জাতীয়

নিত্যপণ্যের সংকট মানুষকে বাধ্য করছে টিসিবির লাইনে দাঁড়াতে

হাতে লেখা সিরিয়াল। মুখে উদ্বেগ। শেষমেশ পণ্য কিনতে পারবেন কি না, নিশ্চিত নয় তাও। নিত্যপণ্যের বাজার এমনই সংকটে দাঁড় করিয়েছে মানুষকে, যেখানে একটু কম দামে পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে কাকডা’কা ভোরে। আবার এমন অনেকেই আছেন, যারা আগে কখনোই দাঁড়াননি টিসিবির ট্রাকের সামনে। ডিলাররা বলছেন, একটি ট্রাক থেকে সর্বোচ্চ ২৫০ মানুষকে পণ্য দিতে পারেন তারা।

তেজগাঁওয়ের শীলা, এক সন্তানের মা। পেশায় গৃহিণী। কালো মা’র্কার দিয়ে তার হাতে লেখা সিরিয়াল নম্বর ৭৬। কয়েকদিন আগেও স্বামীর উপার্জনে বেশ সচ্ছলই ছিল ছোট সংসার। কিন্তু বাজারের সংকট তাকে দাঁড় করিয়েছে টিসিবির ট্রাকের সামনে।

তিনি বলেন, আমি সকাল ৭টায় এসেছি। টিসিবির ট্রাক আসার আগেই এসেছি। তেলের দাম বেশি। এখানে ছাড়া তো কেনা সম্ভব না।আবার এমন অনেকেই আছেন ভোর ৬টায় এসে দাঁড়িয়েছেন লাইনে। বেলা যতই গড়ায়, ট্রাক হতে থাকে খালি, লাইন হতে থাকে লম্বা। শেষমেশ কেউ কেউ হতাশ হয়েই ফিরে যান খালি হাতে। বর্তমান বাজার দর বিবেচনায় টিসিবির বিক্রি করা চারটি পণ্য ক্রয়ে একজন ক্রেতার সাশ্রয় হয় গড়ে ১২০ টাকার মতো।

লাইনে দাঁড়ানো ক্রেতারা বলেন, সারির আগে থাকলে পাব। না থাকলে পাব না। সকাল ৬ টা ২০ মিনিটে এসেছি। অনেক ভিড় হওয়ার কারণে পেছনে চলে এসেছি। সবাই পায় না, অনেকেই খালি হাতে ফিরে চলে যায়। মাত্র ২ লিটার তেল দেয়। এতে আর কয়দিন যায়। আগে তো ৫ লিটার তেল দিত। সারা রমজান মাসে ২ থেকে ৩ বার আসলেই হয়ে যেত।

এদিকে ডিলাররা বলেন, দৈনিক একেকটি ট্রাকে পণ্য আসে ৫০০ কেজি করে, যা বিক্রি করা যায় ২৫০ মানুষের কাছে। তেলের চাহিদা বেশি থাকলেও ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে চার পণ্যের প্যাকেজ হিসেবেই।

উল্লেখ্য, একজন ক্রেতা একবারে ২ কেজি চিনি, ২ কেজি মসুর ডাল, ৩ কেজি পেঁয়াজ ছাড়াও কিনতে পারেন ২ লিটার সয়াবিন তেল। যদিও একই ব্যক্তি একাধিকবার পণ্য নিচ্ছেন কি না, তা যাচাইয়ে কোনো তদারকি নেই ট্রাকগুলোতে।

 

Back to top button