জাতীয়

সাহাবুদ্দীন আহম’দ: ম্যাজিস্ট্রেট থেকে রাষ্ট্রপতি

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহম’দ ১৯৫৪ সালে কর্মজীবনের শুরুতে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পা’কিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। এরপর তিনি মহকুমা কর্মক’র্তা এবং অ’তিরিক্ত জে’লা প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬০ সালের জুনে তাকে বিচার বিভাগে বদলি করা হয়। ১৯৮০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সাহাবুদ্দীন আহম’দকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারক নিয়োগ করা হয়। এরপর ১৯৯০ সালের ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

ওই বছরের (১৯৯০ সালের) ৬ ডিসেম্বর এরশাদবিরোধী গণ-আ’ন্দোলনের মুখে ব্যারিস্টার মওদুদ আহম’দ উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর তাকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর হুসেইন মুহম্ম’দ এরশাদ পদত্যাগ করলে ভা’রপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এ সময় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ছিলেন।১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর সাহাবুদ্দীন আহম’দ নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনা জে’লার কেন্দুয়া উপজে’লার পেমই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সাহাবুদ্দীন আহম’দ। তার পিতা তালুকদার রিসাত আহমেদ একজন সমাজসেবী ও এলাকায় জনহিতৈষী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সাহাবুদ্দীন ময়মনসিংহের নান্দাইলে তার বোনের বাড়িতে বড় হন। তার স্ত্রী’র আনোয়ারা বেগম। তিনি তিন কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানের জনক। তার জ্যেষ্ঠ কন্যা ড. সিতারা পারভীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। দ্বিতীয়া কন্যা সামিনা পারভীন একজন স্থপতি। তার পুত্র শি’বলী আহমেদ পরিবেশ প্রকৌশলী।

সাহাবুদ্দীন আহম’দ ১৯৪৫ সালে নান্দাইলের চন্ডীপাশা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৪৮ সালে কি’শোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজ থেকে আইএ পাশ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫১ সালে অর্থনীতিতে বিএ (অনার্স) এবং ১৯৫২ সালে আন্তর্জাতিক স’ম্প’র্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৪ সালে তদানীন্তন পা’কিস্তানি সিভিল সার্ভিসের (সিএসপি) প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি প্রথমে লাহোরের সিভিল সার্ভিস একাডেমি এবং পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জনপ্রশাসনে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তার কর্মজীবনের সূচনা। এরপর তিনি গোপালগঞ্জ ও নাটোরের মহকুমা কর্মক’র্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি সহকারী জে’লা প্রশাসক হিসেবে পদোন্নতি পান। এর পর ১৯৬০ সালে তিনি প্রশাসন হতে বিচার বিভাগে বদলি হন। তিনি ঢাকা ও বরিশালের অ’তিরিক্ত জে’লা ও দায়রা জজ হিসেবে এবং কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের জে’লা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে তাকে ঢাকা হা’ই’কো’র্টের রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

১৯৭২ সনের ২০ জানুয়ারি হা’ই’কো’র্টের বেঞ্চে তাকে বিচারক হিসেবে উন্নীত করা হয়। ১৯৭৩-১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারপর তাকে হা’ই’কো’র্টের বিচারপতি হিসেবে ফিরিয়ে আনা হয়। ১৯৮০ সনের ৭ ফেব্রুয়ারি তাকে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ঢাকা ল রিপোর্ট, বাংলাদেশ লিগ্যাল ডিসিশন এবং বাংলাদেশ কেস রিপোর্টসে সাহাবুদ্দীন আহম’দের প্রচুরসংখ্যক রায় প্রকাশ করা হয়। চাকরিস’ম্প’র্কিত, নির্বাচন নিয়ে কলহ, শ্রম ব্যবস্থাপনার স’ম্প’র্ক ইত্যাদি কেসে তার গৃহীত বিচারের রায় বহুল সমাদৃত হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ৮ম সংশোধনী স’ম্প’র্কিত মা’ম’লায় তার দেওয়া রায় যুগান্তকারী এবং বাংলাদেশের সংবিধানের পরিশোধনের পথ উন্মুক্ত করে দেয়।

বাংলাদেশের সাবেক এই রাষ্ট্রপতি এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি শনিবার (১৯ মা’র্চ) সকাল ১০ টা ২৫ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সাম’রিক হাসপাতা’লে মা’রা যান। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

সাহাবুদ্দীন আহম’দের স্ত্রী’ আনোয়ারা আহম’দ ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি মা’রা যান। তার বড় মে’য়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. সিতারা পারভিন ২০০৫ সালে যু’ক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে এক ম’র্মা’ন্তি’ক সড়ক দু’র্ঘ’ট’নায় মা’রা যান। ওই দু’র্ঘ’ট’নায় তার আরেক মে’য়ে শাহানা স্মিথের স্বামী গুরুতর আ’হত হয়ে পরের বছর মা’রা যান। শাহানা বর্তমানে যু’ক্তরাষ্ট্রেই রয়েছেন।

Back to top button