জাতীয়

শ্যালক, ভাইবোনের সঙ্গে গৃহকর্মীকেও বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দিয়েছেন ভিসি

এবার রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযু’ক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে উপাচার্য রফিকুল ই’স’লা’ম সেখের বি’রু’দ্ধে অনিয়ম ও দু’র্নী’তির অ’ভিযোগটি ত’দ’ন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স’ম্প’র্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গতকাল রবিবার ২০ মা’র্চ জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির ১৫তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া রুয়েটের উপাচার্যের বি’রু’দ্ধে অনিয়ম ও দু’র্নী’তির অ’ভিযোগ নিয়ে কমিটির সদস্যরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এর আগে রুয়েটের বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে উপাচার্যের বি’রু’দ্ধে অনিয়ম ও দু’র্নী’তির অ’ভিযোগে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। সেখানে বলা হয়, রুয়েটের উপাচার্য রফিকুল ই’স’লা’ম সেখ স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে শ্যালক, দুই ভাই, স্ত্রী’র ফুফাতো ভাই, চাচাতো বোন, গৃহকর্মী ও তার স্বামীসহ স্বজনদের কর্মক’র্তা-কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বলে অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় এসব নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু ওই সভা’র কোনো রেজল্যুশন করা হয়নি। উপাচার্যের দাবি, তিনি নিয়োগ বোর্ডে ছিলেন না। যোগ্যতা অনুযায়ী পরীক্ষা দিয়ে তারা চাকরি পেয়েছেন। নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ছাড়াও উপাচার্যের বি’রু’দ্ধে নীতিমালার বাইরে নিয়োগ দেওয়ারও অ’ভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ একজন চাকরিপ্রত্যাশী আ’দা’লতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

অ’ভিযোগ উঠেছে, উপাচার্যের স্ত্রী’র ফুফাতো ভাই মেহেদী হাসানকে ‘কেয়ারটেকার’ পদে, চাচাতো বোন মাছুমা খাতুনকে ‘ডেটা এন্ট্রি অ’পারেটর’ পদে, কাজের মে’য়ে লাভলী আরার স্বামী এনামুল হককে ‘উপাচার্যের গাড়িচালক’ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। জুনিয়র সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যের ভাই লেবারুল আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ছিলেন।

এদিকে রুয়েট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে তিনটি বি’জ্ঞ’প্তির মাধ্যমে রুয়েটে বিভিন্ন পদে ১৩৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই নিয়োগে বি’জ্ঞ’প্তিতে পদের চেয়ে বেশি জনবল নিয়োগ দেওয়ার অ’ভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ৪ মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় ওই নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু এখনও নিয়োগের রেজল্যুশন করা হয়নি। চলতি বছরের জুলাইয়ে উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই পরবর্তী চার বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছিলেন উপাচার্য রফিকুল ই’স’লা’ম সেখ।

তাছাড়া স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের কয়েকজনের কথাবার্তায় গরমিল পাওয়া যায়। জুনিয়র সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ পাওয়া লেবারুলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি উপাচার্যের ভাই, সেটা স্বীকার করেছেন। তবে আরেক ভাই মুকুলের সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জানি না তো।’

এ ব্যাপারে ডেটা এন্ট্রি অ’পারেটর মাছুমা উপাচার্যের চাচাতো বোন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপাচার্য তার কোনো আত্মীয় নন। অ্যাসিস্ট্যান্ট কুক পদে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যের বাসভবনের গৃহকর্মী লাভলী আরা ফোন ধরেন। কিন্তু নিয়োগের প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি ফোন রেখে দেন। অন্যদের ফোন নম্বর না পাওয়ায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে মুকুল ও লেবারুল নিজের আপন ভাই বলে স্বীকার করেছেন পাচার্য রফিকুল ই’স’লা’ম সেখ। মাছুমা তার চাচাতো বোন। কেয়ারটেকার মেহেদী তার স্ত্রী’র ফুফাতো ভাই কি না জানতে চাইলে তিনি ‘আত্মীয়’ বলে স্বীকার করেন। রফিকুল ই’স’লা’ম সেখ বলেন, লেবারুল আপন ভাই। তবে সে আগে থেকে রুয়েটে কর্ম’রত। সে উপাচার্যের ভাই হিসেবে পদোন্নতি পায়নি। আলাদা নিয়োগ বি’জ্ঞ’প্তি প্রকাশ হলে সে পরীক্ষা দিয়ে জুনিয়র সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ পেয়েছে।

তিনি জানান, যোগ্যতা থাকায় তারা সবাই পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন। সেই নিয়োগ বোর্ডেও তিনি ছিলেন না। তাছাড়া স্বচ্ছতার জন্য নিয়োগ পরীক্ষার খাতা কোডিং করা হয়েছিল, যাতে কোনো প্রার্থীর খাতা কোনটি, তা যেন পরীক্ষক বুঝতে না পারেন। নিয়োগের রেজল্যুশন না করার ব্যাপারে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, রেজল্যুশনের চেয়ে বড় কথা হলো, সিন্ডিকে’টে নিয়োগ অনুমোদন হয়ে গেছে।

এদিকে নিয়োগ বি’জ্ঞ’প্তিতে ‘উপসহকারী প্রকৌশলী’ পদের যোগ্যতা হিসেবে অনুমোদিত কারিগরি শিক্ষা বোর্ড বা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকৌশলে ডিপ্লোমা ডিগ্রি চাওয়া হয়। কিন্তু সেই পদে স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে একজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে রুয়েট শাখার ডিপ্লোমা প্রকৌশল সমিতি গত ২২ জানুয়ারি এবং ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রুয়েট উপাচার্যকে লিখিত আ’প’ত্তি জানানো হয়। এ ছাড়া রায়হান ই’স’লা’ম নামের সংক্ষুব্ধ একজন চাকরিপ্রার্থী হা’ই’কো’র্টে একটি রিট আবেদন করেছেন।

এ ব্যাপারে রায়হান বলেন, ‘হা’ই’কো’র্ট এ বিষয়ে একটি আদেশ দিয়েছেন। সেটি এখনও রুয়েট কর্তৃপক্ষের হাতে এসে পৌঁছায়নি।’ এ বিষয়ে উপাচার্য রফিকুল ই’স’লা’ম সেখ বলেন, বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন একজন প্রকৌশলী আবেদন করেছিলেন। তাকে তারা নিয়েছেন। তিনি আগে থেকেই রুয়েটে কর্ম’রত ছিলেন।

Back to top button