বিনোদন

মন্ত্রীদের ৫ তথ্য প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে

বর্তমান মন্ত্রিসভা’র মেয়াদ তিন বছরের বেশি অ’তিক্রান্ত হয়েছে। এই মন্ত্রিসভা’র অধিকাংশ মন্ত্রীদের কার্যক্রম সন্তোষজনক নয়। অনেকেই মনে করেন যে, কিছু কিছু মন্ত্রীর কারণেই সরকার বিভিন্ন সময়ে নানা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ছে। আর এ নিয়ে খোদ আওয়ামী লীগের মধ্যে নানারকম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা, যারা মাঠে কাজ করেন তারা মন্ত্রিসভা’র সদস্যদের কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকা’ণ্ড এবং কথাবার্তায় বির’ক্ত। এ ব্যাপারে তারা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও নালিশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেও যে মন্ত্রীদের ওপর খুব একটা সন্তুষ্ট তা নন।

যদিও তিনি বাইরে মন্ত্রিসভা’র সদস্যদেরকে সম’র্থন করেন, কারণ এটি সরকার পরিচালনার একটি স্বীকৃত নীতি কৌশল। কিন্তু ভেতরে তিনি অনেক মন্ত্রীর কর্মকা’ণ্ডে খুব একটা সন্তুষ্ট নন বলে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো মনে করে। আর এই বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী অনেক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন এবং সব বিষয়ে তিনি দেখভাল করেন। তবে মন্ত্রীরা সফল হোক না হোক, প্রধানমন্ত্রী সব মন্ত্রীদের হাঁড়ির খবর রাখেন এবং মন্ত্রীরা কি কাজ করছেন না করছেন সে স’ম্প’র্কে পরিপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে রাখেন। আর যেহেতু সরকারের মেয়াদ ৩ বছর অ’তিক্রান্ত হয়েছে, তাই এখন কাজের মূল্যায়নের হিসাব নিকাশ। মন্ত্রীদের সম্বন্ধে পাঁচ ধরনের তথ্য প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে রয়েছে বলে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে। এই তথ্যগুলো দিয়ে কি মন্ত্রিসভা রদবদল হবে নাকি মন্ত্রীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে, সেটি প্রধানমন্ত্রী বলতে পারবেন। তবে যে পাঁচটি তথ্য মন্ত্রীদের সম্বন্ধে সংগ্রহ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে:

১. মন্ত্রণালয়ে কাজে দক্ষতা: একজন মন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের কাজে কতটুকু দক্ষ, কত দ্রুত ফাইল নিষ্পত্তি করেন, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কতটা পারঙ্গম, সে স’ম্প’র্কে তথ্য নেয়া হয়েছে।

২. দু’র্নী’তির অ’ভিযোগ: একজন মন্ত্রীর বি’রু’দ্ধে দু’র্নী’তির কোনো অ’ভিযোগ রয়েছে কিনা, বিভিন্ন ঘটনায় তাকে নিয়ে কোন বিতর্ক হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তথ্য প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহ করেছেন।

৩. সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মক’র্তাদের সঙ্গে স’ম্প’র্ক: একটি মন্ত্রণালয় চলে যৌথ প্রক্রিয়ায়। মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দেন। কিন্তু সচিব থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের আমলারা আসলে মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেন। আর এ কারণেই একটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে সচিব এবং অন্যান্য সরকারি কর্মক’র্তাদের সুস’ম্প’র্ক থাকা বাঞ্ছনীয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী এবং সচিবের মধ্যে স’ম্প’র্কের অবনতির কথা শোনা যায়। আর এই বাস্তবতায় প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে সচিব এবং মন্ত্রীদের মধ্যে স’ম্প’র্ক কেমন, এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখন প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে।

৪. মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি: একেকটি মন্ত্রণালয়ে কার্যক্রমে মন্ত্রীরা নেতৃত্ব দেন। আর মন্ত্রণালয়ের সাফল্যের ওপর তাদের ভাবমূর্তি গড়ে ওঠে। অনেকগুলো মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি অ’ত্যন্ত নেতিবাচক, আবার অনেক মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ইতিবাচক। একজন মন্ত্রী যখন সঠিক কাজ করেন, কথাবার্তা ঠিক মত বলেন এবং দায়িত্বশীল আচরণ করে তখন তার ভাবমূর্তি ইতিবাচক হয়। আবার যখন তিনি সারাক্ষণ বিতর্কিত কথাবার্তা বলেন, তখন তার ভাবমূর্তি নেতিবাচক হয়। এই বাস্তবতায় মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি কেমন সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এ স’ম্প’র্কে তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে রয়েছে।

৫. নির্বাচনী ইশতেহার পূরণ: প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে। সেই লক্ষটি হলো নির্বাচনী ইশতেহার। আওয়ামী লীগ যখন ২০১৮ সালে নির্বাচন করেছিল, তখন একটি সুনির্দিষ্ট নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছিল এবং প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ের জন্য অভীষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। সেই লক্ষ্য অনুযায়ী মন্ত্রিসভা কাজ করছে কিনা, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এ সংক্রান্ত তথ্য নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইতিমধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে কতটুকু কার্যক্রম হয়েছে, সে স’ম্প’র্কে তথ্য সংগ্রহ করেছে।

এই পাঁচ তথ্যের আলোকে মন্ত্রীদের ভবিষ্যতের ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Back to top button