জাতীয়

তেল-পেঁয়াজে অস্থির সরকার: ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগ যেনো এখন সরকারের ক্রমশ প্র’তি’প’ক্ষ হয়ে উঠছে। আওয়ামী লীগের নেতারাই এখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করছেন। গত ১৩ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। ১৩ বছরে দেশে বিপুল উন্নয়ন হয়েছে। বাংলাদেশে কোনো রকম রাজনৈতিক প্র’তি’প’ক্ষ তৈরি হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মকা’ণ্ডের সাধারণ মানুষ মোটামুটি সন্তুষ্টই ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি জন-অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেল এবং পেঁয়াজের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি জনমনে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে এবং এই অস্বস্তি থেকে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে বলেও আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন। তারা মনে করছেন যে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সীমাহীন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং অদক্ষতার কারণে জনগণকে ক’ষ্ট পেতে হচ্ছে। শুধু যে জনগণ ক’ষ্ট পাচ্ছে তা নয়, এর ফলে আওয়ামী লীগও একটা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ছে।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ তাদের ঘরোয়া আলোচনায় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে এবং তারা মনে করছে যে, অনতিবিলম্বে যদি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে পরিস্থিতি নেতিবাচক হয়ে উঠতে পারে। আওয়ামী লীগের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে, যেভাবে সয়াবিন তেল এবং পেঁয়াজের দাম বাড়ছে তা উদ্বেগজনক। সাধারণ মানুষ এর ফলে ক’ষ্ট পাচ্ছে এবং এটি সরকারের অন্যান্য উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ম্লান করে দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের ওই নেতা বলেছেন যে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং দ্রব্যমূল্য বেড়েছে এটা সত্যি। কিন্তু তারপরও বিশ্ববাজারের সাথে আমাদের দেশে ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধির সামঞ্জস্যতা নেই। তিনি বলেন যে, বাজারে যে সিন্ডিকেট হচ্ছে তা দেখলেই বোঝা যায়। কিছু মানুষ মজুদ করে অধিক মুনাফা লাভের চেষ্টা করছে। এটা বন্ধের দায়িত্ব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক্ষেত্রে সীমাহীন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি তৃতীয় মেয়েদে আওয়ামী লীগ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। দীর্ঘদিনের রাজনীতিতে তার অ’ভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু মন্ত্রী হিসেবে তিনি সীমাহীন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। বিশেষ করে কোনো পণ্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তার কথা যেন ব্যবসায়ীরা শুনছেনই না। বিভিন্ন সময়ে তিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নানা রকম কথাবার্তা বলেছেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। কিন্তু সে সমস্ত কথাবার্তাগুলো যেন ফানুসে পরিণত হয়েছে। কেউ তার কথা আমলে নিয়েছে বলে মনে হয় না। এরকম একটি পরিস্থিতিতে যদি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ না করা যায়, তাহলে আগামী নির্বাচনের আগে সরকারকে একটা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। আওয়ামী লীগের অন্য একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন যে, পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেলের মাধ্যমে সরকার যে উন্নয়নের বিপ্লব করেছে, সেই বিপ্লব খেয়ে ফেলছে পেঁয়াজ এবং তেল।

পেঁয়াজ এবং তেলের দাম কেন নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবেনা এই প্রশ্ন আওয়ামী লীগের ওই প্রবীণ নেতার। তিনি মনে করেন যে, সরকারের সব দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন একাই পালন করছেন। অন্যান্য মন্ত্রীরা যেনো শুধুমাত্র পতাকাবাহী গাড়িতে করে ঘুরে বেড়ানোটাকেই তাদের একমাত্র কাজ হিসেবে মনে করছেন। কেউ যদি ব্যর্থ হন তার দায়-দায়িত্ব কেন আওয়ামী লীগ নেবে, সরকার নেবে, সেই প্রশ্ন উঠেছে আওয়ামী লীগের মধ্য থেকে। কেন্দ্রীয় নেতাদের বাইরে তৃণমূলের মধ্যেও দ্রব্যমূল্য নিয়ে ক্ষোভ উঠেছে। আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মীরা বলছেন যে, এখন আমাদেরকেই টিসিবির লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। তাহলে সরকারের সাফল্য কোথায় গেল? আর এ সমস্ত কারণেই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এখনই দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধ’রা দরকার। না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

Back to top button