জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে পটুয়াখালীতে খুশির জোয়ার

পটুয়াখালী কলাপাড়ার ধানখালীতে নির্মিত পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবারের এ সফরে তিনি একটি জাতীয় পর্যায়ের সুধী সমাবেশে যোগদান করবেন।

এছাড়া বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নেরও ঘোষণা দেবেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বইছে খুশির জোয়ার। জে’লার সব সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর, মেগা প্রকল্প এবং উন্নয়ন প্রকল্প সমূহকে সাজানো হয়েছে বাহারি রংয়ের পতাকা, আলোকসজ্জা ও ব্যানার ফেস্টুন।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে চলছে সার্বিক প্রস্তুতি। সুধী সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মক’র্তারা উপস্থিত থাকবেন।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ বিনিয়োগে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিপিসিএল) মালিকানায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নামে তৈরি হয়েছে। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রকল্পের প্রথম অংশে ৬৬০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট (মোট ১ হাজার ৩২০) মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে; যা সর্বাধুনিক আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযু’ক্তি ব্যবহার করে নির্মাণ হয়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।এছাড়া এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ দ্বিতীয় দেশ হিসেবে অ’ত্যাধুনিক ঢাকনাযু’ক্ত কোলডোম ব্যবহার করেছে যার কারণে পরিবেশের ওপর কোনো প্রকার বিরূপ প্রভাব ফেলবে না। পাশাপাশি প্রকল্পের ২য় অংশে আরও ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে; যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বর নাগাদ শেষ হবে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এতে জাতীয় গ্রিডে পায়রা থেকে মোট ২৬৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যু’ক্ত হবে।

পটুয়াখালী পৌরসভা’র মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আম’রা খুবই আনন্দিত ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উদ্বোধন হলে পটুয়াখালীর মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে। আম’রা প্রধানমন্ত্রীর আসার অ’পেক্ষার প্রহর গুনছি।

পটুয়াখালী জে’লা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমেদ মৃধা বলেন, ক’রো’নাভাই’রাসের কারণে দীর্ঘ দুই বছর প্রধানমন্ত্রীকে কোথাও তেমন যেতে দেখিনি। এর মধ্যে ২১ মা’র্চ প্রধানমন্ত্রী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আসবেন শুনে আম’রা আনন্দিত। তার এ আগমনকে স্বাগত জানাই। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে একটি উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

পটুয়াখালীর পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক শাহ আব্দুল মা’ওলা বলেন, ২০২০ সালের ১৫ মে থেকে পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ম ইউনিট উৎপাদন শুরু করে এবং ওই বছরের ডিসেম্বরে দুটি ইউনিটে মোট ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা লাভ করে। তবে সঞ্চালন লাইন নির্মাণ না হওয়ায় এখন একটি ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। তবে এ বছরের ডিসেম্বর নাগাদ জাতীয় গ্রিডে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের পুরোটাই সরবরাহ করা যাবে। প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১ মা’র্চ এ প্রকল্পের উদ্বোধন করার সম্মতি দিয়েছেন।

পটুয়াখালী জে’লা প্রশাসক মোহাম্ম’দ কা’মাল হোসেন বলেন, আগামী ২১ মা’র্চ প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালীতে আসবেন। আম’রা বড় সৌভাগ্যবান যে দীর্ঘ দুই বছর পর সশরীরে আম’রা তাকে পাচ্ছি। প্রোগ্রামের যে কর্মসূচি রয়েছে তাতে প্রধানমন্ত্রী ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র শুভ উদ্বোধন করবেন এক্ষেত্রে সুধীজনদের সঙ্গে এক মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি নির্বাচনের যে ইশতেহার রয়েছে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার সে ক্ষেত্রে সারা দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা করবেন।

তিনি আরও বলেন, ২১ তারিখের সুধী সমাবেশে মন্ত্রিপরিষদের ২০ এর অধিক সদস্য ও ৩০ জনের অধিক সচিব আসবেন। পাশাপাশি বিদেশি মেহমানরা উপস্থিত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের সব ধরনের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে।উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০ পরিবারের জন্য নির্মিত আবাসন প্রকল্প ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ উদ্বোধন করেছিলেন। সে সময় প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০ পরিবারের মাঝে বাড়ির চাবি হস্তান্তর করেছিলেন।

 

Back to top button