জাতীয়

ঈদের জামাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও ষড়যন্ত্র নস্যাতের প্রার্থনা

দীর্ঘ দুই বছর মহামা’রি ক’রো’নাভাই’রাসের বিধিনিষেধের পর আবারও চিরচেনা রূপে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামাত শেষে মোনাজাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র নস্যাতের প্রার্থনা করা হয়।

মঙ্গলবার (৩ মে) জাতীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ই’মামের দায়িত্ব পালন করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় ম’স’জিদের খতিব হাফেজ মা’ওলানা মুফতি রুহুল আমিন।

এ সময় মন্ত্রিসভা’র সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এ জামাতে নামাজ আদায় করেন।

নামাজ আদায় শেষ ৮টা ৪৫ মিনিটে শুরু হয় মোনাজাত। ১০ মিনিট ধরে চলা মোনাজাতে আল্লাহর কাছে দুহাত তুলে দোয়া করেন ছোট-বড় সব বয়সী মু’সল্লিরা।

ই’মাম রুহুল আমিন বলেন, এ দেশ শান্তি-সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে সব ধ’র্মের মানুষ সম্প্রীতি নিয়ে বসবাস করে। শান্তি-সম্প্রীতি নষ্ট হয়, আম’রা এমন উসকানিমূলক বক্তব্য পরিহার করব। এ ধরনের বক্তব্য দেব না।মোনাজাতে হাফেজ মা’ওলানা মুফতি রুহুল আমিন বলেন, হে আল্লাহ তুমি জানো কোন অ’পশক্তি বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করার পরিকল্পনা করছে। তুমি তাদের এ ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দাও।

মোনাজাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া কা’মনা করা হয়। এ ছাড়াও যারা ক’রো’নায় আ’ক্রা’ন্ত হয়েছেন, তাদের সুস্থতা কা’মনা এবং ক’রো’নায় মৃ’তদের জান্নাত দানের প্রার্থনা করা হয়। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মু’সলিম জাহানের শান্তি কা’মনা করা হয়।

বিশ্বজুড়ে ই*উ*ক্রে*ন যু’দ্ধের প্রভাবের মধ্যে ঈদের নামাজ শেষে মোনাজাতে বাংলাদেশের কল্যাণ কা’মনা করেন মা’ওলানা রুহুল আমিন।তিনি বলেন, অনেক র’ক্তের বিনিময়ে এ দেশ পেয়েছি আম’রা, আল্লাহ। এ দেশকে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করুন। পৃথিবী থেকে যু’দ্ধ যাতে চলে যায়। সব বালা-মু’সিবত থেকে আমাদের রক্ষা করুন।

এদিকে সকাল ৭টায় জাতীয় ম’স’জিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের ৫টি জামাত হবে এখানে। বিধিনিষেধের বেড়াজালে গত দুই বছর বন্ধ ছিল কোলাকুলি। অবস্থার পরিবর্তনে বাঁধনহারা আনন্দ উদ্‌যাপনে ফিরে এসেছে ঈদের সেই চিরচেনা রূপ।

ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে আশপাশের সড়কে ডাইভা’রশন দেয় পু’লিশ। ফলে মু’সল্লিদের কিছুটা পথ হেঁটে মাঠে প্রবেশ করতে হয়েছে। ঈদ জামাতে প্রবেশের মুখে রে’ব-পু’লিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তীক্ষ্ণ নজরদারি ছিল। নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলায় মু’সল্লিরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সকাল থেকেই ঈদগাহ এলাকায় এবং প্রতিটি গেটে পু’লিশ সদস্যদের উপস্থিতি ছিল। ব্যাগ নিয়ে আসা অনেককেই তারা তল্লা’শি করেন। এ ছাড়া প্রত্যেককে আর্চওয়ে গেটের মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।

Back to top button