জাতীয়

ধ’র্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে পালিত হল শবে বরাত

ধ’র্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও এবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে কি’শোরগঞ্জ সদরসহ জে’লার ১৩ উপজে’লায় পালিত হল সৌভাগ্যের রজনী পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। ১৮ মা’র্চ (শুক্রবার) সন্ধ্যায় মাগরিব’র নামাজের পরপরই কি’শোরগঞ্জ জে’লার ম’স’জিদে ম’স’জিদে মু’সল্লিদের ঢল নামে। শুরু হয় ধ’র্মপ্রা’ণ মু’সলমানদের ইবাদত-বন্দেগি। সৃষ্টিক’র্তার রহমত পাওয়ার আশায় নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। পবিত্র লাইলাতুল বরাত রাতে শহরের কেন্দীয় ঐতিহাসিক শহীদী ম’স’জিদ, ঐতিহাসিক পাগলা ম’স’জিদ ও বায়তুল মাকছুদ জামে ম’স’জিদসহ জে’লার সব ম’স’জিদ গুলোতে রাতভর নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন হয়েছে।

আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কি’শোরগঞ্জের না’রী-পুরুষ-শি’শু-বৃদ্ধসহ সর্বস্থরের মু’সলিম সমপ্রদায় কোরআন তেলাওয়াত ও নফল নামাজ আদায় করেছেন। বাসা-বাড়িতেও রাতভর চলে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগি। মহিমান্বিত আজকের রজনীতে ম’স’জিদে ম’স’জিদে দেখা গেছে মু’সল্লিদের ভিড়। সেই সাথে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আত্মা’র মাগফিরাত কা’মনা করেন। মহিমান্বিত এ রাতে ধ’র্মপ্রা’ণ মু’সলমানরা বিগত জীবনের সব ভুল-ভ্রান্তি, পাপ-তাপের জন্য গভীর অনুশোচনা করে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। রোজা রাখা ও নফল নামাজ, জিকির-আজকার, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে বিনম্র প্রার্থনা করেন ভবিষ্যৎ জীবনে পাপ-পঙ্কিলতা পরিহার করে পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের জন্য।

এদিকে, কি’শোরগঞ্জের পু’লিশ সুপার মো: মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) বলেন, লাইলাতুল বরাতের পবিত্রতা রক্ষার্থে এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করার লক্ষ্যে কি’শোরগঞ্জে বি’স্ফো’রক দ্রব্য, আতশবাজি, পট’কাবাজি ও অন্যান্য ক্ষতিকারক দ্রব্য বহন এবং ফোটানো নিষিদ্ধ এবং শহরের সকল ম’স’জিদে যাতে ধ’র্মপ্রা’ণ মু’সলমানরা শান্তি পূর্ণ ভাবে ইবাদত-বন্দেগি করতে পারে সে জন্য নেওয়া হয়েছিল ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যাবস্থা।

প্রসঙ্গত, শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতই আমাদের কাছে ‘শবেবরাত’ হিসেবে পরিচিত। বিশ্বব্যাপী মু’সলিম সমপ্রদায়ের নিকট মহিমান্বিত এ রজনীকে আরবিতে বলে পবিত্র লাইলাতুল বরাত। আর ফারসীতে পবিত্র শবে বরাত, বাংলায় যার অর্থ সৌভাগ্যের রজনী। মহান আল্লাহ তায়ালা এ রাতে বান্দাদের জন্য তার অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। লাইলাতুল বরাতের বরকত, ফজিলত ও ম’র্যাদা নিয়ে বেশকিছু হাদিসের বর্ণনা প্রচলিত আছে। একটি সহিহ হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা মধ্য শাবানের রাতে তার সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করে দেন।

আটজন সাহাবীর সূত্রে বিভিন্ন সনদে এ হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে। এ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করেন ঐতিহাসিক পাগলা ম’স’জিদের খতীব হযরত মা’ওলানা আশরাফ আলী। দেড় ঘন্টার বয়ান ও ১ ঘন্টার মোনাজাতে তখন ম’স’জিদের ভিতরে, বাইরে আমিন আমিন ধর্নিতে মূখর হয়ে পড়ে। তখন মনে হচ্ছিলো যে কা’ন্নার সাগর ভেশে যাচ্ছে। ছোট, বড়সহ সব বয়সের মু’সলমানরা আল্লাহ তায়ালা কাছে ক্ষমা পার্থনা করেন।

আশরাফ আলী হুজুরের সংক্ষিপ্ত বয়ানে তিনি বলেন, হ’জরত আবু মু’সা আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা অর্ধ শা’বানের রাতে তাঁর সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন এবং মুশরিক ও মুশাহিন (বিদ্বেষপোষণকারী) ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ সুতরাং মধ্য শা’বানের রাত বা শবে বরাত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ক্ষমা’র এক বিশেষ সুযোগ এতে স’ন্দেহ নেই। কিন্তু আমাদের সমাজের এক শ্রেণির মানুষ অ’জ্ঞা’তাবশত এ রাত নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে করতে একে ‘ভাগ্য রজনী’ মনে করেন যা সম্পূর্ণ হাস্যকর। এ রাতে হায়াত, মওত, রিজিক ইত্যাদি নির্ধারণ করা হয় এ ধারণা কোরআন হাদিসের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চই আমি একে (পবিত্র কোরআন) এক মুবারক রজনীতে অবতীর্ণ করেছি, আমি তো সতর্ককারী। এ রাতেই প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়।

তিনি আরো বলেন, উল্লিখিত হাদিসে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, মধ্য শা’বানের রাতে ক্ষমা পাওয়ার জন্য শর্ত হলো অন্তরকে শিরক ও হিং’সা-বিদ্বেষ থেকে খলি করা। কেউ যদি সারারাত নফল নামাজ পড়ে কিন্তু তার অন্তরকে এ দু জিনিস থেকে মুক্ত না করে তাহলে সে ক্ষমা’র অন্তর্ভূক্ত হবে না। আবার কেউ যদি এ রাতে কোনো নফল নামাজ নাও পড়ে, কিন্তু তার অন্তরকে শিরক ও হিং’সা বিদ্বেষ থেকে মুক্ত করে তাহলে হাদিস অনুযায়ী তার ক্ষমা পাওয়ার আশা আছে। এই পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো আল্লাহ তাআলার সঙ্গে কাওকে শরিক করা। আর শবেবরাতের হাদিসে সেই শিরকের সঙ্গেই হিং’সা-বিদ্বেষকে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আল্লাহ তাআলার দরবার থেকে ক্ষমা পেতে হলে প্রতিটি মু’সলমানের উচিত তার অন্তরকে শিরকমুক্ত করা এবং তার আত্মীয়-স্বজন, ভাইবোন, প্রতিবেশী কিংবা যে কারও প্রতি অন্তরে হিং’সা-বিদ্বেষ বা অমঙ্গল কা’মনা থাকলে তা থেকে অন্তরকে মুক্ত করা। সেই ভাইয়ের কল্যাণ কা’মনা করে আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করা। সব ধরণের শিরক ও হিং’সা-বিদ্বেষ থেকে মুক্ত হোক আমাদের অন্তর। আল্লাহ যেন আমাদেরকেও ক্ষমা’র চাদরে আবৃত করে নেন….আমিন।

Back to top button