোহিঙ্গা স’ন্ত্রা’সীদের অ’পতৎপরতা থামাতে না পারলে হু’মকির মুখে পড়বে দেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।টেকনাফ ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারা বলছেন, মিয়ানমা’রের স’ন্ত্রা’সী গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মিই (আরসা) মূলত ক্যাম্পগুলোতে তৎপর। আরসার সদস্যরা আল ইয়াকিনসহ কয়েকটি ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে স’ন্ত্রা’সী কর্মকা’ণ্ড চালাচ্ছে। তবে কক্সবাজার জে’লা পু’লিশ বলছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আরসা বা আল ইয়াকিনের কোনো অস্তিত্ব নেই।

উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের মাঝি মোহাম্ম’দ ইসমাইল ও টেকনাফের লেদা ক্যাম্পের নেতা জাফর আহম’দ বলেন, ক্যাম্পে বসবাসকারী কিছু রোহিঙ্গা যুবক এসব স’ন্ত্রা’সী গ্রুপকে গো’প’নে সহযোগিতা করছে। দিনে ক্যাম্পে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও রাতে ভ’য়াবহ আতঙ্কে থাকতে হয় সবাইকে। স’ন্ত্রা’সী গ্রুপগুলোর কারণে ক্যাম্পে অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টি হচ্ছে।

কক্সবাজার জে’লা পু’লিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে ৭৫ জনের প্রা’ণহানি হয়েছে। এছাড়া ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ‘ব’ন্দু’কযু’দ্ধে’ ৪৯ জন রোহিঙ্গা নি’হ’ত হয়েছে।

জে’লা পু’লিশ সূত্রে আরো জানা গেছে, উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাস্টার মুন্না গ্রুপ, মৌলভী ইউসুফ গ্রুপ, শাহ আজম গ্রুপ, সালমান শাহ গ্রুপ, আব্দুল হাকিম বাহিনী, নবী হোসেন বাহিনীসহ অসংখ্য ছোট ছোট গ্রুপ গড়ে উঠেছে। তারাই আরসা অথবা আল ইয়াকিন নাম ব্যবহার করে অ’পতৎপরতা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে অনেককে চিহ্নিত করা হয়েছে। বেশ কয়েকজনকে অ’স্ত্রসহ আ’ট’ক করা হয়েছে, বাকিদের ধরতে সাঁড়াশি অ’ভিযান চালানো হচ্ছে।

১৪ আর্মড পু’লিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক পু’লিশ সুপার মো. নাইমুল হক জানান, মুহিবুল্লাহ হ’ত্যাকা’ণ্ডের পর থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স’ন্ত্রা’সীদের বি’রু’দ্ধে বিশেষ অ’ভিযান শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত তথাকথিত আরসা নামধারী স’ন্ত্রা’সী গ্রুপের ১১৪ জন সদস্যকে গ্রে’প্তা’র করা হয়েছে। এছাড়া মা’দ’কসহ বিভিন্ন অ’প’রা’ধে জ’ড়ি’ত আরো ৫৮ জন রোহিঙ্গাকে গ্রে’প্তা’র করা হয়েছে।তিনি আরো জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স’ন্ত্রা’সীদের বি’রু’দ্ধে অ’ভিযান চলবে। তথাকথিত স’ন্ত্রা’সী গ্রুপের নামে কাউকে অ’প’রা’ধ কার্যকলাপ করতে দেওয়া হবে না।

Back to top button