রাজনীতি

মহিলা দলের বিবাদ প্রকাশ্যে এলো

জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার কমিটি গঠন নিয়ে প্রকাশ্য বিবাদে জড়িয়েছে দুটি অংশ। পদবঞ্চিতরা এতদিন গো’প’নে ভা’রপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবরে অ’ভিযোগপত্র দিলেও এবার রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছেন।

তারা জানিয়েছেন, ভা’রপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে অ’ভিযোগ দিয়ে কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও কর্মসূচি দেবেন। প্রতিবাদকারীরা মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের পদত্যাগও দাবি করেছেন।

অ’পরদিকে প্রতিবাদী মানববন্ধনের একদিন পর শনিবার (১২ মা’র্চ) দুপুরে দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বি’জ্ঞ’প্তিতে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ১৮জনের মধ্যে ১২জন নেত্রীকে বহিষ্কার করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার ১০ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ও মহানগর দক্ষিণ শাখার ১০ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে গত ১১ ফেব্রুয়ারি। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ওই কমিটি অনুমোদন করেন।

কমিটি ঘোষণার পরই পদবঞ্চিতরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বিএনপির ভা’রপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবর অ’ভিযোগপত্র দিয়ে কমিটি বাতিল করে পুনরায় কমিটি দেওয়ার আবেদন করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নয়াপল্টন কার্যালয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে ওই অ’ভিযোগপত্রটি হস্তান্তর করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সভাপতি রাজিয়া আলিম, সাধারণ সম্পাদক শামসুন্নাহার ভূইয়া, উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাবেয়া আলম, সভাপতি পদ প্রত্যাশী খন্দকার ফরহানা ইয়াসমিন আতিকা।

এ সময় উত্তর-দক্ষিণের বিভিন্ন থা’নার অর্ধ শতাধিক নেত্রী তাদের সঙ্গে ছিলেন বলে জানা যায়। জানতে চাইলে মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটি নিয়ে কোনো অ’ভিযোগ নেই। দক্ষিণের বিষয়টি আমি বলতে পারবো না। ’তিনি আরও বলেন, ‘এখন আংশিক আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এর পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে। যারা কমিটিতে স্থান পায়নি তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাবে। এ নিয়ে অ’ভিযোগ দেওয়ার কিছু নেই। ’

এদিকে কমিটি বাতিলের দাবিতে ভা’রপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরাবর অ’ভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন পদবঞ্চিতরা। শুক্রবার (১১ মা’র্চ) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।ঘোষিত কমিটিকে ভু’য়া কমিটি আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আফরোজ আব্বাসের অব্যাহতি দাবি করেন। পরের দিন ১২ মা’র্চ মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ১২ নেত্রীকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করেন কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ।

মানববন্ধনে উপস্থিত নেত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, ‘আফরোজা আব্বাসের বাসার কাজের মে’য়ে এবং কমলাপুরের ভাত বিক্রেতা রুমা আক্তারকে মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক করা হয়েছে। এছাড়া আইজি বস্তির ইট ভাঙার শ্রমিক হাসিনা বেগম হাসিকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। এ কমিটির বেশিরভাগ নেতা অশিক্ষিত এবং আফরোজা আব্বাসের চারপাশে থাকেন। ’মানববন্ধনে উপস্থিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুন্নাহার ভূইয়া বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমাদেরকে যে বহিষ্কার করা হয়েছে এটা গঠনতান্ত্রিকভাবে করা হয়নি। সভাপতি আমাদেরকে নোটিশ দিতে পারেন, কিন্তু বহিষ্কার করতে পারেন না। ’

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আম’রা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করিনি। দলের বি’রু’দ্ধে কোনো কথাও বলিনি। মানববন্ধনে যারা উপস্থিত ছিল তারা কেউ দলের বি’রু’দ্ধে কথা বলেনি। সভাপতির কার্যকলাপের বি’রু’দ্ধে কথা বলেছে। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, আম’রা কি একজন ব্যক্তির জন্য বহিষ্কার হবো?মানববন্ধনে কতজন উপস্থিত ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১৮ জন উপস্থিত ছিল। তাহলে ১২জনকে কেন বহিষ্কার করা হলো এটাও আমা’র প্রশ্ন। ’

বহিষ্কারের পরে আপনাদের কী করণীয় জবাবে শামসুন্নাহার বলেন, ‘নোটিশ না দিয়ে এভাবে বহিষ্কার করা যায় না। দলের বি’রু’দ্ধে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। ’মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। আমি কুমিল্লা বিভাগের দায়িত্বে আছি। ঢাকা মহানগর নিয়ে যা কিছু হচ্ছে এটা আসলে দলের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো হওয়া উচিত না। ’মহানগর উত্তরের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলেন খন্দকার ফরহানা ইয়াসমিন আতিকা। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘মহিলা দলে যা ঘটছে সবই অনাকাঙ্ক্ষিত। যোগ্যদের বঞ্চিত করে কমিটি করা হয়েছে, উত্তর-দক্ষিণে পদপদবীর আশায় যারা দীর্ঘদিন দলে কাজ করছেন তারা হতাশ হয়েছেন। এই হতাশার কারণে তাদের ক্ষোভ স্বাভাবিকভাবে হতেই পারে। সেখানে এখন যেভাবে পাল্টা বক্তব্য আসছে তা ঠিক হচ্ছে না। একটা কমিটি হলে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দুইজনের সই দরকার হয়। আমি একতরফাভাবে একজনকে দায়ী করতে চাই না। কারণ তারা দুইজন দীর্ঘদিন মহিলা দলে আছেন। তারা জানেন যে, কারা যোগ্য এবং ত্যাগী। মানুষেরই ভুল হয়। হয়তো তাদেরও ভুল হয়েছে। এটা সংশোধনও হতে পারে। আমি মনে করি ওনারা সঠিক বিবেচনায় পরিবর্তন করবেন এবং যোগ্যদের পদায়ন করবেন।

ভা’রপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরাবরে যে দাবি জানিয়েছিলেন সে বিষয়ে কী হলো?

জবাবে আতিকা বলেন, ‘আম’রা ত্যাগীদের পদায়ণ করার দাবি জানিয়েছিলাম। সেই দাবি এখনও আছে। এজন্য আমাদের আ’ন্দোলন চলবে। দক্ষিণের নেতাকর্মীরা আ’ন্দোলন করতে গিয়ে বহিষ্কার হয়েছেন। আমি মনে করি, এটা রাজনীতির একটা অংশ। বহিষ্কার হয়েছে, আবার প্রত্যাহার হবে। আমাদের একটা দাবি ছিল আম’রা এ বিষয়টা নিয়ে ভা’রপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে চাই। সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন কথা বলার ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু এখনও সেটা হয়নি। আম’রা অ’পেক্ষায় আছি। ভা’রপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সুনজর আসা করছি।

Back to top button