জাতীয়

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি

এবার সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের সঙ্গে সংলাপে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে বিলুপ্ত এই নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার আটজন সদস্যের পরাম’র্শ নেবে সংস্থাটি।জানা গেছে, আগামী ২২ মা’র্চ বেলা ১১টায় ইসির সভাকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশন (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল সভাপতিত্ব করবেন।

বিগত তিনটি কমিশনের ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সংলাপ করছে ইসি। তবে এই প্রথম কোনো কমিশন এতজন তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের পরাম’র্শ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাল।জানা গেছে, ওই দিনের বৈঠকে ৪০ জন বিশিষ্ট নাগরিককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কা’মাল, রাশেদা কে চৌধুরী, ডক্টর হোসেন জিল্লুর রহমান, এম হাফিজ উদ্দিন খান, আবদুল মুহিত চৌধুরী, ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, মির্জ্জা আজিজুল ই’স’লা’ম ও বেগম রোকেয়া এ রহমান।

নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান সংশোধন করে তুলে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন থেকে। এ নিয়ে বিরোধী দলগুলো বারবার আগের ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার দাবি তুলছে।ইসি বলছে, যেহেতু সাংবিধানিক কাঠামোতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নেই, তাই যারা আগে এমন সরকারের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের পরাম’র্শ নিতে চায়।

ইসির তালিকা থেকে জানা গেছে, বিশিষ্টজন হিসেবে ওই দিনের বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য সাবেক গর্ভনর, সাবেক সচিব, অর্থনীতিবিদ, সাংবাদিকতার শিক্ষকদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্বনামধন্য জনহিতৈষী প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের বৈঠকে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও।

এছাড়াও রয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এ এফ এম গো’লাম হোসেন, ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ, সাবেক সচিব আবদুল লতিফ মন্ডল, সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্ম’দ ফরাসউদ্দিন, গভর্নেন্স অ্যান্ড্রয়েড সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ড. জহিরুল আলম, স্ট্র্যাটিজি এনালিস্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল হাফিজ, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মহিউদ্দিন আহম’দ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্তর্জাতিক স’ম্প’র্ক বিভাগের অধ্যাপক আ’মেনা মহসিন।

আবার বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ওয়ালী ওর রহমান, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুম’দার, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-এর ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ ইন্ডিজেনাস পিপলস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ই’মাম মজুম’দার, সেন্টার ফর স্টাডিজ চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ই’স’লা’ম, নিজেরা করি সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর খুশি কবির, ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ, বাংলাদেশ ইউনিভা’র্সিটি অব প্রফেশনালসের বঙ্গবন্ধু চেয়ার ডক্টর সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহম’দ, লিডারশিপ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডক্টর এম এ সাঈদ, সাবেক সচিব আবু আলম মো. শাহিন খান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাবির অধ্যাপক জাহান রওনক জাহান, অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর এস এম শামীম রেজা, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস ও কাবেরী গায়েনকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইসি।

বর্তমান কমিশন গত ২৬ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পাওয়ার পর ২৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা দায়িত্ব বুঝে নিয়েই সংলাপের উদ্যোগ নেয়। গত ১৩ মা’র্চ শিক্ষাবিদদের সঙ্গে বসেছিলেন তারা।শিক্ষাবিদরা দলগুলোকে আস্থায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ, ভোটার ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে ইভিএম ব্যবহার, দলগুলোর সব স্তরের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ না’রী সদস্যপদ পূরণে ব্যবস্থা গ্রহণ, ইসির নিজস্ব কর্মক’র্তাদের রিটার্নিং কর্মক’র্তা নিয়োগ, নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে ইসির অধীন রাখাসহ একগুচ্ছ সুপারিশ করেন।

আগামী ২৯ মা’র্চ গণমাধ্যমের সঙ্গে সংলাপের বসবে ইসি। এরপর না’রী নেত্রী ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসবে সংস্থাটি। কাজী হাবিবুল আউয়ালের বর্তমান কমিশনের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন। এক্ষেত্রে ২০২৩ সাল থেকেই শুরু হয়ে যাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি।

Back to top button