জাতীয়

দুই রাষ্ট্রপতির স্মৃ’তিবিজ’ড়ি’ত সেই বাড়িটি এখন পরিত্যক্ত

কি’শোরগঞ্জের বাজিতপুর পৌরসভা’র বসন্তপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মো. মোস্তাফিজুর রহমান মস্তু মিয়ার পরিবার অন্যের বাড়িতে ভাড়া থাকে। ভিটেমাটি থাকলেও তাঁর বসতঘরটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে আছে অনেক দিন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ই’স’লা’মসহ জাতীয় বহু নেতার স্মৃ’তিবিজ’ড়ি’ত তাঁর সেই বসতঘরটি এখন পরিত্যক্ত।

মো. মোস্তাফিজুর রহমান মস্তু মিয়া ছিলেন রাষ্ট্রপতি আলহাজ মো. জিল্লুর রহমানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী।ছিলেন বাজিতপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতিও। তাঁর আপন ছোট ভাই লুৎফুর রহমান হেলাল ২৫ মা’র্চের কালরাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পা’কিস্তানি হানাদার বাহিনীর গু’লিতে ম’র্মা’ন্তি’কভাবে নি’হ’ত হন। শহীদ হেলালের নামে বসন্তপুরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের এ দুর্বিষহ অবস্থা মেনে নিতে পারছে না অনেকেই। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগের নেতারা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা সরকারের কাছে সহায়তা চেয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা মস্তু মিয়ার ছে’লে আশরাফুর রহমান লিমন প্রধানমন্ত্রীর কাছে খাসজমি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, ‘আম’রা দরিদ্রতার চরম কশাঘাতে অর্ধাহারে গৃহহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছি। ’

মুক্তিযু’দ্ধকালীন কাগজপত্র ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের চিঠি পেয়ে মস্তু মিয়া সেই মাসেই মুক্তিযু’দ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে ভা’রতে চলে যান। ওঠেন আসামের বালাটে বাংলাদেশ অফিসে। সেখানে প্রশিক্ষণ শেষে প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের তথ্য ও গণসংযোগ বিভাগে যোগ দেন।

পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লাল মুক্তিবার্তায় তাঁর নাম ওঠে। ক্রমিক নম্বর ০১১৭০৮০২৭৮। ২০০১ সালের ৩ মা’র্চ তিনি মা’রা যাওয়ার পর স্ত্রী’ রহিমা আক্তার মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর ভাতা পেতেন। ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে রহিমা আক্তারের মৃ’ত্যুর পর তাঁদের এক ছে’লের নামে ভাতা তোলা হচ্ছে।

পরিবার সূত্র জানায়, মস্তু মিয়া অ’সুস্থ হলে মো. জিল্লুর রহমান, মো. আবদুল হামিদ ও সৈয়দ আশরাফুল ই’স’লা’ম বাজিতপুর পৌর শহরের বসন্তপুরের বাড়িতে তাঁকে দেখতে যান এবং চিকিৎসা করাতে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সেই স্মৃ’তিবিজ’ড়ি’ত বাড়িটি এখন বসবাসের অযোগ্য। মস্তু মিয়ার বড় ছে’লে ওই ঘরের পাশে টিনের একচালা ছাউনিতে থাকেন। বাকি তিন ছে’লে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। অর্থাভাবে মূল ঘরটি তাঁরা সংস্কার করতে পারছেন না। ছে’লেদের কোনো সুনির্দিষ্ট পেশাও নেই।

উপজে’লা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক কাউন্সিলর রফিকুল ই’স’লা’ম গো’লাপ, উপজে’লা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সানোয়ার আলী শাহ সেলিম, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর মো. রাজু মিয়া প্রমুখ বলেন, দেশ ও দলের জন্য মস্তু মিয়ার সীমাহীন অবদান রয়েছে। তাঁর পরিবারের এরকম ক’ষ্ট-দুর্ভোগ মেনে নেওয়া যায় না। তাঁরা মস্তু মিয়ার পরিবারের জন্য বিশেষ সহায়তার দাবি করেন।

কি’শোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের আওয়ামী লীগের এমপি মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযু’দ্ধে ও দেশে মুক্তিযু’দ্ধের ধারার রাজনীতি ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে মো. মোস্তাফিজুর রহমান মস্তু মিয়ার অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ‘ তিনি খোঁজ নিয়ে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের জন্য কিছু একটা করবেন বলে আশ্বা’স দেন।

 

Back to top button