জাতীয়

বিদ্যুৎ নিয়ে তারেকের ভবিষ্যদ্বাণী এবং বর্তমান বাস্তবতা

শতভাগ বিদ্যুতের যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। সেইসঙ্গে বিশ্বের ১৩তম আল্ট্রা-সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযু’ক্তি ব্যবহারকারী দেশে পরিণত হল ৫০ বছর বয়সী এই দেশটি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন তিনি। বাস্তবায়ন হয়েছে ‘সবার জন্য বিদ্যুৎ, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ’। দেশের প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ। নেই লোডশেডিংয়ের ভ’য়াবহ সেই য’ন্ত্র’ণা। শতভাগ বিদ্যুতায়নের মাইলফলক ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। এই বিষয়টি অকপটে স্বীকারও করছেন বিরোধী দলের অনেকেই। কারণ শতভাগ বিদ্যুতায়ন যে কতটা অসম্ভব সেটা তাদের কথা থেকেই বোঝা যায়। যেটা তারা হাজার চেষ্টাতেও করতে পারেন নি, সেই কাজটিই করে দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সম্প্রতি বিএনপি’র ভা’রপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেখানে তাকে বার বার বলতে শোনা যায় যে, শতভাগ বিদ্যুত দেওয়াটা কতটা কঠিন। সেখানে তারেক জিয়া বলেন, আমা’র অফিসেও দুইবার করে ডেইলি লোড শেডিং হয়। বাংলাদেশে বিদ্যুতের সমস্যা কবে ছিল না? বিদ্যুতের সমস্যা পেছনে কতগুলো প্র্যাকটিক্যাল জিনিস বুঝতে হবে। বাস্তবতার নিরিখে বোধহয় কিছু কিছু বিষয় বিবেচনা করা উচিত। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নর্মালি যেটা সচরাচর হয়ে থাকে যে, আম’রা সব সময় অ’পজিশনের ফেইলরটাকে দেখাই। তবে আমা’র মনে হয়, বাংলাদেশের মেজর রাজনৈতিক দল যারা আছে, তারা কিন্তু প্রত্যেকেই একবার করে হলেও দেশ পরিচালনা করে ফেলেছে। এরাই ঘুরেফিরে দেশ পরিচালনা করবে।

তিনি ওই ভিডিওতে বলেন, ওয়াল্ড ব্যাংক বলেছিল যে, কতগুলো বিষয় বোধহয় অ’প্রয়োজনীয়ভাবে মানুষের মধ্যে তৈরি না করাটাই বেটার। যেমন, বিদ্যুতের ব্যাপার। পেপারে বা খবরে শুনলাম যে নিউইয়র্কেও পাওয়ার ক্রাইসিস চলছে। যেখানে আ’মেরিকাকে ধ’রা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত দেশ। ইভেন পাশের দেশ ভা’রতেও পাওয়ার ক্রাইসিস চলছে। এরকম খুঁজলে আরো পাওয়া যাবে। পেট্রোলের দাম বাড়ার সাথে সাথে এনার্জির দামও বাড়ছে। আমাদের দেশে যেগুলো পাওয়ার স্টেশন আছে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক ব্যয়বহুল ব্যাপার। যদিও সবাই মিলে যদি চেষ্টা করা যায় তাহলে পাওয়ার ক্রাইসিস বহুলাংশে কন্ট্রোল করা সম্ভব।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে সন্ধ্যার পরে পরে আপনি বাসায়ও কারেন্ট চাচ্ছেন আবার সেইম টাইমে আপনি চাচ্ছেন শপিংমলগুলোতেও। শপিংমলগুলোতে সাধারণত দিনের বেলা কাস্টমা’র কম থাকে। দিনের বেলায় কাস্টমা’র কম থাকার ফলে সে একটা এয়ারকন্ডশনার চালাচ্ছে। সন্ধ্যার পরে যখন কাস্টমা’র আসছে, তখন একটার বদলে সে দুটি বা তিনটি চালিয়ে দিচ্ছে। কারণ কাস্টমা’র আসছে। লাইট যেখানে অর্ধেকের বেশি বন্ধ ছিল সেখানে সবগুলো লাইট জ্বলছে। একই সময়ে বাসা বাড়িতে এবং শপিংমলে বিদ্যুৎ দেওয়া কোনো সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয়। শুধু শুধু বলে তাে লাভ নেই। যদি সম্ভব হতো তাহলে লন্ডনে বা টোকিওতে বা নিউইয়র্কে তারা সন্ধ্যার পরে দোকানপাট বন্ধ করে দিতো না। চালু রাখতো তারাও। কিন্তু একই সময় ঘরে এবং বাহিরে চাওয়া হচ্ছে। সেই জায়গাতেই সমস্যা। পাঁচটার জায়গায় বিশটা লাইট জ্বালানো হচ্ছে। এগুলো তো সব কনজিউম করছে। আবার অর্ধেক লোক বাড়িতে রয়েছে। তারাও হয়তো ফ্যান চালাচ্ছে, লাইট জ্বালাচ্ছে, এয়ারকন্ডিশন চলছে, টিভি চলছে সব কিছু চলছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমান নিজেই স্বীকার করেছেন যে, শতভাগ বিদ্যুতায়ন কতটা ক’ষ্টসাধ্য একটি বিষয়, যেটি করে দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এই বক্তব্যে তিনি অকপটে এও স্বীকার করেছেন দেশ ভালো চলছে এবং দেশের মানুষ সুখে রয়েছে। শতভাগ বিদ্যুতের ফলে দেশে বিদ্যুতের সমস্যা দূর হয়েছে। যেখানে ২০০৯ সালে গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮ লাখ। গত ১৩ বছরে ৩ কোটি ১৩ লাখ বেড়ে বর্তমানে বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা হয়েছে ৪ কোটি ২১ লাখ। ২০০৯ সালে দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট, বর্তমানে এ ক্ষমতা ২৫ হাজার ৫১৪ মেগাওয়াট (ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্যসহ)। ২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছিল ২৭টি, বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ১৫০ টি। ১৩ হাজার ২১৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও ৩৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। ২০০৯ সালে বিদ্যুতের বিতরণ লাইন ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটার, বর্তমানে ৬ লাখ ২১ হাজার কিলোমিটার সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দুর্গম এলাকার মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনতে ৬০ লাখ সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। ফলে দেশে বিদ্যুতের দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। যেটা বলতে এখন দ্বিধা প্রকাশ করছেন না বিরোধী দলের নেতারাও।

Back to top button