জাতীয়

চাতা’লে কাজ করার সময় প’র’কীয়ায় জড়ায় রীমা

ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে দুই সন্তানকে মিষ্টির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হ’ত্যার ঘটনায় গ্রে’প্তা’র হওয়া ওই দুই শি’শুর মা রীমা বেগম আ’দা’লতে জবানব’ন্দি দিয়েছে। তার দেয়া জবানব’ন্দিতে জানা যায়, চাল কলের চাতা’লে কাজ করার সময় সফিউল্লাহ’র সঙ্গে প’র’কীয়া প্রে’মে জড়ায় সে। প’র’কীয়া থেকে সন্তানদের হ’ত্যার পরিকল্পনা করে দু’জন।

এতে রীমা আরও জানিয়েছে, চাতা’লে কাজ করার সময় চাল কলের শ্রমিক সফিউল্লাহ’র সঙ্গে প্রে’মের স’ম্প’র্কে জড়িয়ে পড়ে। চাতাল কলের সরদার সফিউল্লাহ তাকে সুন্দর জীবনের লো’ভ দেখাতো। তাদের মধ্যে শা’রীরিক স’ম্প’র্ক গড়ে উঠেছিল। এক হোটেলে তারা ৭ দিন ছিল। এমন কি যখন দুই সন্তানকে সে মিষ্টির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হাসপাতা’লে নিয়ে গিয়েছিলো তখনো সফিউল্লাহ হাসপাতা’লে গিয়েছিলো।

গত ১০ই মা’র্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজে’লার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের ইসমাঈল হোসেনের দুই ছে’লে ইয়াছিন ও মোরসালিন নাপা সিরাপ খেয়ে মা’রা যায় বলে নি’হ’তদের মায়ের পক্ষ থেকে অ’ভিযোগ তোলা হয়। পরে ওই দুই শি’শুর মায়ের কথাবার্তায় স’ন্দেহ হলে গত ১৬ই মা’র্চ পু’লিশ তাকে হেফাজতে নেয়। গত বৃহস্পতিবার (১৭ই মা’র্চ) সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেটের দ্বিতীয় আ’দা’লতে রীমা স্বীকারোক্তি দেয়।

জবানব’ন্দিতে রীমা জানিয়েছে যে, আমা’র মা আমা’র অজান্তে ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করেছিল। বিয়ের পর দেখি যে, ইসমাইলের দুই চোখেই দৃষ্টি নেই। কোনো কাজকর্ম করতে পারে না। বিয়ের ১৫ দিন পর আমি আমা’র বাপের বাড়িতে চলে যাই এবং মাকে বলি যে, আমি ইসমাইলের সঙ্গে সংসার করবো না। তখন আমা’র মা আমাকে বলে যে, সংসার চালানোর চেষ্টা করো’। মায়ের কথায় আমি তার সঙ্গে সংসার চালানো শুরু করি। এরপর ইসমাইলের বাড়িতে গেলে ইসমাইলের বাবা-মা, ভাই-ভাবি আমা’র সঙ্গে খা’রা’প আচরণ শুরু করে এবং আমাদের আলাদা হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। ভাগে আমা’র স্বামী তার পিতার কাছ থেকে আধা শতাংশ জমি পায়। সে জমি বিক্রি করে দিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাই। বিয়ের এক বছরের মা’থায় আমি চাল কলে কাজ করা শুরু করি।

জবানব’ন্দিতে আরও বলে, চাল কলে কাজ করার সময় সফিউল্লাহ’র সঙ্গে পরিচয় হয়। আমি তাকে মামা বলে ডাকতাম। চাল কলে কাজ করার সময় আরেক মিলের আরেক মহিলা কর্মী আনু মালার মাধ্যমে সফিউল্লাহ তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু, আমি তখন না করে দেই। কারণ আমা’র দুই সন্তান আছে। সফিউল্লাহ আমাকে আরও দুইবার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। সে আমাকে সুন্দর জীবনের লো’ভ দেখায়।

একটানা সাত দিন বিশ্বরোডের আবাসিক হোটেলে আম’রা ছিলাম। সে আমাকে মাঝে মধ্যে উপহার প্রদান করতো।
জবানব’ন্দিতে সে আরও জানায়, চাল কলে কাজ করার সময় ওই কলের শ্রমিকদের সর্দার (সোফাই সর্দার) সফিউল্লাহ’র সঙ্গে স’ম্প’র্ক তৈরি হয়। আমি আমা’র শাশুড়ির ফোন ব্যবহার করে সফিউল্লাহ’র সঙ্গে কথা বলতাম। গত ৭ তারিখে (সোফাই) সফিউল্লাহ আমাকে ফোন করে বলে যে, আমা’র বিয়ের প্রস্তাবে তুমি রাজি কিনা। তখন তাকে আমি আমা’র দুই পুত্র নিয়ে অস্বস্তির কথা বলি। তখন সে বলে যে, পথের কাঁ’টা কীভাবে দূর করতে হয় তা আমি জানি। গত ১০ তারিখে সে আমাকে ফোন দিয়ে একটি পলিথিনে মিষ্টি দিয়ে যায়।

