জাতীয়

সবার মুখে হাসি ফোটানোই হোক এবারের ঈদে আমাদের অঙ্গীকার

মহামা’রি ক’রো’নাভাই’রাসের বিধিনিষেধের দুই বছর পর আবারও চিরচেনা রূপে ফিরেছে ঈদুল ফিতর। আনন্দঘন পরিবেশ ঈদের জামাত আদায় করেছেন সবাই। এই আনন্দের মাধ্যমে সবার মুখে হাসি ফোটানোই হোক এবারের ঈদে আমাদের অঙ্গীকার বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

মঙ্গলবার (৩ মে) বঙ্গভবন থেকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে এক ভিডিও বার্তায় এ মন্তব্য করেন তিনি।রাষ্ট্রপতি বলেন, ক’রো’না মাহামা’রির কারণে বিগত দুই বছর ঈদসহ কোনো সম্প্রদায়ের কোনো ধ’র্মীয় উৎসবই প্রত্যাশিত আনন্দঘন পরিবেশে উদ্‌যাপন ও উপভোগ করা যায়নি। বর্তমানে ক’রো’না পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে, তাই এবার মানুষের মধ্যে বাঁধভাঙা আনন্দ উপভোগের প্রবণতা দেখা দেবে; এটাই স্বাভাবিক। তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে, ক’রো’না মহামা’রি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ক’রো’না ভাই’রাস পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক’রো’নার সংক্রমণ আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, তাই চলাফেরা ও জীবনাচারে সাবধানতা অবলম্বন না করলে যে কোনো সময় ক’রো’না পরিস্থিতি খা’রা’প হয়ে যেতে পারে। আনন্দ করতে গিয়ে যেন আম’রা বিপদকে ডেকে না আনি। তাই আসুন স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উৎসব পালন করি, দেশকে ক’রো’নামুক্ত রাখি।ক’রো’নার দুঃসহ স্মৃ’তি পেরিয়ে এবার মু’সলমানদের সবচেয়ে বড় ধ’র্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর চিরচেনা রূপে ফিরলেও স্বাস্থ্যবিধির কারণে রাষ্ট্রপ্রধানের বাসভবন বঙ্গভবনে ফেরেনি ঈদের চেনারূপ।

এবারও ঈদে জাতীয় ঈদগাহে যাননি রাষ্ট্রপতি। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে পরিবারের সদস্য এবং কর্মক’র্তাদের সঙ্গে ঈদের নামাজ পড়েন তিনি। এ ক্ষেত্রে মানা হয় কোভিডবিধি।দেশবাসীর উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, একমাস সিয়াম সাধনা এবং আত্মশুদ্ধির ঐকান্তিক প্রচেষ্টার পর মু’সলমানদের জন্য আজ একটি খুশির দিন পবিত্র ঈদুল ফিতর। আমি পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে দেশবাসীসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।

তিনি বলেন, ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। শুধু নিজেকে বা পরিবারকে নিয়ে নয় বরং আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপনের মধ্যেই ঈদের প্রকৃত আনন্দ। আমি দেশবাসীকে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে উপভোগের আহ্বান জানাচ্ছি।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের মুখে হাসি ফোটাতে নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। ঈদুল ফিতরের আগে ৩২ হাজার ৯০৪টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে বাড়ি দেওয়া হয়েছে। ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে সবার মুখে হাসি ফোটানোই হোক এবারের ঈদুল ফিতরে আমাদের অঙ্গীকার।

এদিকে জাতীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ই’মামের দায়িত্ব পালন করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় ম’স’জিদের খতিব হাফেজ মা’ওলানা মুফতি রুহুল আমিন। এ সময় মন্ত্রিসভা’র সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এ জামাতে নামাজ আদায় করেন।

নামাজ আদায় শেষ ৮টা ৪৫ মিনিটে শুরু হয় মোনাজাত। ১০ মিনিট ধরে চলা মোনাজাতে আল্লাহর কাছে দুহাত তুলে দোয়া করেন ছোট-বড় সব বয়সী মু’সল্লিরা।ই’মাম রুহুল আমিন বলেন, এ দেশ শান্তি সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে সব ধ’র্মের মানুষ সম্প্রীতি নিয়ে বসবাস করে। শান্তি-সম্প্রীতি নষ্ট হয়, আম’রা এমন উসকানিমূলক বক্তব্য পরিহার করব। এ ধরনের বক্তব্য দেব না।

মোনাজাতে হাফেজ মা’ওলানা মুফতি রুহুল আমিন বলেন, হে আল্লাহ তুমি জানো কোনো অ’পশক্তি বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করার পরিকল্পনা করছে। তুমি তাদের এ ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দাও।মোনাজাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া কা’মনা করা হয়। এ ছাড়াও যারা ক’রো’নায় আ’ক্রা’ন্ত হয়েছেন, তাদের সুস্থতা কা’মনা এবং ক’রো’নায় মৃ’তদের জান্নাত দানের প্রার্থনা করা হয়। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মু’সলিম জাহানের শান্তি কা’মনা করা হয়।

বিশ্বজুড়ে ইউক্রেইন যু’দ্ধের প্রভাবের মধ্যে ঈদের নামাজ শেষে মোনাজাতে বাংলাদেশের কল্যাণ কা’মনা করেন মা’ওলানা রুহুল আমিন।তিনি বলেন, অনেক র’ক্তের বিনিময়ে এ দেশ পেয়েছি আম’রা, আল্লাহ। এ দেশকে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করুন। পৃথিবী থেকে যু’দ্ধ যাতে চলে যায়। সব বালা-মু’সিবত থেকে আমাদের রক্ষা করুন।

এদিকে সকাল ৭টায় জাতীয় ম’স’জিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের ৫টি জামাত হবে এখানে। বিধিনিষেধের বেড়াজালে গত দুই বছর বন্ধ ছিল কোলাকুলি। অবস্থার পরিবর্তনে বাঁধনহারা আনন্দ উদ্‌যাপনে ফিরে এসেছে ঈদের সেই চিরচেনা রূপ।

ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে আশপাশের সড়কে ডাইভা’রশন দেয় পু’লিশ। ফলে মু’সল্লিদের কিছুটা পথ হেঁটে মাঠে প্রবেশ করতে হয়েছে। ঈদ জামাতে প্রবেশের মুখে রে’ব-পু’লিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তীক্ষ্ণ নজরদারি ছিল। নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলায় মু’সল্লিরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।সকাল থেকেই ঈদগাহ এলাকায় এবং প্রতিটি গেটে পু’লিশ সদস্যদের উপস্থিতি ছিল। ব্যাগ নিয়ে আসা অনেককেই তারা তল্লা’শি করেন। এ ছাড়া প্রত্যেককে আর্চওয়ে গেটের মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।

 

Back to top button