জাতীয়

মাহফিলের অগ্রিম টাকা নেওয়ার বিষয়ে যা বললেন তাহেরি

সিলেটের বালাগঞ্জের পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মাঠের ওয়াজ মাহফিলের জন্য অগ্রিম টাকা গ্রহণ কিংবা দাওয়াত গ্রহণের কথা অস্বীকার করেছেন বহুল আ’লো’চি’ত-সমালোচিত মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরি।

মঙ্গলবার (২২ মা’র্চ) রাতে তিনি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন।তাহেরি তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন- ‘আজকে দিনের বেলা একটি ফেসবুক লাইভ ও ই’স’লা’মী সুন্নী মহা সম্মেলনের একটি পোস্টার আমা’র নজরে এসেছে, উক্ত লাইভে আমাকে নানাভাবে দোষারোপ করে কথা-বার্তা বলা হয়েছে। পোস্টগুলোতে মানহানিকর কথা বলা হয়েছে। যা কখনও কা’ম্য নয়, আমি দৃঢ়চিত্তে বলতে চাই, আমাকে দাওয়াত না দিয়ে মাহফিল কমিটি প্রতারণামূলকভাবে আমা’র নাম পোস্টারে ব্যবহার করেছে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘প্রতারণামূলকভাবে পোস্টারে আমা’র নাম ব্যবহার করে লক্ষ মানুষের কাছে আমাকে অ’পমান করেছে। আবার ফেসবুক আইডিতে লাইভ করে মানহানিকর কথা বলছে। আমি কখনো দাওয়াত রাখলে মিস করি না, ওই মাহফিলের কমিটির লোকজনকে চ্যালেঞ্জ করছি তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারবে না, আমি কখনো দাওয়াত নিয়েছি। যদি কোনো প্রতারক আমা’র নাম ব্যবহার করে কোনো প্রতারণা করে সেটার জন্য আমি দায়ী নই, সংশ্লিষ্টরা দায়ী। আমা’র সঙ্গে কখনো মাহফিল কমিটি যোগাযোগ করে নাই।’

এক সাংবাদিকের মাধ্যমে এই খবর জেনেছেন দাবি করে তাহেরি আরও লিখেছেন- ‘কে বা কারা আমা’র নামে প্রোগ্রাম দিয়ে ৩৩ হাজার টাকা নিয়েছে। তাই উক্ত মাহফিল কমিটি প্রতারণাকারী ও ফেসবুক লাইভের বি’রু’দ্ধে আগামীকাল (বুধবার) সাইবার আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’

এর আগে মঙ্গলবার (২২ মা’র্চ) বালাগঞ্জের পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মাঠে এ মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন স্থানীয়রা। ওই মাহফিলটিতে প্রধান অ’তিথি হিসেবে গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরি আসার কথা ছিল। বিকেলের দিকে প্রধান অ’তিথি হিসেবে ওয়াজ মাহফিলে তার বক্তব্য রাখার কথা থাকলেও তিনি না আসায় মাহফিলজুড়ে হট্টগোল দেখা দেয়।

এ সময় আয়োজকদের পক্ষ থেকে মাহফিল মঞ্চের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জানানো হয়, ‘মাহফিলে আসা বাবদ তাহেরিকে অগ্রিম ৩৩ হাজার টাকাও বিকাশে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সকাল থেকেই তাহেরির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা মোবাইল ফোনে বারবার কল দিলে কেউ রিসিভ করেননি। ওয়াজের নির্ধারিত সময় পর্যন্তও কেউ কল রিসিভ করেননি, এমনকি কল ব্যাকও করেননি।’

টাকা নিয়ে তাহেরির না আসার বিষয়টি আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে মাহফিলের মাইকে জানিয়ে ওয়াজ শুনতে আসা মু’সল্লিদের কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়।এ সময় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তাহেরির বি’রু’দ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে তাহেরিকে পুরো সিলেটে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।

অ’ভিযোগের বিষয়ে জানতে তাহেরির মোবাইল নম্বরে কয়েকবার কল করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।এদিকে, ওই ওয়াজ মাহফিলে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে তাহেরিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি দেখে স্যোশ্যাল মিডিয়ায় তাহেরির বি’রু’দ্ধে সমালোচনার ঝড় বইছে।

Back to top button