ইসলাম ও জীবন

জান্নাতে প্রবেশ করতে হলে আত্মাকে পবিত্র করতে হবে

আত্মশুদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানুষের আত্মা’র পরিশুদ্ধির উপরই নির্ভর করে তার বহ্যিক আচার-আচরণ। আত্মা বিশুদ্ধ না হলে মানুষের আমলও বিশুদ্ধ হতে পারে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃহত্তর ও সুমহান যা নিয়ে এসেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো আত্মা’র পরিশুদ্ধি ব্যবস্থা।

বিশ্বমানবতার কল্যাণের জন্য মহান আল্লাহ মহাগ্রন্থ আল কোরআনকে জীবন বিধানরূপে পাঠিয়েছেন। এ কোরআন পুরো মানবজাতির সমাজ সভ্যতা ও আত্মিক পবিত্রতা এবং পরিশুদ্ধির জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। তাই এ মহাগ্রন্থের প্রতিটি পাতায় ছড়িয়ে আছে ব্যক্তি ও সমাজ সংস্কার-সংশোধনের পন্থা ও পদ্ধতি এবং পবিত্র ও পরিশুদ্ধ জীবনের বাস্তব রূপরেখা। পরিশুদ্ধ ও পবিত্র সভ্যতার অ’পরিহার্য দাবি হচ্ছে পরিশুদ্ধ ও সৎ খোদাভীরু মানুষ। কেননা আত্মা’র পরিশুদ্ধি ছাড়া কোনো মানুষ প্রকৃত কল্যাণ বা সফলতা অর্জন করতে পারে না। তাই পবিত্র কোরআনে ব্যক্তির পবিত্রতা ও আত্মা’র পরিশুদ্ধির প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এরশাদ হচ্ছে ‘যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে সে সফলকা’ম এবং যে নিজেকে কলুষিত করে সে ব্যর্থমনোরথ হয়।’ (সূরা শামস : ৯)

উল্লিখিত আয়াতে আল্লাহ তায়ালা আত্মশুদ্ধিকে মানবজীবনের সফলতা ও ব্যর্থতার কারণ সাব্যস্ত করেছেন। যার আত্মা’র পরিশুদ্ধতা আছে সে সফল। আর যার আত্মা’র পরিশুদ্ধতা নেই সে ব্যর্থ। অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা অর্জন করে সে সফলকা’ম। আর সে ব্যক্তি ব্যর্থ যে নিজের নফসকে পাপের পঙ্কে নিমজ্জিত করে দেয়। মোট’কথা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতার চাবিকাঠি হলো আত্মা’র পরিশুদ্ধতা ও পবিত্রতা। তাই আল্লাহ তায়ালা রাসুলে করিম (সা.) কে এ মিশন নিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। রাসুল (সা.) পৃথিবীতে আগমনের উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মানুষকে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করা।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রাসুল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করবেন তাঁর আয়াত। তাদের পবিত্র করবেন এবং শিক্ষা দেবেন কিতাব এবং হিকমত। এর আগে তারা ছিল পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত।’ (সূরা জুমা : ২)। এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা রাসুলে করিম (সা.) এর পৃথিবীতে আগমনের চারটি উদ্দেশ্য ও মিশনের কথা উল্লেখ করেন। যার দ্বিতীয়টি হলো, তিনি মানুষকে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করবেন।

আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার উপায়

দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার জন্য আত্মা’র পবিত্রতা অর্জনের বিকল্প নেই। মানুষের আত্মা যখন পৃথিবী ছেড়ে পরকালে যাত্রা করে, তা পবিত্র হলে মহান আল্লাহ ফিরিশতাদের মাধ্যমে তাকে বিশেষ সংবর্ধনা দেন। জান্নাতে অ’পবিত্র জিনিসের জায়গা নয়, তাই জান্নাতে প্রবেশ করতে হলেও আত্মাকে পবিত্র করতে হবে। গুনাহমুক্ত জীবন গড়তে হবে। কারণ গুনাহের কারণে আত্মা অ’পবিত্র হয়ে যায়।

আত্মা’র পবিত্রতা অর্জন করতে হলে সর্বদা আত্মাকে পরিশুদ্ধ রাখার চেষ্টা করতে হবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সফল ওই ব্যক্তি, যে তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। এবং ব্যর্থ ওই ব্যক্তি, যে তার আত্মাকে কলুষিত করে।’ (সুরা : শামস, আয়াত : ৯-১০)

নিম্নে আত্মা পরিশুদ্ধ রাখার কিছু উপায় তুলে ধ’রা হলো-

এক. সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভ’য় করা

পরিশুদ্ধ আত্মা অর্জনে আল্লাহভীতির কোনো বিকল্প নেই। কারণ মানুষ আল্লাহভোলা হয়ে গেলেই অ’প’রা’ধে লিপ্ত হয়ে তার আত্মা’র পবিত্রতা হারিয়ে ফেলে। এর বিপরীতে যারা আল্লাহকে ভ’য় করে, আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলে, তারা যা ইচ্ছা তাই করে নিজের আত্মাকে অ’পবিত্র করতে পারে না। যার পুরস্কারস্বরূপ তারা মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সম্মুখে দাঁড়ানোকে ভ’য় করে, তার জন্য রয়েছে দুটি জান্নাত। (সুরা আর-রহমান, আয়াত : ৪৬)

অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভ’য় করে পৃথিবীতে জীবন যাপন করেছে, সব সময় যার মধ্যে এ উপলব্ধি কাজ করেছে যে আমাকে একদিন আমা’র রবের সামনে দাঁড়াতে হবে এবং নিজের সব কাজ-কর্মের হিসাব দিতে হবে। তার জন্য আছে (বিশেষ) দুটি জান্নাত। (ইবনে কাসির) অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ তাদের সঙ্গে থাকেন, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে ও সৎকর্মশীল। (সুরা নাহল, আয়াত : ১২৮)

Back to top button