জাতীয়

১৮ বছর পর আ. লীগের সম্মেলন কাল

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন শুরু হয়েছে ৬ নভেম্বর থেকে। এরইমধ্যে কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন শেষ হয়েছে। গত ২৩ নভেম্বর শনিবার শেষ হয়েছে যুবলীগের সম্মেলন। আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিন আওয়ামী লীগের সম্মেলন।এই সম্মেলনে পদ পদপ্রত্যাশীরা এরইমধ্যে নানা তৎপরতা শুরু করেছে নেতাকর্মীরা।

পদ-পদবী ছিনিয়ে আনতে একে অ’পরের বি’রু’দ্ধে শুরু করেছে অ’পপ্রচারের মতো ‘অ’সুস্থ প্রতিযোগিতায়’।সম্মেলনের আগে তো বটেই, সম্মেলনের পরও দলীয় হাইকমান্ডের বেছে নেয়া নতুন নেতৃত্বকেও চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মিথ্যা অ’ভিযোগে ঘায়েল করার অ’পচেষ্টায় মেতেছে একটি চক্র। এর অংশ হিসেবে একে অন্যের বি’রু’দ্ধে ‘ব্লেম গেমে’ নেমেছে পদবঞ্চিতদের কেউ কেউ।

জানা গেছে, সরকারি দল আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পদপ্রত্যাশীরা যেন কোনো ধরনের ‘অ’সুস্থ প্রতিযোগিতায়’ না করে, সেই বিষয়ে দলীয় হাইকমান্ড কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিল। এরপরও থেমে নেই এক নেতা অ’পর প্রতিদ্বন্দ্বির বি’রু’দ্ধে কুৎসা রটানোর প্রতিযোগীতা। বিষয়টিকে বিরাজনীতিকরনের চক্রান্ত হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

তারা জানিয়েছেন, অ’পরাজনীতির এই বিষয়টি তাদের জন্য বিব্রতকর। এখনি এগুলোর লাগাম টেনে ধরতে হবে। যারা এগুলো করছে, সুস্পষ্ট অ’ভিযোগ পেলে ত’দ’ন্ত সা’পেক্ষে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে দল। দলীয় সূত্রমতে, এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের চারটি সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং সর্বশেষ যুবলীগের সম্মেলন হয়েছে, যেখানে অনেক যাচাই-বাছাই করে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা তথ্য সংগ্রহ করেছেন। প্রার্থীদের স’ম্প’র্কে খোঁজ খবর নিয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টও দেখা হয়েছে। অর্থাৎ সার্বিক দিক বিচার-বিশ্লেষনের মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হয়েছে।

গত ৬ নভেম্বর কৃষক লীগের সম্মেলনের আগে থেকেই ‘ব্লেম গেমে’র সূচনা। এরপর শ্রমিক লীগ, স্বেচ্চাসেবক লীগ, যুবলীগের সম্মেলন হলেও চক্র থেকে নেই অ’সুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে। নেতৃত্ব ঘোষনার পরও তারা দায়িত্বপ্রাপ্তদের চরিত্র হরনে কাজ করে যাচ্ছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা দলের শীর্ষ নেতাদের টেনে আনছেন। এ কাজে তারা ব্যবহার করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমকে। গণমাধ্যমকে অনেক সময় ভুল তথ্য দিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করছে। কখনো বলা হচ্ছে নির্বাচিতদের কেউ কেউ টেন্ডারবাজির সাথে জ’ড়ি’ত ছিলো, কখনো বলা হচ্ছে বিতর্কিত নেতাদের সাথে যোগাযোগ ছিলো।

আবার রাজনীতিতে সম্প্রতি বিতর্কিত হয়েছেন, এমন কারো সাথে আগে তোলা ছবি সামনে এনে বলা হচ্ছে তার কাছের মানুষ। তবে এসবের কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ দিতে পারছে না এই চক্রটি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ছবি ছড়িয়ে দিয়ে প্রমাণ করতে চাইছে নব নির্বাচিত কেউ কেউ বিতর্কিত। গত কয়েকদিনে এই প্রতিবেদকের কাছে একাধিক মেইল এসেছে, যেখানে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নতুন নির্বাচিত কয়েকজন নেতার বি’রু’দ্ধে একগাদা অ’ভিযোগ রয়েছে। এসব মেইলের উৎস স’ম্প’র্কে জানা যায়নি।

তবে ওই মেইলে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বি’রু’দ্ধে যেসব অ’ভিযোগ দেয়া হয়েছে, খোঁজ নিয়ে সেগুলোর কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। কাঁদা ছোড়াছুড়ি ও অ’পপ্রচার নিয়ে কথা হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন থা’না-ওয়ার্ড নেতাদের সাথে। তারা জানিয়েছেন, যারাই থা’না-ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে অ’পপ্রচার-গুজব ও ব্ক্রিান্তিকর তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমে ভুল সংবাদ পরিবেশন করতে সহযোহিতা করবে তাদের দলকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা উচিত।

