জাতীয়

প্রে’মিকের কথায় ‘পথের কাঁ’টা’ সরাতে ২ ছে’লেকে হ’ত্যা করেন লিমা!

জ্বরের সিরাপ নয়, মায়ের দেওয়া বিষেই প্রা’ণ গেছে ইয়াসিন (৭) ও মুরসালিন (৫) নামে দুই শি’শুর। স্থানীয় একটি চালকলে কাজ করার সুবাদে চাতাল শ্রমিক সরদার সফিউল্লাহর সঙ্গে পরিচয় মা লিমা বেগমের।

পরিচয়ের সূত্র ধরে দু’জনের মধ্যে প্রে’মের স’ম্প’র্ক গড়ে ওঠে। তাদের এ অ’বৈ’ধ স’ম্প’র্কের পথের কাঁ’টা দুই সন্তানের কারণে। এজন্য প্রে’মিকের পরাম’র্শে পথের কাঁ’টা দূর করতে মিষ্টির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে নিজের হাতেই ছে’লেদের খাওয়ান লিমা। পড়ে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সিরাপের নাট’ক সাজানো হয়।এ ঘটনায় শি’শুটির স্বজন ও এলাকাবাসী মা লিমা ও তার প্রে’মিকসসহ জ’ড়ি’তদের দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তি দাবি করেছেন।

নি’হ’ত শি’শু দু’টির বাবা ইসমাইল হোসেন সুজন বলেন, আমি সিলেটে কাজে যাওয়ার আগে আমা’র স্ত্রী’কে একটি মোবাইল ফোনের সিম দিয়ে যাই। আমি যাবার পরপরই আমা’র সিমটি পরিবর্তন করে চাতাল সরদার সফিউল্লাহর দেওয়া সিম ব্যবহার করতে থাকে লিমা। তখন থেকেই তার আচার আচরণে আমা’র কিছুটা স’ন্দেহ হয়। তবে প্রথম দিকে সিরাপ খেয়ে মৃ’ত্যুর বিষয়টা সত্য মনে হলেও পরে তার আচার আচরণে আমাদের স’ন্দেহ দানা বাধে। একপর্যায়ে নিজেই স্বীকার করে যে প্রে’মিক সফিউল্লাহর দেওয়া বিষ মিশিয়ে সন্তানদের হ’ত্যা করেছে সে।

স্থানীয় লোকজন বলেন, ঘটনার পর বাড়িতে এসে শি’শুটির মায়ের আচার আচরণ দেখে আমাদের স’ন্দেহ হয়। আম’রা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তি দাবি করছি।শি’শুদের চাচাতো দাদা ফজলুল করিম বলেন, আমা’র ভাতিজা (সুজন) এমনিতেই দৃষ্টি প্রতিব’ন্ধী। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে লিমা এক বছর ধরে চাতাল সরদারের সঙ্গে প’র’কীয়া করে আসছে। তার প’র’কীয়ার কারণে অবুঝ দুই শি’শুর মৃ’ত্যু হলো। আম’রা লিমা ও সফিউল্লাহসহ এ হ’ত্যায় জ’ড়ি’ত সবার ফাঁ’সি চাই।

অ’তিরিক্ত পু’লিশ সুপার মোল্লা মোহাম্ম’দ শাহীন জানান, ঘটনার পর থেকেই শি’শু দু’টির মায়ের আচার আচরণ স’ন্দেহ’জনক ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি মিষ্টিতে বিষ মিশিয়ে ছে’লে দু’টিকে হ’ত্যার কথা স্বীকার করেন।এ ঘটনায় বুধবার দিনগত রাত ১টায় লিমা বেগমকে উপজে’লার দুর্গাপুরের বাড়ি থেকে গ্রে’প্তা’র করে পু’লিশ। এ ঘটনায় রাতেই শি’শু দু’টির মা, সফিউল্লাহ ও অ’জ্ঞা’ত আরও দু’জনকে আ’সা’মি করে ইসমাইল হোসেন সুজন একটি হ’ত্যা মা’ম’লা দায়ের করেন।

গ্রে’প্তা’রকৃত লিমা বেগম বৃহস্পতিবার (১৭ মা’র্চ) সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট-২য় আ’দা’লতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানব’ন্দি দেন।এর আগে এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১০ মা’র্চ) দুপুর থেকেই মুরসালিন ও ইয়াসিনের জ্বর ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শি’শুদের মা লিমা বেগম তার শাশুড়িকে বাড়ির পাশের দুর্গাপুর বাজারে মাঈন উদ্দিনের ওষুধের দোকান “মা ফার্মেসি” থেকে সিরাপ আনতে বলেন। শি’শুদের দাদি সিরাপ এনে লিমা’র কাছে দেন। এসময় লিমা তার ছে’লেদের সিরাপ সেবন করান। এর কিছুক্ষণ পরই দুই শি’শুই বমি করতে শুরু করে এবং অস্বস্তি বোধ করতে থাকে। অবস্থার অবনতি হলে তাদের দ্রুত উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে শি’শু দু’টিকে জে’লা সদর হাসা’পাতা’লে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাতেই তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেন। বাড়িতে নিয়ে আসার পর রাত ৯টায় ইয়াসিন খানের মৃ’ত্যু হয়। আর রাত সাড়ে ১০টায় ছোট ভাই মুরসালিনেরও মৃ’ত্যু হয়। এতোদিন লিমা ছে’লেদের মৃ’ত্যুর জন্য সিরাপকে দায়ী করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও সিরাপে ক্ষতিকর কিছু মেলেনি।

Back to top button