জাতীয়

টিসিবির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণে অর্থ আদায়ের অ’ভিযোগ

বরগুনার বেতাগীতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য ক্রয়ের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে আদায় করার অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে কার্ড বিতরণের সময় এমন অ’ভিযোগ করেন উপজে’লার হোসনাবাদ ইউনিয়নের জনসাধারণ।

ভুক্তভোগীদের অ’ভিযোগ- ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশে উপজে’লার সাতটি ইউনিয়নের প্রত্যেক ইউপি সদস্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণকালে জনপ্রতি কার্ডে ১০০ টাকা আদায় করেছেন। তবে এমন অ’ভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যানরা।

টাকা আদায়ের কারণ জানতে চাইলে ভুক্তভোগীদের ইউপি সদস্যরা বলেন, অফিসের খরচ আছে এবং এই কার্ড স্থায়ী করে দেওয়া হবে।

জানা যায়, টিসিবির আওতায় সারা দেশে নিম্নআয়ের প্রায় এক কোটি ফ্যামিলি কার্ডে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে বেতাগী উপজে’লার পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নে সুবিধাভোগী কার্ড পেয়েছেন ৭ হাজার ৮৮১ জন। তবে উপজে’লার প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে প্রতিটি কার্ড বিতরণের সময় কাগজপত্র গোছানো, ফরম পূরণ ও অফিস খরচের নাম করে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে বেতাগী সদর ইউনিয়ন, বিবিচিনি, হোসনাবাদ, মোকা’মিয়া, বুড়ামজুম’দার ও সরিষামুড়ি ইউনিয়নের বিতরণ করা কার্ডে শতভাগ টাকা আদায় করা হয়েছে।

সারা দেশে চাল, ডাল, তেল ও চিনিসহ নিত্যপণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ১ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে সরকার। এই কার্ড দিয়ে একটি পরিবার দুই দফায় ১১০ টাকা দরে দুই লিটার সয়াবিন তেল, ৫৫ টাকা দরে দুই কেজি চিনি, ৬৫ টাকা দরে দুই কেজি মসুর ডাল ও ৩০ টাকা কেজি দরে পাঁচ কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারবে। প্রথম ধাপের কার্যক্রম চলবে ৩১ মা’র্চ পর্যন্ত। আগামী ৩ এপ্রিল শুরু হবে দ্বিতীয় ধাপের বিক্রি কার্যক্রম।

ভুক্তভোগী মোশারেফ, শহিদ, পনু, হাসান জানান, স্বল্পমূল্যে পণ্য কিনতে এসে যদি ঘুস দিতে হয় তবে আমাদের কী লাভ হলো। প্রত্যেক ইউপি সদস্য টাকা নিচ্ছেন। তারা বলছেন ফরম পূরণ করতে হয়েছে, কাগজপত্র গুছাতে হয়েছে অফিস খরচ আছে। এমনই যদি হয় তবে আমাদের উপকার হলো কি? পণ্যের দাম আর ঘুসের টাকা মিলিয়ে তো দোকান থেকেই ক্রয় করা যেত।

হোসানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ইউপি সদস্য বলেন, ১০০ টাকা নিয়েছে তাতেও মেম্বারদের লোকসান হবে। কারণ কাগজ ফটোকপি, ফরম পূরণ করতে টাকা লাগছে। এছাড়া টাকা কে নিতে বলেছে আমা’র জানা নেই।হোসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান খান বলেন, আমি স্টেশনে নেই। তবে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পরিষদে এসে সব ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা বলে টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করব।

বেতাগী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হু’মায়ন কবির খলিফা বলেন, এত নিষেধ করার পরও ইউপি সদস্যদের টাকা খাওয়া ফেরাতে পারি না। এই টাকা উত্তোলনের ব্যাপারে কিছু জানি না।বেতাগী উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, টিসিবির কার্ড প্রদানে সুবিধাভোগীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অ’ভিযোগের প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Back to top button