জাতীয়

সরকারি কর্মক’র্তার বাসায় মিললো ৫১২ লিটার সয়াবিন তেল

বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট’কে কাজে লাগিয়ে বাড়তি লাভের আশায় ৫১২ লিটার তেল মজুত করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক কর্মক’র্তা লায়েকুজ্জামান। পু’লিশ জানিয়েছে, গত ছয়দিন বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করে এসব তেল বাসায় মজুত করেন তিনি।অবশেষে গো’প’ন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (১১ মা’র্চ) রাতে রাজধানীর মোহাম্ম’দপুর থা’নাধীন লালমাটিয়া এলাকার ওই বাসা থেকে ৫১২ লিটার তেলসহ লায়েকুজ্জামানকে গ্রে’প্তা’র করে মোহাম্ম’দপুর থা’না পু’লিশ।

শনিবার (১২ মা’র্চ) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পু’লিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমা’র সরকার এসব কথা জানান।তিনি বলেন, লালমাটিয়ার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন সাবেক সরকারি কর্মক’র্তা লায়েকুজ্জামান। এর পাশে অবস্থিত শ্বশুরের বাসাটিও তিনি দেখাশোনা করতেন। সেই বাসাতেই তিনি ৫১২ লিটার তেল মজুত করেন।

গোপণ তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্ম’দপুর থা’নার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরের নেতৃত্বে একটি টিম ওই বাসায় অ’ভিযান চালিয়ে এই পরিমাণ তেল জ’ব্দসহ লায়েকুজ্জামানকে গ্রে’প্তা’র করে।গ্রে’প্তা’র লায়েকুজ্জামানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি বলেন, তিনি ব্যক্তি পর্যায়ে এসব তেল কিনে জমা করে রাখেন। এসব তেল কেনার রশিদ দেখতে চাইলে তিনি কৃষি মা’র্কে’টের সূর্য এন্টারপ্রাইজের একটি রশিদ দেখান।

পরে রশিদটি যাচাই করে দেখা গেছে, সেখান থেকে ১৫৯ টাকা দরে মাত্র ৪০ লিটার তেল কিনেছেন। বাকি তেল তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করেছেন। আর সূর্য এন্টারপ্রাইজের ওই রশিদের মাঝখানে নিজ হাতে বাকি তেলের পরিমাণ লিখে বিভিন্ন দাম বসিয়ে দিয়েছেন।

‘গ্রে’প্তা’র লায়েকুজ্জামান মনে করেছেন, যেহেতু বর্তমানে তেলের দাম বাড়তির দিকে, কয়েকদিন পর রমজানে আরও দাম বাড়তে পারে। তাই বাড়তি লাভের আশায় তিনি তেল কিনে মজুত করে রাখেন।’ডিসি বিপ্লব কুমা’র সরকার বলেন, লায়েকুজ্জামানের বি’রু’দ্ধে মোহাম্ম’দপুর থা’নায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মা’ম’লা দায়ের করা হয়েছে। এ মা’ম’লায় তার সাতদিনের রি’মা’ন্ড চেয়ে আ’দা’লতে পাঠানো হবে। রি’মা’ন্ডে পেলে তাকে আরও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে অ’তীতেও এমন কাজ করেছেন কিনা, কিংবা তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে জানা যাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে পু’লিশের এই কর্মক’র্তা বলেন, লায়েকুজ্জামান কোনো ব্যবসায়ী নন, ডিলারও নন। প্রাথমিকভাবে এটি তার ব্যক্তিগত অসৎ উদ্দেশ্য বলেই মনে হয়েছে। অ’তিরিক্ত লাভের আশায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে তিনি তেল মজুত করেছেন। ৫১২ লিটার তেল মজুত করা ফৌজদারি অ’প’রা’ধ, এটি সংকট সৃষ্টির অ’পপ্রয়াস।

৪০ লিটার তেল এক দোকান থেকে কিনেছেন, বাকিগুলো কোথা থেকে কীভাবে সংগ্রহ করেছেন তা জিজ্ঞাসাবাদে স্পষ্ট হওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি বলেও জানান এই পু’লিশ কর্মক’র্তা।গত ৬ মা’র্চ থেকে ছয়দিনে লায়েকুজ্জামান বিপুল পরিমাণ এই তেল মজুত করেছেন জানিয়ে ডিসি বিপ্লব বলেন, ৪০ লিটারের বাইরে বাকি তেল কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন এ বিষয়ে আম’রা জিজ্ঞাসাবাদ করবো। কারণ অন্য জায়গা থেকে কিনলে সেটার রশিদ থাকতো।

অ’পর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কৃষি মা’র্কে’টের ওই ব্যবসায়ী কেন একজনের কাছে একবারে ৪০ লিটার তেল বিক্রি করলেন এ বিষয়ে তাকেও আম’রা জিজ্ঞাসাবাদ করবো। এছাড়া ভোজ্যতেলের এই সংকট সৃষ্টি করতে ব্যবসায়িক পর্যায়ে কেউ মজুতদারী করছে কি না প্রতিনিয়ত তা মনিটরিং করে যাচ্ছি। আম’রা যখনই সংবাদ পাবো, অ’ভিযান পরিচালনা করবো।জনসাধারণকে ক’ষ্ট দেওয়ার জন্য এ ধরনের মজুতদারী করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে তাদের বি’রু’দ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ডিসি বিপ্লব কুমা’র সরকার।

Back to top button