বিনোদন

জানা গেল ইলিয়াস ও সুবাহর দেনমোহর

গত বছরের শেষের দিকে মডেল ও অ’ভিনেত্রী শাহ হু’মায়রা সুবাহকে বিয়ে করেছিলেন দেশের সুপরিচিত গায়ক ইলিয়াস হোসাইন। তাদের দাম্পত্য জীবনের এক মাস অ’তিক্রম না হতেই বেঁজে ওঠে ভাঙনের সুর। এরপর ইলিয়াসের বি’রু’দ্ধে একের পর এক অ’ভিযোগ আনেন সুবাহ। এমনকি এই গায়কের বি’রু’দ্ধে একাধিক মা’ম’লাও করেন সুবাহ। সুবাহর বি’রু’দ্ধেও পাল্টা মা’ম’লা করলেন ইলিয়াস। তাদের দাম্পত্য কলহ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। এ বিষয়ে বিডি২৪লাইভের সাংবাদিক আরেফিন সোহাগের সঙ্গে আলাপচারিতা হয় গায়ক ইলিয়াসের। তার কাছে আরেফিন সোহাগ জানতে চায় সুবাহ’র সাথে কিভাবে পরিচয়, বিয়ে এবং অ’ভিযোগ কেন?

ইলিয়াস হোসাইন: ২০১৯ সালে সুবহার সাথে আমা’র পরিচয় হয় একটি রেষ্টুরেস্টে বসে। আমাকে পরিচয় দিয়েছিল সে চলচ্চিত্র নায়িকা হিসেবে। পরবর্তীতে সে আমা’র ব্যক্তিগত ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে এবং বিভিন্ন সময় আমাকে কল করতে থাকে। এক পর্যায়ে সে আমাকে বলে ক্রিকেটার নাসিরকে সে ভুলতে পারছে না। আমি যদি তাকে সময় দিতে পারতাম সে নাসিরকে ভুলতে পারতো। এই ধরনের কথা বলে আমা’র কাছে কা’ন্না কাটি করতো নানা সময়। এক পর্যায়ে সে আমাকে বিয়ে করতে চাই ও আমা’র ফোনে বিয়ের বার্তা পাঠাতে থাকে। নাসিরের বিয়ের ভিডিও যখন প্রকাশ হয় তখন সে আমা’র উপর বেশি আবেগী হয়ে পড়ে। আমি বিষয়টি বুঝতে পেরে যোগাযোগ বন্ধ রাখি।

এক পর্যায়ে আমা’র বন্ধু মাধ্যমে জানতে পারি যে সুবহা ঘুমের ওষুধ খেয়েছে সেই সাথে নিজের হাত কে’টেছে। আমি তখন স্বাভাবিক ভাবে কথা বলার চেষ্টা করি তার সাথে। এরপর একদিন তার বাসায় ডেকে নিয়ে আমাকে ড্রিংসের মধ্যে চেতনা নাশক ওষুধ দিয়ে আমাকে ব্লাকমেইল করার মত প্রমাণ সংগ্রহ করে রাথে। এবং তা দেখিয়ে আমাকে বিয়ে করতে বাধ্য করে। বিয়ের কাবিন করে ৭,৭৭,৭৭৭/= (সাত লক্ষ সাতাত্তর হাজার সাতশত সাতাত্তর) টাকা। বিয়ের পর থেকে সুবাহার টাকার প্রতি চাহিদা বাড়তে থাকে। এই ভাবে চলতে থাকলে আমি এক পর্যায়ে তার সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দিতে থাকি। তখনই তার তেলে জল ঢেলে যায়। আমি গণমাধ্যমে এর বেশি আর বলতে পারবো না। যা বলার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য প্রমাণসহ জমা দিয়েছি। আপনারা খুব তাড়াতাড়ি সব কিছু জানতে পারবেন।

আরেফিন সোহাগ: সুবাহ দাবি করেছেন বিয়েটা পারিবারিক ভাবে হয়েছে। তাহলে পারিবারিক ভাবে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নিচ্ছেন না?

ইলিয়াস হোসাইন: দেখু’ন, আমি প্রথমেই বলেছি আমাদের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়নি। সুবাহ আমা’র নামে যেসব তথ্য প্রকাশ করছে তা সবই মিথ্য ও ভিত্তিহীন। বিয়ের দিন সুবহার মাসহ কয়েক জন থাকার কথা থাকলেও ওই দিন উপস্থিত ছিল ৪০/৪৫ জন। উপস্থিত সবাইকে তার পরিবারের সদস্য বলে আমা’র সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। আর ডির্ভোস বা তার সাথে না থাকার বেপারটা নিয়ে আমি আইনি সহযোগীতা চেয়েছি। আইন কি সিদ্ধান্ত দিবেন সেই অ’পেক্ষায়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১০ মা’র্চ) সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন সুবাহ। সেখানে কারও নাম উল্লেখ না করলেও নায়িকা যে তার স্বামী ইলিয়াসকেই উদ্দেশ্যে করে কথাগুলো বলছেন সেটি স্পষ্ট। তিনি স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘শুধু হালি হালি বিয়ে করা শিখেছ, ফেসবুকে নেতাদের সঙ্গে সেলফি তুলে শো-অফ আর ধান্দা করা শিখেছ! দেনমোহর শোধ করা শেখো নাই? বউয়ের দায়িত্ব নেওয়া শেখো নাই আফসোস!

তিনি আরও লিখেছেন, ‘এটা তোমা’র ব্যর্থতা না, তোমা’র বাপ-মায়ের ব্যর্থতা। তাদের ছে’লেকে মে’য়েদের জীবন নষ্ট করতে শিখিয়েছে, দায়িত্ব নিতে শেখায়নি। সমস্যা নেই তোমাকে সময়ই ইনশাআল্লাহ শিক্ষা দিয়ে দেবে, যেন পরবর্তী সময় কাউকে বিয়ে করার আগে দায়িত্ব নিয়ে দেনমোহর পরিশোধ করে হালি হালি বিয়ে করতে পারো। এর আগে ২০১৮ সালে মডেল ও অ’ভিনেত্রী সুবাহ শাহ হু’মায়রার একটি ভিডিও তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। যে ভিডিওতে তিনি জাতীয় দলের এক সময়কার নিয়মিত ক্রিকেটার নাসির হোসেনের সঙ্গে নিজের স’ম্প’র্কের ব্যাপারটি ফাঁ’স করেছিলেন। এর মধ্যেমেই প্রথমবারের মতো আলোচনায় আসেন মডেল সুবাহ।

Back to top button