জাতীয়

সেই তেঁতুলতলা মাঠে হলো ঈদের জামাত

ঢাকার কলাবাগানের সেই তেঁতুলতলা মাঠে ঈদের নামাজ পড়েছেন স্থানীয়রা। এলাকার বাসিন্দারা মঙ্গলবার (৩ মে) সকাল ৮টায় খেলার মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরে খুশি।

এলাকার বাসিন্দারা বলেন, আম’রা খুশি ঈদের নামাজ এখানে পড়তে পেরেছি। আশা করিনি আম’রা এখানে আর নামাজ পড়তে পারব। জামাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেয় যা স্থান স্বল্পতায় রাস্তায় গিয়ে পৌঁছেছিল।

তেঁতুলতলা মাঠে থা’না নির্মাণের প্রতিবাদে সম্প্রতি পু’লিশের হাতে আ’ট’ক হয়েছিলেন সৈয়দা রত্না ও তার ছে’লে। তিনি জানান, সবাই এখানে ঈদের নামাজ পড়তে পারায় অ’ত্যন্ত খুশি।

ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে মাঠে টাঙানো হয় সামিয়ানা, আর বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা হয় অবকাঠামো।
আগে কখনো এখানে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না জানতে চাইলে কলাবাগান থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) পরিতোষ সাহা সাংবাদিকদের বলেন, আগে এখানে জামাত হত কি না, তা আমা’র জানা নেই এবং শুনিনি।

চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি ঢাকা জে’লা প্রশাসকের কার্যালয় কলাবাগান থা’নার ভবন নির্মাণের জন্য খেলার মাঠটি ডিএমপির কাছে হস্তান্তর করে। কয়েক মাস ধরে শি’শুদের স্বার্থে এটিকে মাঠ রাখার দাবি জানিয়ে বি’ক্ষো’ভ করে আসছিলেন স্থানীয়রা।

১ বিঘা ক্ষেত্রফলের সরকারি জমি তেঁতুলতলা মাঠে স্থানীয় শি’শু-কি’শোরদের খেলাধুলার পাশাপাশি এলাকার নানা সামাজিক অনুষ্ঠান হয়ে আসছিল।সম্প্রতি ওই মাঠটিতে কলাবাগান থা’না নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলে উদীচীর কর্মী সৈয়দা রত্নার নেতৃত্বে আ’ন্দোলন গড়ে ওঠে। সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ শুরুর পর গত ২৪ এপ্রিল পু’লিশ রত্না ও তার ছে’লেকে আ’ট’ক করে। এরপর ক্ষোভ-বি’ক্ষো’ভ দেখা দেয় এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে। পরে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী সেখানে থা’না ভবন না তোলার নির্দেশ দেন।

ফলে ওই এলাকার শি’শু-কি’শোরদের খেলার জন্য মাঠটি রক্ষা পায়, যদিও মাঠটি পু’লিশের তত্ত্বাবধানেই থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কা’মাল।

তিনি বলেন, খেলার মাঠ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, তবে তা পু’লিশের এখতিয়ারে থাকবে।প্রসঙ্গত, পরিবেশবাদী ও স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৮ এপ্রিল তেঁতুলতলাকে খেলার মাঠ হিসেবে রাখার নির্দেশ দেন। ঘোষণার পর থেকে শি’শুরা আবার মাঠে খেলা শুরু করেছে। আজ সেখানে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হলো।

Back to top button