জাতীয়

যে কারণে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় ব্যক্তিকেই চায় আওয়ামী লীগ

আগামী এক বছরের কম সময়ের মধ্যেই নতুন একজন রাষ্ট্রপতিকে মনোনয়ন দিতে হবে আওয়ামী লীগ সরকারকে। নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা। পঁচাত্তর পরবর্তী সময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তিনজনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচন করেছেন। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালে প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন সদ্য প্রয়াত বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহম’দ। তিনি একজন দল নিরপেক্ষ ব্যক্তি ছিলেন। রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় তিনি দলের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করেছেন এবং কোন কোন সময় দলকে কিছুটা হলেও বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছেন। কাজেই, ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে এবং তারপর আওয়ামী লীগ তাদের প্রবীণ পরীক্ষিত বর্ষীয়ান নেতা জিল্লুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করে। জিল্লুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়ে মৃ’ত্যুবরণ করেন। এরপর স্পিকার আব্দুল হামিদকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়। আব্দুল হামিদ প্রায় ৯ বছর ধরে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী একজন রাষ্ট্রপতি অনধিক দুইবার এই সাংবিধানিক পদে থাকতে পারেন। সে হিসেবে আগামী বছরের এপ্রিলে আব্দুল হামিদের রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হবে। আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ব্যাপারে দলীয় ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে আগ্রহী বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিশেষ করে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদকে প্রথম মেয়াদে রাষ্ট্রপতি দেওয়ার পর আওয়ামী লীগের যে তিক্ত অ’ভিজ্ঞতা হয়েছে, সেই তিক্ত অ’ভিজ্ঞতা থেকে আওয়ামী লীগ দলীয় ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দিতে চায়। ের পেছনে আওয়ামী লীগের অ’তীতের অ’ভিজ্ঞতা এবং বিশ্বা’স ভঙ্গের আবেগ কাজ করে বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন।

যদিও রাষ্ট্রপতি একজন দল নিরপেক্ষ ব্যক্তি। যিনি যখন রাষ্ট্রপতি হন তখন তিনি দলীয় সব পদ থেকে পদত্যাগ করেন। কিন্তু তারপরও তার দলীয় আনুগত্য একটি বড় বিষয়। বিচারপতি সাহাবুদ্দীন ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর একটা নিরপেক্ষতার বাতাবরণ তৈরি করেছিলেন এবং কারণে-অকারণে সরকারের নানা সমালোচনা করেছিলেন। সেদিক থেকে জিল্লুর রহমান রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন সর্বজন গ্রহণযোগ্য একজন বর্ষীয়ান নেতা হিসেবে এবং তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে সকল রাজনৈতিক দলের সম্মান এবং শ্রদ্ধা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। একইভাবে আব্দুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং আস্থাশীল একজন ব্যক্তি হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছেন। কাজেই প্রবীণ এবং পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ রাষ্ট্রপতি পদে থাকলে তিনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনেক বিচক্ষণতার পরিচয় দেন বলেন আওয়ামী লীগ মনে করে। আর সে কারণে আগামী রাষ্ট্রপতি হিসেবে আওয়ামী লীগ সবসময় দলীয় ব্যক্তিকেই বিবেচনা করবে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির আপাত কোন ক্ষমতা না থাকলেও নির্বাচনকালীন সময় রাষ্ট্রপতি অনিবার্যভাবে ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন। প্রতিটি নির্বাচনের সময় দেখা গেছে যে, রাষ্ট্রপতি ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন। বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ যখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিচারপতি লতিফুর রহমান হয়েছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান। কিন্তু ওই সময়ে রাষ্ট্রপতির প্রচুর ক্ষমতা ছিলো এবং যে ক্ষমতাগুলোকে তিনি আওয়ামী লীগবিরোধী কাজে ব্যবহার করেছিলেন।

আবার ২০১৪ সালের নির্বাচনে আব্দুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তিনি একটি নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তি বজায় রেখেছিলেন। একইভাবে ২০১৮ সালের নির্বাচনও আব্দুল হামিদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যে সময়ে রাষ্ট্রপতি তার নিরপেক্ষ অবস্থানকে অটুট রেখেছেন। এবার রাষ্ট্রপতি হবেন আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, ঠিক নির্বাচনের এক বছরেরও কম সময়ের আগে। কাজেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে একজন দলীয় ব্যক্তিকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেবে বলে একাধিক সূত্র মনে হচ্ছে।

Back to top button