জাতীয়

লা’শ তোলা হবে হারিছের

হারিছ চৌধুরী আসলেই মা’রা গেছেন কিনা, সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত নয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। গোয়েন্দারা বলছেন যে, তাদের এ নিয়ে এখনো যথেষ্ট স’ন্দেহ রয়েছে। আর এই প্রেক্ষিতে হারিছ চৌধুরীকে যেখানে সমাধিস্থ করা হয়েছে, সেই কবর খুঁড়ে তার লা’শ উত্তোলন করা হবে এবং তার ডিএনএ টেস্ট করে সরকার নিশ্চিত হতে চায় যে এটি হারিছ চৌধুরী কিনা। সাম্প্রতিক সময়ে হারিছ চৌধুরীকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় চলছে।

এতদিন সবাই জানতো যে, হারিছ চৌধুরী দেশ ত্যাগ করেছেন। পালিয়ে তিনি ভা’রতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে কানাডা, লন্ডনের কথাও বলা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করে জানাজানি হয় যে, হারিছ চৌধুরী মা’রা গেছেন। প্রথমে তার নিকট এক আত্মীয় বলেন যে, হারিছ চৌধুরী মা’রা গেছেন লন্ডনে। পরবর্তীতে বলা হয় যে, না তিনি লন্ডনে মা’রা যাননি। তিনি বাংলাদেশেই মৃ’ত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে তিনি যদি মা’রা যান, তাহলে দীর্ঘ ১৪ বছর তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় কিভাবে থাকলেন এটি একটি বড় প্রশ্ন হিসেবে সামনে এসেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ট্যাবলয়েড দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী হারিছ চৌধুরীর মৃ’ত্যু নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। ওই প্রতিবেদনে তিনি বলেছেন, হারিছ নয় মাহমুদুর রহমান মা’রা গেছে। যেখানে তিনি বলেছেন যে, হারিছ চৌধুরী তার নাম পরিবর্তন করে মাহমুদুর রহমান নাম ধারণ করেছিলেন এবং সেই মাহমুদুর রহমান নামেই তিনি এনআইডি নিয়েছিলেন। এমনকি নতুন পাসপোর্টও করেছিলেন।

ওই প্রতিবেদনে এটাও বলা হয়েছে যে, মাহমুদুর রহমান নামেই তিনি এভা’রকেয়ার হাসপাতা’লে ভর্তি হন এবং পরবর্তীতে তিনি করোনায় আ’ক্রা’ন্ত হয়ে মা’রা যান। তার মৃ’ত্যুর পর তার মেয়ে ঢাকায় এসেছিল বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর আগে থেকেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হারিছ চৌধুরীর মৃ’ত্যুর বিষয়টি নিয়ে স’ন্দেহ পোষণ করছিল। তারা বলছিল যে, একজন ব্যক্তি যখন মা’রা যাবে তখন নিশ্চয়ই তার পরিচয় থাকতে হবে। কারণ যদি হারিছ চৌধুরী মাহমুদুর রহমান নামে মা’রা যান, তাহলে তার উত্তরাধিকার বন্টন কিভাবে হবে সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

কারণ হারিছ চৌধুরীর দেশে-বিদেশে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ রয়েছে। এই সম্পদের মালিকানা তখনই তার উত্তরাধিকাররা পাবে যখন নিশ্চিত হওয়া যাবে হারিছ চৌধুরী মৃ’ত হয়েছেন। কিন্তু হারিছ চৌধুরীর যে ডেথ সার্টিফিকেট দেখানো হচ্ছে সেটি মাহমুদুর রহমানের। তাহলে মাহমুদুর রহমানের ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে কি হারিছ চৌধুরীকে মৃ’ত দেখানো যাবে? এই সমস্ত জটিলতার অবসান চায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। তারা এ কারণেই মাহমুদুর রহমান নামে যে ব্যক্তি মৃ’ত্যুবরণ করেছে সেই ব্যক্তির লা’শ উত্তোলন এবং ডিএনএ টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হারিছ চৌধুরীর ঘটনা যদি সত্যি হয়, তাহলে বাংলাদেশে পলাতক এবং কথিত গু’ম হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে একটি নতুন প্রশ্নের জন্ম দেবে।

এতদিন যাদেরকে গু’ম বলা হচ্ছে বা যাদেরকে নি’খোঁ’জ বলা হচ্ছে, তারা আসলে আত্মগো’প’নে আছেন না, নি’খোঁ’জ হয়েছেন সেই প্রশ্নটা সামনে চলে এসেছে হারিছ চৌধুরীর মৃ’ত্যু ঘটনায়। কারণ বাংলাদেশে চাইলে একজন ব্যক্তি গোয়েন্দাদের নজর এড়িয়ে আত্মগো’প’নে থাকতে পারেন বছরের পর বছর। এমনকি তিনি ভু’য়া এনআইডি এবং পাসপোর্টও বানিয়ে ফেলতে পারেন। এই বাস্তবতায় নতুন করে হারিছ চৌধুরীর ইস্যুটি সামনে এসেছে। আর এ নিয়ে যত প্রশ্ন সেই প্রশ্নের উত্তরগুলোর এখনই মীমাংসা চায় সংশ্লিষ্টরা।

Back to top button