রাজনীতি

বিএনপিতে ইশরাক বিরোধী ষড়যন্ত্র

ইশরাক হোসেন প্রয়াত বিএনপির জনপ্রিয় নেতা সাদেক হোসেন খোকার পুত্র। সাদেক হোসেন খোকা বিএনপির রাজনীতিতে অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের মেয়র মোহাম্ম’দ হানিফের পর ঢাকার সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে সাদেক হোসেন খোকার নাম সমাদৃত ছিল। তিনি একদিকে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, অন্যদিকে গ্রহণযোগ্য রাজনীতিবিদ হয়েছিলেন, সকলের সঙ্গে একটা সুস’ম্প’র্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে তিনি প্রশংসিত হয়েছিলেন। রাজনীতিতে সহবস্থান এবং সহম’র্মিতার শেষ যুগের নেতা হিসেবে মনে করা হতো সাদেক হোসেন খোকাকে। এ কারণেই আওয়ামী লীগের অনেক নেতাও সাদেক হোসেন খোকাকে সম্মান করতো,

ভালোবাসতো। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরও সাদেক হোসেন খোকা দীর্ঘ সময় অখণ্ড সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় তাঁর ভূমিকা বিতর্কিত হওয়ার পরও বেগম খালেদা জিয়া তাকে দল থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেননি, বরং দলে রেখেছেন। কিন্তু তারেক জিয়ার আগ্রাসী রাজনীতির কারণে সাদেক হোসেন খোকা ক্রমশ রাজনীতির ওপর ত্যক্ত-বির’ক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি অ’সুস্থ হলে মা’র্কিন যু’ক্তরাষ্ট্রে চলে যান। কিন্তু সাদেক হোসেন খোকা সব সময়ই দল-মত নির্বিশেষে সকল রাজনীতিবিদদের মধ্যেই জনপ্রিয় ছিলেন।

সাদেক হোসেন খোকার মৃ’ত্যুর পর ঢাকার রাজনীতিতে বিএনপির এক ধরনের শূন্যতা দেখা দেয় এবং এই শূন্যতা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন সকলেই। কিন্তু সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময়ে বিএনপি চ’মক হিসেবে সাদেক হোসেন খোকার পুত্র ইশরাক হোসেনকে মনোনয়ন দেন। তরুণ এই নেতা বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে একটি জাগরণ তৈরি করেছিলেন বিএনপির মধ্যে। যদি নির্বাচনে তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেননি কিন্তু রাজনীতিতে ভবিষ্যতে তিনি যে টিকে থাকবেন এবং পিতার সম্মান রাখবেন, এরকম একটি সম্ভাবনা তিনি তৈরি করেছিলেন। সাদেক হোসেন খোকার পুত্র ইশরাক হোসেনের হাত ধরেই বিএনপির দক্ষিণ মহানগরী রাজনীতি কেন্দ্রীভূত হবে এবং তার নেতৃত্বে তরুণদের দ্বারা বিএনপি পুনর্গঠিত হবে,

এমনটিই প্রত্যাশা করেছিলেন অনেকে। আর নির্বাচনের পরও ইশরাক হোসেনকে রাজনীতিতে অ’ত্যন্ত তৎপর এবং সক্রিয় দেখা গিয়েছিল, দ্রুত দলের তৃণমূলের মাঝে তার জনপ্রিয়তাও বেড়ে গিয়েছিল। সকলে মনে করেছিলেন যে, ইশরাক হোসেনই হবেন ঢাকা মহানগরে বিএনপির আগামী দিনের নেতা। কিন্তু বিএনপিতে নতুন কমিটি যখন করা হয় তখন ইশরাক হোসেনকে বাদ দেওয়া হয়। এর ফলে তিনি অ’ভিমান করে কিছুদিন বিদেশে ছিলেন কিন্তু তার র’ক্তের মধ্যে রাজনীতি রয়েছে। এ কারণে আবার তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং রাজনীতির মধ্যে সক্রিয় হন।

কিন্তু বিএনপি নেতারা বলছেন যে, ইশরাক হোসেনকে ক্রমশ কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে, তিনি যেন রাজনীতিতে পাদপ্রদীপে আসতে না পারেন, তিনি যেন দ্রুত জনপ্রিয় না হন, এ কারণে তাকে ক্রমশ কোণঠাসা করে রাখা হচ্ছে দলের অভ্যন্তরে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে রীতিমত অ’পমান করা হচ্ছে। তিনি কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করতে চাইলে তাকে বাধা দেয়া হচ্ছে। এমনকি বিএনপির যখন দলীয় কর্মসূচি পালন করছে, সেই কর্মসূচিগুলোতেও খোকার পুত্র ইশরাক হোসেনকে অনেকটা অ’পাংক্তেয় করে রাখা হচ্ছে। এ নিয়ে বিএনপি’র মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ দানা বেঁধে উঠছে। বিশেষ করে তরুণরা মনে করছেন, বুড়োদের বদলে ইশরাকের মতো তরুণদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিলেই বিএনপি সঙ্ঘবদ্ধ হতে পারে। কিন্তু বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা যেন ইশরাক হোসেন আতঙ্কে থাকে। তারা কোনোভাবেই ইশরাককে জায়গা দিতে রাজি নয়। ইশরাক হোসেন কি পারবেন পিতার মতো দলের ভেতর জায়গা করে নিতে, নাকি জামায়াত নিয়ন্ত্রিত বিএনপির রাজনীতিতে তিনি বিলীন হয়ে যাবেন।

Back to top button