এ বিষয়ে ডেম’রা থা’না আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল বলেন, সম্মেলন আসলেই একটি কুচক্রী মহল দলের পরীক্ষিত-ত্যাগী নেতাকর্মীদের বি’রু’দ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে। এরা প্রকৃত আওয়ামী লীগার না, খোঁজ নিলে জানতে পারবেন,তাদের পরিবারের লোকজন বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সাথে জ’ড়ি’ত। একই কথা জানিয়েছেন ওয়ারী থা’না আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু ও শাহাবাগ-বংশাল ও লালবাগ থা’না আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম আতিকসহ আরো অনেকে।

আশিকুর রহমান লাভলু বলেন, যারা প্রকৃত আওয়ামী লীগার তারা কখনো দল ও দল মনোনীত নেতাদের বি’রু’দ্ধে কুৎসা রটাতে পারেনা। এই নোংরা কাজটি যারা করছে, তাদের অবিলম্বে শা’স্তির আওতায় আনা উচিত।এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.শাহে আলম মুরাদ বলেন, সরকার ও দলের বি’রু’দ্ধে সবসময় অ’পপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। সুতরাং আওয়ামী লীগের বিতরে প্রবেশ করে যারা গুজব-সন্ত্রাস ও অ’পপ্রচার করছে, তারা বিএনপি-জামায়াতের প্রেতাত্মা।

তিনি আরো বলেন, নতুন গজিয়ে ওঠা আওয়ামী লীগার যারা ‘হাইব্রিড’ নামে পরিচিত, তারা দলের অ’পূরণীয় ক্ষতি করছে। হাইব্রিডরা বিএনপি-জামায়াতের প্রেতাত্মা। এখন সময় এসেছে,তাদের বি’রু’দ্ধে অনুসন্ধ্যান করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

কথা হয় দলের শীর্ষপর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাদের সাথে। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অ’সুস্থ প্রতিযোগিতার এই বিষয়টিকে তারা খুব গুরুত্ব দিচ্ছেন। এজন্য এগুলো কঠোর হাতে দমনের কথা ভাবছেন তারা। কারন এই চর্চা অব্যাহত থাকলে তা দলের জন্য খুবই ক্ষতিকর হবে। অ’ভিযোগগুলো কোনো উৎস থেকে এসব আসছে? কারা করছেন? এসব ব্লেম গেমের সাথে কারা জ’ড়ি’ত? সেসব খুঁজে বের করা হবে। প্রয়োজনে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। প্রমান পেলে ব্লেম গেম যারা খেলছেন, তাদের বি’রু’দ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।তাদেরমতে, রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে সেটা স্বাভাবিক। কালে কালে সেটা হয়ে এসেছে। কিন্তু অ’সুস্থ প্রতিযোগিতা মেনে নেয়া হবে না। রাজনীতি করতে গেলে প্রয়োজনে-অ’প্রয়োজনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একে অন্যের সাথে ছবি তোলা হয়। স্মা’র্ট ফোনের যুগে সেটা আরো বেশি। সেসব ছবি পরবর্তীতে সামনে এনে একজনকে বিতর্কিত করা অ’প’রা’ধ।

কারণ একসময় ভালো একজন রাজনীতিক পরে বিতর্কিত হয়ে গেলে তার সঙ্গে অ’তীতে কেউ ছবি তুললে সেও বিতর্কিত হয়ে যায় না। আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতার সাথেও অনেকের ছবি আছে। কাল সেই নেতা বিতর্কিত হয়ে গেল যারা ছবি তুলেছেন তারাও কি বিতর্কিত হবেন? অবশ্যই হবেন না।এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, এগুলো চরিত্র হননের অ’পচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। সর্বোচ্চ যাচাই-বাছাই করে সহযোগী সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব আনা হয়েছে। এগুলো আসলে রাজনীতিকে বিরাজনীতিকরনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা। এজন্য গণমাধ্যমকে আরো বেশি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা দলের যে ইতিবাচক রাজনীতির সূচনা করছে তা কিছু দুষ্ঠু লোকের জন্য থেমে থাকবে না। প্রয়োজনে দল এসব ক্ষেত্রে আরো কঠোর হবে এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করবে।আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, যখন দল নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবে, তখন সেই নেতৃত্বকে সম্মান জানিয়েই রাজনীতি করতে হবে। ওই নেতৃত্বের ভাবমুর্তি রা করা সকলের কর্তব্য। এটাই সঠিক রাজনীতি। মিথ্যা অ’ভিযোগ তুলে কারো বি’রু’দ্ধে অ’পরাজনীতি করলে সে রাজনীতিতে টেকে না। আমাদের মনে রাখতে হবে প্রতিযোগিতা যেন প্রতিহিং’সায় রূপ না নেয়।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, কাঁদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করতে হবে। আমাদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা হবে সুস্থ। অ’সুস্থ প্রতিযোযিতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আমি নেত্রীর প থেকে পরিস্কারভাবে সবাইকে জানিয়ে দিতে চাই। কেউ কারো বি’রু’দ্ধে অ’পপ্রচার কিংবা কুৎসা রটালে কঠোর ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

Back to top button