জবানব’ন্দিতে রীমা আরও জানায়, সে আমাকে বলে যে, মিষ্টি খাইয়ে দিলেই পথের কাঁ’টা দূর হয়ে যাবে। একটু পরেই সফিউল্লাহ তার শাশুড়িকে ফোন করে এবং তার বিলের ২০০ টাকা তাকে দেয়। শাশুড়ি বাড়িতে ফিরে আসার পর আমি আমা’র দুই ছে’লের জন্য নাপা সিরাপ কিনতে তাকে ফার্মেসিতে পাঠাই। আমা’র শাশুড়ি সিরাপ কিনতে যাওয়ার সময় সফিউল্লাহ’র পূর্ব পরাম’র্শে দুই শি’শুকে বিষ মেশানো মিষ্টি খাইয়ে দেয়। আমা’র শাশুড়ি ৫ মিনিট পর নাপা সিরাপ নিয়ে আসে। পরে তাদের দুইজনকে আধা চামচ করে খাওয়াই যাতে সবাই মনে করে যে, ওষুধের ঝামেলার কারণে দুই সন্তান মা’রা গেছে। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর বাচ্চারা বমি করা শুরু করে। আমি তাদের দুইজনের মা’থায় পানি ঢালা শুরু করি। পরে তখন পাশের মইনুল ডাক্তারের দোকানে নিয়ে গেলে সে উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে বললে সেখানে নিয়ে যাই। সেখানে তাদের অক্সিজেন দেয়া হলে কিছুটা সুস্থ হয়। চিকিৎসকদের বলি যে, তাদের দুইজনকে নাপা সিরাপ খাওয়ানো হয়েছে। পরে তাদের জে’লা সদর হাসপাতা’লে পাঠানো হয়।

রীমা আরও জানায়, সেখানকার চিকিৎসকেরা দুই বাচ্চাকে বাসায় নিয়ে ট’ক জাতীয় জিনিস খাওয়ানোর পরাম’র্শ দেন। দুই ছে’লেই বাড়িতে যাওয়ার বায়না ধরে। সফিউল্লাহও হাসপাতা’লে ছে’লেদের দেখতেও গিয়েছিল। পরে একটি সিএনজিতে করে বিশ্বরোধ মোড়ে আসলে ছোট ছে’লে পানি চাইলে তাকে পানি দেয়া হয়। তখন সে পানি খেয়ে নীরব হয়ে যায়। তখন বুঝলাম যে, সে মা’রা গেছে। বাসায় এসে বড় ছে’লেকে শোয়ানো হলে তার শরীর নিথর হয়ে যায়। ঘটনার পর বাড়িতে মেম্বার ও চেয়ারম্যান ও পু’লিশ আসে। তাদেরকে বলি যে তারা নাপা সিরাপ খেয়ে মা’রা গেছে। পু’লিশ আমা’র নম্বর নেয়। ‘আইনের লোক ফোন নম্বর নেয়ার পর আমা’র ভেতরে চিপা ধরে যায়। আমি ও সোফাই (সফিউল্লাহ) এ সন্তানের হ’ত্যাকা’ণ্ড ঘটিয়েছি। আমা’র সহকর্মী শ্রমিক আনু মালাও জানতো না। আমি সুন্দর জীবনের লো’ভে জেনে বুঝে আমাদের সন্তানকে হ’ত্যা করেছি।

উল্লেখ্য, গত ১৩ই মা’র্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে দুই শি’শু ইয়াসিন ও মুরসালিনের মৃ’ত্যু হয়। মৃ’ত্যুর পর প্রচার করা হয় নাপা সিরাপ খেয়ে শি’শু দুটির মৃ’ত্যু হয়েছে। এ নিয়ে স’ন্দেহ তৈরি হওয়ায় শি’শু দুটির মা রীমাকে আ’ট’ক করে পু’লিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রীমা শি’শু দুটিকে মিষ্টির সঙ্গে মিশিয়ে বিষ খাওয়ানোর কথা স্বীকার করে।

Back to top button