রাজনীতি

তাদের এই পরিণতি থেকে কেউ কি শিখবে?

একসময় ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন তারা, প্রচণ্ড ক্ষমতাবান ছিলেন এবং ক্ষমতার যথেচ্ছ ব্যবহার করেছেন। আর এই যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে ক্ষমতা থেকে ছিট’কে পড়েছেন। এ যেন অনেকটা স্বর্গ থেকে নরকে নিক্ষিপ্ত হবার মতই ঘটনা। এরকম রাজনীতিবিদদের সংখ্যা আওয়ামী লীগে ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছোট ভাই বাবরের গ্রে’প্তা’রের পর এই ধরনের রাজনীতিবিদদের দুর্ভাগ্যজনক পরিণতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী আলোচনা হচ্ছে। তাদের এই করুণ পরিণতির পর অন্যরা কি শিখবে নাকি, অন্যরা কি সংযমী এবং সাবধানী হবে কিনা সেটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় প্রশ্ন। আওয়ামী লীগ টানা ১৩ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায়। আর এই ক্ষমতাকালীন সময় অনেকেই এরকম পরিণতি বরণ করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন:

১. আবদুল লতিফ সিদ্দিকী: আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ওয়ান-ইলেভেনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। মাইনাস ফর্মুলার বি’রু’দ্ধে তিনি একটি শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। আর তার পুরস্কারও তিনি পান। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তিনি পূর্ণমন্ত্রীর ম’র্যাদা পান। দীর্ঘদিন রাজনীতি করেও তিনি যা অর্জন করতে পারেননি সেটিও তার প্রাপ্তির ঝুলিতে জমা হয়। তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বেচ্ছাচারিতা এবং ক্ষমতার অ’পব্যবহার, লাগামহীন মন্তব্যের কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত কক্ষচ্যুত হয়ে যান, তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করা হয়, বহিষ্কার করা হয় আওয়ামী লীগ থেকেও। এরকম অবস্থায় একটি মা’ম’লায় তিনি কারাবরণও করেন দীর্ঘদিন। আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী জাতির পিতার সঙ্গে রাজনীতি করা লোক। কিন্তু শুধুমাত্র ক্ষমতায় থেকে বেসামাল হওয়ার কারণেই তার এই পরিণতি হয়েছে।

২. ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর ক্ষমতাকেন্দ্রের অ’ত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভূত হন। প্রথমে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী, পরবর্তীতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হয়ে তিনি আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারকে পরিণত হয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালের পর আস্তে আস্তে তিনি কক্ষচ্যুত হতে শুরু করেন এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ফরিদপুরে তার নিজস্ব লোকজনের লুটপাটের লোমহর্ষক কাহিনী গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে শুরু করে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত ফরিদপুরে স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে গ্রে’প্তা’র করা হয়েছে। তাদের সকলেই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত। সর্বশেষ তার ছোট ভাই গ্রে’প্তা’র হয়েছেন। তিনি এখন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য থাকলেও অ’পাংক্তেয় বটে।

৩. জাহাঙ্গীর আলম: জাহাঙ্গীর আলমের রাজনৈতিক উত্থান ছিল অনেকটা ধূমকেতুর মতো। তিনি আওয়ামী লীগের মতো একটি জনপ্রিয় সংগঠন থেকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে মনোনয়ন পেয়েছিলেন, তরুণ বয়সেই প্রাপ্তির বোঝা হয়তো তিনি বইতে পারেন নি। আর সেজন্যই তিনি হয়েছিলেন বেসামাল। আর এই বেসামাল হবার শা’স্তি তাকে পেতে হয়েছে। তিনি মেয়র পদ হারিয়েছেন, বহিষ্কৃত হয়েছেন দল থেকেও।

৪. ডা. মুরাদ হাসান: ডা. মুরাদ হাসান ২০১৯ সালের মন্ত্রিসভায় অন্যতম চ’মক ছিলেন। জামালপুর থেকে ২০০৯ সালে একাধিক পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছিলেন। আবুল কালাম আজাদ, রেজাউল করিম হীরা পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর মির্জা আজমকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছিল। তিনি ছিলেন জামালপুরের একমাত্র মন্ত্রী। আর ২০১৯ সালের মন্ত্রিসভায় ডা. মুরাদ হাসানকে প্রতিমন্ত্রী করে আওয়ামী লীগ সভাপতি একটা বড় ধরনের চ’মক দিয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি তাকে যে সুযোগ দিয়েছিলেন সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারেননি মুরাদ হাসান। তার ওই বেসামাল কথাবার্তার জন্যই তিনি কক্ষচ্যুত হয়েছেন, এখন তিনি রাজনীতিতে অ’পাংক্তেয়। তার মন্ত্রিত্ব চলে গেছে, দল থেকে তাকে বহিষ্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। সেই প্রস্তাব এখনো কার্যনির্বাহী কমিটিতে আ’লো’চি’ত হয়নি।আর সেজন্যই ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে সংযত এবং মা’র্জিত থাকা উচিত বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

Back to top button