জাতীয়

একসঙ্গে দুই সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা-বাবা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজে’লার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন। তিনি সিলেটের একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তার স্ত্রী’ লিমা বেগম কাজ করেন আশুগঞ্জের একটি চাল কলে। অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। টাকার অভাবে জ্বরে আ’ক্রা’ন্ত দুই শি’শু সন্তানকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে পারেননি তারা। বাড়ির পাশের একটি ফার্মেসি থেকে নাপা সিরাপ এনে খাওয়ান। সেই সিরাপ খাওয়ানোর পরপরই অ’সুস্থ হয়ে পড়ে শি’শু ইয়াছিন ও মোরসালিন। পরে তাদের দুজনেরই মৃ’ত্যু হয়।

দুই শি’শুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিনেও জ্বর না কমায় গত ১০ মা’র্চ বিকেলে ছোট ছে’লে মোরসালিন তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে মা লিমা বেগমকে। তখন মা তাকে আশ্বা’স দেয়, চাল কল থেকে কাজের টাকা পাওয়ার পর ভালো চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবে। পরে মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দুই শি’শুর দাদি লিলুফা বেগম পাশের বাজারের মা ফার্মেসি থেকে এক বোতল নাপা সিরাপ কিনে আনেন। এরপর সেই সিরাপ আধা চামচ করে ইয়াছিন ও মোরসালিনকে খাওয়ানো হয়। এর কিছুক্ষণ পরই তারা বমি শুরু করে।

কাঁদতে কাঁদতে দুই শি’শুর মা লিমা বেগম বলেন, “ওইদিন আমা’র ছে’লে বলল, ‘আম্মা আমাকে ভালো ডাক্তারের কাছে নিবা না?’ আমি তখন বলেছি, ভালো ডাক্তারের কাছে এখন নিতে পারব না, আমা’র কাছে এখন টাকা নেই। আপাতত দুই ভাইকে একটা নাপা সিরাপ এনে খাওয়াই। সিরাপ খাওয়ানোর ১৫-২০ মিনিট পরই দুজনেই বমি শুরু করে। উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে ডাক্তাররা অক্সিজেন দিয়ে জে’লা সদর হাসপাতা’লে নিয়ে যেতে বলে।”

লিমা বেগম অ’ভিযোগ করে বলেন সদর হাসপাতা’লে নেওয়ার পর ডাক্তার জানায়- ‘আপনার ছে’লেরা সম্পূর্ণ সুস্থ। বাড়িতে নিয়ে ট’ক আর পানি খাওয়ান বেশি করে।’ কিন্তু বাড়িতে আনার পথেই আমা’র এক ছে’লে মা’রা যায়। বাড়িতে এসে আরেকজনের মৃ’ত্যু হয়।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ডাক্তাররা তাহলে কী দেখল? আমা’র ছে’লেগুলোকে একটু চিকিৎসাও তারা দিল না কেন?’এ দিকে, নাপা সিরাপ খেয়ে দুই শি’শুর মৃ’ত্যুর অ’ভিযোগ ওঠার পর থেকে সপরিবারে গা ঢাকা দিয়েছেন দুর্গাপুর গ্রামের সড়ক বাজারের মা ফার্মেসির মালিক মো. মঈনউদ্দিন।

Back to top button