জাতীয়

বউ মা’রা গেছে, চল্লিশ বছর ভাত খান না লোকমান মিয়া

বউয়ের প্রতি ভালবাসার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন লোকমান মিয়া। বউ মা’রা যাওয়ার পর থেকে ভাত স্প’র্শ করেননি তিনি। চাঁদপুর জে’লার হাজিগন্জ থা’নার সাতবাড়িয়া গ্রামের আশির্ধ্বো লোকমানের গল্প আপনার চোখ ভেজাবে।

অন্যের জমিতে মজুরি খাটতেন লোকমান মিয়া। দিনে এনে দিনে খাওয়া সংসারে অভাবও ছিল নিত্যসঙ্গী। কিন্তু স্ত্রী’ ফাতেমা খাতুনকে নিয়ে সেই সংসারে সুখের কমতি ছিল না। পাঁচ মে’য়ে ও দুই ছে’লেকে নিয়ে ভালোই চলছিল সব। কিন্তু তার বয়স যখন চল্লিশ সে সময় শরীরিক অ’সুস্থতায় মা’রা যান স্ত্রী’। আজ থেকে চল্লিশ বছর আগের সে সময়েও স্ত্রী’কে বাঁ’চাতে দরিদ্র লোকমান চেষ্টার কমতি রাখেননি। জায়গা-জমি যা কিছু ছিল সব বেঁচে শহরে নিয়ে গিয়ে ডাক্তার- কবিরাজ কিছুও বাদ দেননি। কিন্তু তবুও বউকে বাঁ’চাতে পারেননি।

বউ মা’রা যাওয়ার পর লোকমান মিয়াকে তার বাবা-মা বলেছিল, ‘জোয়ান বেডা তুই। ঘরে নতুন বউ নিয়ে আয়’। কিন্তু লোকমানের মনপ্রা’ণজুড়ে ছিল তার ফাতেমা।

বউয়ের মৃ’ত্যুশোকে কাতর লোকমান তখনই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন জীবনে আর কখনো বিয়ে করবেন না। বউ ভাত খেতে পছন্দ করতেন। আর তাই তিনি আরেকটি প্রতিজ্ঞাও করেছিলেন জীবনে আর কখনো ভাতও খাবেন না।

বয়সের ভা’রে নুয়ে পড়া লোকমান হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, এতদিন ভাত ছেড়ে আছেন। কখনো মন চায় না? বলেন, প্রথম প্রথম চাইতো। কিন্তু এখন ভাত মুখে দিলে মা’রা যাব। ওইটা এখন আমা’র কাছে বিষ। তাহলে কি খান আপনি?লোকমান হোসেনের চোখে বিষাদের ছায়া ভেসে ওঠে, কিছুটা নিচু স্বরে জবাব দেন, চিড়া-মুড়ি।

ভাত খান না বলে এতগুলো বছর কোনো দাওয়াত-অনুষ্ঠানেও যান না লোকমান মিয়া। এক প্রকার একা একা নিভৃতেই কাটিয়ে দিচ্ছেন জীবন সায়াহ্নের দিনগুলো।কথায় কথায় সংসার ভে’ঙে যাওয়া ঠুনকো এ সমাজে অনুপ্রেরণা জোগাবে লোকমানের এ ভালোবাসার সত্য-সুন্দর এ গল্প।

Back to top button