জাতীয়

এবার পাগলা ম’স’জিদের দানবাক্সে মিললো ৩ কোটি ৭৮ লাখ

কি’শোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা ম’স’জিদের দানবাক্সে টাকার অঙ্ক আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ম’স’জিদের মোট আটটি দানবাক্সে ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা পড়ে। নগদ টাকা ছাড়াও দানবাক্সে মিলে সোনা-রূপার গহনা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা।

দিনভর গণনা শেষে শনিবার (১২ মা’র্চ) রাত পৌনে ৯টার দিকে বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন ম’স’জিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জে’লা প্রশাসক মোহাম্ম’দ শামীম আলম।কি’শোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর পাড়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক এ ম’স’জিদটিতে নতুন তিনটিসহ মোট আটটি লোহার দানবাক্স রয়েছে। প্রতি তিন মাস পরপর এসব বাক্সগুলো খোলার রেওয়াজ রয়েছে।

তবে ক’রো’না মহামা’রিতে চার মাস ছয় দিন পর শনিবার (১২ মা’র্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এসব দানবাক্স খোলা হয়। বরাবরের মতোই এসব বাক্সে টাকার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মুদ্রা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও রৌপ্যালঙ্কার মেলে।

এর আগে গত বছরের ৬ নভেম্বর এসব দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৩ কোটি ৭ লাখ ১৭ হাজার ৫৮৫ টাকা। এ ছাড়া বিদেশি মুদ্রাসহ স্বর্ণ ও রূপার অলঙ্কারও পাওয়া যায়।জনশ্রুতি আছে, কোন এক সময় এক আধ্যাত্মিক পাগল সাধকের বাস ছিল কি’শোরগঞ্জ শহরের হারুয়া ও রাখুয়াইল এলাকার মাঝামাঝি প্রবাহিত নরসুন্দা নদের মধ্যবর্তী জায়গায় জেগে ওঠা উঁচু টিলাকৃতির স্থানটিতে।

মু’সলিম ও হিন্দু-নির্বিশেষে সব ধ’র্ম-বর্ণের লোকজনের যাতায়াত ছিল ওই সাধকের আস্তানায়। ওই পাগল সাধকের দেহাবসানের পর তার উপাসনালয়টিকে কা’মেল পাগল পিরের ম’স’জিদ হিসেবে ব্যবহার শুরু করে এলাকাবাসী।

কিন্তু ওই সাধকের দেহাবসানের পর থেকে আশ্চর্যজনকভাবে এলাকা এমনকি দেশ-বিদেশের লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। এ ম’স’জিদে মানত কিংবা দান-খয়রাত করলে মনোবাসনা পূরণ হয় এমন বিশ্বা’স থেকে বিভিন্ন বয়সের হিন্দু-মু’সলিমসহ বিভিন্ন ধ’র্ম-বর্ণের না’রী-পুরুষ মানত নিয়ে আসেন এই ম’স’জিদে।

নগদ টাকা-পয়সা,স্বর্ণ ও রূপার অলঙ্কারের পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি দান করেন।বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার এ ম’স’জিদে মানত নিয়ে আসা বিভিন্ন বয়সের না’রী-পুরুষের ঢল নামে ম’স’জিদটিতে ।আগতদের মধ্যে মু’সলিম’দের অধিকাংশই জুমা’র নামাজ আদায় করেন এ ম’স’জিদে। আর এ ইতিহাস প্রায় আড়াইশ’ বছরেরও অধিক সময়ের বলে জানা যায়।

এ এসব বিপুল অর্থ-সম্পদ সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনায় রয়েছে জে’লা প্রশাসকের নেতৃত্বে ২৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি। এ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব অর্থ ম’স’জিদ কমপ্লেক্স, মাদরাসা ও এতিম খানার উন্নয়নের পাশাপাশি অসহায়-দুস্থ, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আ’ক্রা’ন্ত মানুষের সেবা এমনকি দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়ে থাকে।

ম’স’জিদ কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক কর্মক’র্তা এস এম শওকত আলম জাগো নিউজকে বলেন, খরচ বাদে বাকি টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়।পাগলা ম’স’জিদ কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জে’লা প্রশাসক মো. শামীম আলম বলেন, পাগলা ম’স’জিদ কমপ্লেক্সকে ঘিরে এখানে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ম’স’জিদ কমপ্লেক্স আরও দৃষ্টিনন্দন হবে।

Back to top button