জাতীয়

মহাজোটের পরিধি বাড়াবে আওয়ামী লীগ

নির্বাচনের প্রায় দুই বছর আগে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মেরুকরণ প্রক্রিয়ায় হাত দিয়েছে। মুক্তিযু’দ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে এক বিন্দুতে মিলিত করার চেষ্টা শুরু করেছে। ২০১৮ এর নির্বাচনের পর থেকে যে একলা চলো নীতি গ্রহণ করেছিল আওয়ামী লীগ, সেখান থেকে সরে আসার প্রক্রিয়া এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। গতকাল ১৪ দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা বলছেন যে, ১৪ দলের পাশাপাশি মহাজোট’কেও সক্রিয় করা হবে এবং মহাজোটের বাইরে মুক্তিযু’দ্ধের স্বপক্ষের যে সমস্ত রাজনৈতিক শক্তিগুলো আছে তাদের সঙ্গেও ঐক্য করবে আওয়ামী লীগ। ২০২৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মুক্তিযু’দ্ধের চেতনার পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর একটি বৃহত্তম মঞ্চ করতে চায় বলেও জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা। গতকালের ১৪ দলের বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে দুটি কৌশলগত জোটের মাধ্যমে রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। একটি জোট হলো আদর্শিক জোট। যেটিকে ১৪ দলীয় জোট বলা হয়। ১৪ দলীয় জোটে বাম উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো আছে। যে দলগুলো আওয়ামী লীগের চিন্তা-চেতনা এবং আদর্শের প্রায় কাছাকাছি। এই ১৪ দলীয় জোট গঠিত হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়। ১৪ দলীয় জোট দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকার পর এখন আবার নতুন করে এটাকে চাঙ্গা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ১৪ দলের বাইরে আওয়ামী লীগের আরেকটি জোট রয়েছে। যেটি নির্বাচনী জোট।

যেটি মহাজোট হিসেবে পরিচিত। ২০০৭ এর জানুয়ারিতে নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ মহাজোট গঠন করেছিল। কিন্তু সেই নির্বাচন ভেস্তে যাওয়ার পরও মহাজোট অটুট থাকে। পরপর তিনটি নির্বাচন ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ তে আওয়ামী লীগ মহাজোটের মাধ্যমেই নির্বাচন করেছে। মহাজোটের শরিকদের মধ্যে অন্যতম হলো জাতীয় পার্টি। মূলত জাতীয় পার্টিকে নেওয়ার জন্যই মহাজোট গঠন করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের আদর্শিক ঐক্য নাই। এটি নির্বাচনে জয়লাভের জন্য একটি কৌশলগত ঐক্য বলে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন।

যদিও এরশাদের মৃ’ত্যুর পর জাতীয় পার্টি এখন একটি নামসর্বস্ব দল হয়ে আছে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, উত্তরাঞ্চল, সিলেট বিভিন্ন জায়গায় এখনও জাতীয় পার্টির বড় ধরনের কিছু ভোট পকেট রয়েছে এবং এটিকে আওয়ামী লীগ হাতছাড়া করতে চায় না। মহাজোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ আরও কিছু রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে চায়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ই’স’লা’মী রাজনৈতিক দল যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযু’দ্ধের চেতনায় বিশ্বা’স করে তাদেরকে, কিছু উদার বাম রাজনৈতিক দলকেও মহাজোটের মধ্যে যু’ক্ত করতে চায়। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলছেন যে, সামনে অনেক চ’মক আছে। বিশেষ করে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নিবিড়ভাবে যোগাযোগ করছে বলেও আওয়ামী লীগের একটি সূত্র দাবি করেছে।

তারা বলছে যে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে বাম’দলগুলোর একটি ঐতিহাসিক স’ম্প’র্ক রয়েছে। সেই স’ম্প’র্ক সাময়িকভাবে একটু টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এটাকে সংহত করার উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এর বাইরেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকেও আওয়ামী লীগ কাছে পেতে চায়। মূলত নির্বাচনের আগে বিএনপিকে একঘরে করার একটি লক্ষ্য নিয়েই আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ কাজ করা শুরু করছে এবং তারা মনে করছে যে, খুব শীঘ্রই চ’মক আসছে। বাম রাজনৈতিক দলগুলোসহ গতবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থাকা দুই-একটি দলও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটে আসতে পারে।

Back to top button