জাতীয়

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী এখন ৬ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সংযু’ক্ত আরব আমিরাতে রয়েছেন কিন্তু সেখানে বসে সার্বক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের খোঁজখবর নিচ্ছেন। আজ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মু’স্তফা কা’মাল ভোজ্য তেল, চিনি এবং ছোলার উপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার করার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কথা বলার পর এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, সংযু’ক্ত আরব আমিরাতে বসেই প্রধানমন্ত্রী দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য তার কার্যালয়কে এবং বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা দিচ্ছেন। একাধিক সূত্র বলছে যে, দ্রব্যমূল্য নিয়ে একটি সিন্ডিকেট হয়েছে এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য কিছু কিছু মহল কাজ করছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জায়গায় সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে বলেও সরকারের কাছে প্রমাণ রয়েছে। আর এর প্রেক্ষিতে একটি গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রী কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। যারা এই ভোজ্যতেল বিশেষ করে সয়াবিন তেল গুদামজাত করছেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে তাদের বি’রু’দ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে রোজাকে ঘিরে যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় সেটি নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

সূত্রগুলো বলছে যে, বাজার মনিটরিং এর উপর প্রধানমন্ত্রী জো’র দিয়েছেন এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া জনগণের মধ্যে যেন আতঙ্ক তৈরি না হয়, আতঙ্ক সৃষ্টি করে যেন জিনিসপত্র কেনার হিড়িক না পড়ে সে ব্যাপারেও নজর রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মক’র্তারা সাম্প্রতিক সময়ে বাজারের অবস্থা পর্যালোচনা করছেন। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, বিশ্ববাজারে যু’দ্ধের কারণে দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়েছে এবং সামনে হয়তো দ্রব্যমূল্যের দাম আরো বাড়তে পারে। কিন্তু সেই বৃদ্ধি যেন লাগামহীন না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, সরকারকে চাপে ফেলার জন্য একটি মহল তৎপর এবং তারা এবার রমজান মাসকে টার্গেট করেছে। আর এ কারণেই রমজান মাসের আগেই একটা সিন্ডিকে’টের মাধ্যমে তেল-চিনিসহ রমজানে যে দ্রব্যগুলোর ব্যবহার বেশি হয় সে দ্রব্যগুলোকে বাজার থেকে উধাও করে দেওয়ার কারসাজি করা হয়েছে। আর সেরকম একটি কারসাজির অংশ হিসেবেই সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। এই সংকট যেন না হয় সেজন্য সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মক’র্তা বলেছেন যে, আম’রা শীঘ্রই বাজার মনিটরিং শুরু করছি এবং যারা অনিয়ম করবে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য রেশনিং চালু করার কথা ভাবছে। এই বিষয়টি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছে। তাদেরকে একটি সুনির্দিষ্ট কার্ড দেওয়া এবং এই কার্ডের মাধ্যমে সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সয়াবিন তেল, পিঁয়াজ, চিনি ইত্যাদি প্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলো নেয়ার একটি ব্যবস্থা করার কথা ভাবছে। এটি প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলেই চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর তড়িৎ সিদ্ধান্তের ফল খুব শীঘ্রই বাজারে বাজারে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, সয়াবিন তেলের উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ভোক্তা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এটির ফলে সয়াবিন তেলের দাম কমা উচিত বলেই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এখন দেখার বিষয় যে, এর ফলে দাম কমে কিনা। যদি দাম না কমানো হয় তাহলে বুঝতে হবে যে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পিছনে একটি মহলের রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি রয়েছে এবং সেটিকে প্রতিরোধ করাটাই হলো সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ।

Back to top button