জাতীয়

তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে মিল গেটে তদারকির সিদ্ধান্ত

দেশে গত কয়েক দিন ধরে ভোজ্যতেলের নাম নিয়ে চলছে কারসাজি। কোনো মতেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না তেলের বাজার। এই অবস্থায় মিল গেটে তদারকি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। তাদের সঙ্গে অন্যান্য সংস্থার সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন।

বুধবা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সভাকক্ষে মিল মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মিল গেটে সরেজমিন সা’প্লাই, ডেলিভা’রি, আম’দানি ইত্যাদি বিষয়ে পাঠানো তথ্য যাচাই করা হবে।এছাড়া সা’প্লাই অর্ডারের (এসও) মধ্যে তেলের দাম উল্লেখ থাকতে হবে। আগের যে এসও সরবরাহ করা হয়েছে তার ডেলিভা’রি ২৪ মা’র্চের মধ্যে দিতে হবে।

তেল দেশের বাইরে যাচ্ছে কি না তা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে চিঠি দিয়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে সুপারিশ করা হয়।ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এ.এইচ.এম. সফিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় অধিদফতরের পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) মনজুর মোহাম্ম’দ শাহরিয়ার, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন আহমেদ, তেল ব্যবসায়ী, মিল মালিকের প্রতিনিধি ও ডিলাররা উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি দেশের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে হু হু করে বাড়ছে ভোজ্যতেলের দাম। বাজার থেকে সয়াবিন তেল উধাও হয়ে যাচ্ছে। সরকার নানাভাবে তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ইতোমধ্যেই দেশের সব রিফাইনারি কোম্পানির কাছে ভোজ্যতেল আম’দানির বিভিন্ন তথ্যও চেয়েছে সরকার। গত রোববার থেকে অ’ভিযানে মাঠে নেমেছে সরকারের ১৪টি সংস্থার তদারকি টিম। তেলের সরবরাহ, মজুদ, পাইকারি ও খুচরা দোকানগুলোতে সংকটের কারণ খতিয়ে দেখছেন এসব টিমের সদস্যরা।

রাজধানীর কোনো কোনো বাজারে খোলা সয়াবিন তেল নেই বললেই চলে। বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া গেলেও তা সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) তাদের নিত্যপণ্যের বাজারদরের প্রতিবেদনে বাজারে খোলা সয়াবিন তেল না পাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে।সয়াবিন তেলের এই লাগামহীন দাম বৃদ্ধির কারণে অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছেন মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্তরা। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের কঠোর মনিটর দাবি করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বাণিজ্যমন্ত্রী নতুন করে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব নাকচ করার পরই একশ্রেণির ব্যবসায়ী ভোজ্যতেলের বাজারে এই অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোজ্যতেল বিপণণকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে আরো ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করে। তাদের প্রস্তাবে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের নতুন দাম ১৮০ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। আর পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের দাম ৮৭০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবে খোলা সয়াবিন ও পামঅয়েলের দামও বাড়ানোর কথা বলা হয়।

নতুন এই দর ১ মা’র্চ থেকে কার্যকর হবে বলে প্রস্তাবে বলা হয়। কিন্তু গত ২ মা’র্চ সচিবালয়ে নিত্যপণ্যের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিপণনকারী কোম্পানিগুলো সয়াবিন তেলের দাম আরও ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু আম’রা বলেছি, সামনে রমজান মাস। তাই এখন সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো যাবে না।’কিন্তু বাণিজ্যমন্ত্রীর দাম না বাড়ানোর এ নির্দেশের পর ওইদিন বিকালেই সয়াবিন ও পামঅয়েলের দাম অটোমেটিকভাবে আরেক দফা বেড়ে যায়। এর আগে সর্বশেষ ৬ ফেব্রুয়ারি সরকারিভাবেই সয়াবিন তেলের দাম লিটারে আট টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

Back to top button