ইসলাম ও জীবন

পবিত্র শবে বরাতে যা করা যাবে এবং যা করা যাবে না

পবিত্র শবে বরাত এবং শবে কদর মু’সলিম উম্মাহর তাৎপর্যমন্ডিত দু’টি রজনী। তবে মনে রাখতে হবে, এ দু’রাতের জন্য বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামাজ নেই। সব সময় যেভাবে নামাজ পড়া হয় সেভাবেই পড়বে অর্থাৎ দুই রাকাত করে যত রাকাত সম্ভব হয় আদায় করবে এবং যে সূরা দিয়ে সম্ভব হয় পড়বে। তদ্রুপ অন্যান্য আমলেরও বিশেষ কোনো পন্থা নেই।

কোরআন তেলাওয়াত, যিকর-আযকার, দু‘আ-ইস্তেগফার ইত্যাদি নেক আমল যে পরিমাণ সম্ভব হয় আদায় করবে। তবে নফল নামাজ দীর্ঘ করা এবং সিজদায় দীর্ঘ সময় অ’তিবাহিত করা উচিত, যা গত আলোচনায় উল্লেখিত হাদীস শরীফ থেকে জানা গেছে। বিভিন্ন বই-পুস্তকে নামাজের যে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন লেখা আছে অর্থাৎ এত রাকাত হতে হবে, প্রতি রাকাতে এই এই সূরা এতবার পড়তে হবে- এগুলো ঠিক নয়।

হাদীস শরীফে এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই, এগুলো মানুষের মনগড়া পন্থা। যে কোনো বই-পুস্তিকায় কোনো কিছু লিখিত থাকলেই তা বিশ্বা’স করা উচিত নয়। বিজ্ঞ আলিম’দের নিকট থেকে জেনে আমল করা উচিত। শবে বরাত ও শবে কদরের নফল আমলসমূহ, বিশুদ্ধ মতানুসারে একাকি করণীয়। ফরয নামাজ তো অবশ্যই ম’স’জিদে জামাআতের সঙ্গে আদায় করতে হবে। এরপর যা কিছু নফল পড়ার তা নিজ নিজ ঘরে একাকি পড়বে।

এসব নফল আমলের জন্য দলে দলে ম’স’জিদে এসে সমবেত হওয়ার প্রমাণ হাদীস শরীফেও নেই, আর সাহাবায়ে কেরামের যুগেও এর রেওয়াজ ছিল না। (ইকতিযাউস সিরাতিল মু’স্তাকীম ২/৬৩১-৬৪১; মা’রাকিল ফা’লাহ পৃ. ২১৯)। তবে কোনো আহবান ও ঘোষণা ছাড়া এমনিই কিছু লোক যদি ম’স’জিদে এসে যায় তাহলে প্রত্যেকে নিজ নিজ আমলে মশগুল থাকবে, একে অন্যের আমলে ব্যাঘাত সৃষ্টির কারণ হবে না।

শবে বরাত ও শবে কদর উপলক্ষে বিভিন্ন ম’স’জিদ ও দোকানপাটে আলোকসজ্জা করা হয়, পট’কা ফোটানো হয় ও আতশবাজি করা হয়। সেই সাথে হালুয়া-রুটি, খিচুড়ি ইত্যাদি খাবারের আয়োজন করা হয়। এগুলো কিছু ভুল রেওয়াজ, যা পরিহার করা আবশ্যক। আলোকসজ্জা বা আতশবাজিতে অ’পচয়ের পাশাপাশি বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুসরণও রয়েছে। তাই তা সর্বোতভাবে পরিত্যাজ্য।

আর হালুয়া-রুটি বা অন্য কোনো খাদ্যদ্রব্য বানানো, আত্মীয়-স্বজনের মাঝে বিতরণ করা, তদ্রুপ খিচুড়ি রান্না করা এবং গরীব-মিসকীনদের মাঝে বণ্টন করা সাধারণ অবস্থায় জায়েয ও ভালো কাজ হলেও এটাকে এ রাতের বিশেষ আমল মনে করা এবং এসবের পেছনে পড়ে এ রাতের মূল কাজ তওবা-ইস্তেগফার, নফল ইবাদত ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত হওয়া শয়তানের ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই নয়।

Back to top button