জাতীয়

কুরআনের হাফেজ জামাইকে হ’ত্যা করে লা’শ মায়ের বাড়ি পাঠালেন শ্বশুর

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মে’য়ের জামাইকে তুলে নেওয়ার তিন ঘণ্টা পর হ’ত্যা করে লা’শ ছে’লের বাড়িতে পাঠানোর অ’ভিযোগ উঠেছে শ্বশুরের বি’রু’দ্ধে। তবে তাৎক্ষণিক পু’লিশ এ ঘটনায় জ’ড়ি’ত কাউকে আ’ট’ক করতে পারেনি।নি’হ’ত যুবকের নাম মো. মোবারক হোসেন শাওন (১৮)। তিনি উপজে’লার ১৪নং হাজীপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর গ্রামের শাহাব উদ্দিনের ছে’লে।

শনিবার বিকালে বেগমগঞ্জ উপজে’লায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে একই দিন রাত ১০টার দিকে পু’লিশ তার লা’শ উ’দ্ধা’র করে থা’নায় নিয়ে যায়।

নি’হ’তের চাচাতো ভাই মাস্টার সিরাজুল ই’স’লা’ম অ’ভিযোগ করে বলেন, শাওন উপজে’লার চৌমুহনী বাজারের হকার্স মা’র্কে’টের তাহেরা ট্রেডার্সের মালিক হাজী আব্দুল মালেকের দোকানে প্রায় দুই বছর ধরে চাকরি করেন। দুই মাস আগে আম’রা জানতে পারি, শাওনের সঙ্গে মালেক তার পালক মে’য়েকে বিয়ে দেন। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে শাওনের শ্বশুর তার বাড়িতে এসে তাকে খোঁজ করতে থাকেন। এ সময় শাওনের মা তাকে জানায় শাওন বাসায় নেই।

একপর্যায়ে শাওন গোসল করে বাসায় এলে তার শ্বশুর তাকে বলে সুন্দর দেখে পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি পরে নিতে। তিনি ঘর থেকে বের হয়ে এলে তার শ্বশুর শাওনকে বলে তোমা’র মাকে একটু সালাম দিয়ে নাও, দোয়া নাও আর মাফ চেয়ে নাও। এ বলে তাকে সঙ্গে করে নিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, রাতে শাওনের স্ত্রী’কে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পু’লিশ থা’নায় নিয়ে এলে তিনি পু’লিশকে জানান শাওনকে বিকালে তার বাবা তাদের সামনে মা’রধর করে। তার পর সেখান থেকে তাকে কোথায় যেন নিয়ে যায়। এ বিষয়ে সে কিছু জানে না।

নি’হ’তের মা শামসুন্নাহার অ’ভিযোগ করে বলেন, দুপুরের দিকে মতিন আমা’র ছে’লেকে তুলে নিয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে আমি ঘরে একা ছিলাম। ওই সময় মতিনের দোকানের দুই কর্মচারী কৌশলে আমা’র ছে’লের ম’রদেহ ঘরে দিয়ে দ্রুত চলে যায়।

তিনি আরও বলেন, মতিন গো’প’নে তার পালক মে’য়েকে আমা’র ছে’লের কাছে বিয়ে দেয়। তিনি আমা’র ছে’লেকে আমাদের কাছে আসতে দিতেন না। এলে সঙ্গে সঙ্গে লোক পাঠিয়ে, নইলে তিনি নিজে এসে নিয়ে যেতেন। আমা’র ছে’লে এসব বিষয়ে কখনও আমা’র কাছে মুখ খুলত না। আমা’র ছে’লে কুরআনে হাফেজ ছিল। মনে হয় এ জন্য সে আমা’র ছে’লেকে মে’রে ফেলেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেগমগঞ্জ মডেল থা’নার উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক বলেন, খবর পেয়ে নি’হ’তের বাড়ি থেকে লা’শ উ’দ্ধা’র করে থা’নায় এনে সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করা হয়। শরীরে বড় কোনো আ’ঘাতের চিহ্ন নেই। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে— শ্বা’সরোধ করে তাকে হ’ত্যা করা হয়েছে। নি’হ’তের পরিবারের অ’ভিযোগ দুপুরে শ্বশুর তাকে নিয়ে যায়। এর পর হ’ত্যা করে সন্ধ্যায় লা’শ পাঠিয়ে দেয়।

এসআই এনামুল হক আরও বলেন, রোববার সকালে ময়নাত’দ’ন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতা’লে পাঠানো হয়েছে। ময়নাত’দ’ন্তের রিপোর্ট পেলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় লিখিত অ’ভিযোগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

Back to top button