আন্তর্জাতিক

বৃষ্টি উপেক্ষা করে কলকাতায় ঈদ জামাতে মু’সল্লিদের ঢল

কলকাতার পার্ক সার্কাস ময়দানের ঈদগাহে তখন হিন্দিতে মাইকে প্রচার হচ্ছে, আপনারা নিয়ম মেনে দাঁড়ান। নামাজ এখু’নি শুরু হবে। বৃষ্টি আসছে। ই’মাম সাহেব যদি বৃষ্টির মধ্যে নামাজ পড়াতে পারেন। আপনারাও পারবেন। তাই বৃষ্টি এলে লাইন ভঙ্গ করবেন না। যে যেভাবে আছেন সেভাবেই দাঁড়াবেন। নামাজ শুরু হতে তখনও মিনিট দুয়েক বাকি। হঠাৎ আকাশ ভে’ঙে ঝমঝমিয়ে নেমে এলো বৃষ্টি। সঙ্গে চলল ঝড়ো হাওয়া। কলকাতা পু’লিশ থেকে পথিক, মা’থা ঢাকবে বলে বিভিন্ন দিকে ছুট লাগালো। বৃষ্টি মা’থায় নিয়ে মু’সল্লিরা শুরু করলেন নামাজ। বছরে একটাই তো খুশির ঈদের নামাজ। বৃষ্টির জন্য তা থেমে থাকতে পারে?

সম্প্রতি পার্ক সার্কাস অঞ্চল থেকে বিধায়ক হয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়ো। ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। এ রকম বৃষ্টিতে অন্য সময় হলে সম্ভবত নিজের গাড়িতে গিয়ে বসতেন। কিন্তু, আজ হয়তো দৃষ্টিকটু লাগবে। মু’সল্লিরা ভিজছেন, সাংবাদিকরা ভিজছেন। তিনি নেতা হয়ে কী না ভিজে থাকতে পারেন? ছাতা হাতে এগিয়ে এলেন তার দেহরক্ষী। কিন্তু এমন ঝড়-বৃষ্টি, ছাতায় ঠেকানো যাচ্ছে না বৃষ্টির পানি। ভিজলেন বাবুলও।

নামাজ শেষে বাবুল বলেন, ‘আপনারা জানেন আমি বিজেপিতে ছিলাম। তাই এই ধরনের অনুষ্ঠানে আমা’র আগে কোনো দিন থাকা হয়নি। মমতা দিদি আম’রা ওপর ভরসা রেখেছিলেন। তাই আমি বালিগঞ্জের বিধায়ক। এখানে এসে আমা’র নতুন উপলব্দি হচ্ছে। বেশ ভালো লাগছে। আজ যেমন একদিকে ঈদ পালন হচ্ছে অ’পরদিকে হিন্দুরা পালন করছেন অক্ষয় তৃতীয়া। কলকাতার সংস্কৃতি তো এটাই। একসঙ্গে মিলেমিশে থাকা। আম’রা এক হয়ে থাকব। বাংলায় সম্প্রীতি কখন ভাঙতে দেবো না। ’ তখন সবাই একসঙ্গে বলে উঠলেন ‘আমিন’।

আজ মঙ্গলবার ৩ মে ঈদুল-ফিতর উপলক্ষে কলকাতার ধ’র্মপ্রা’ণ মু’সলিম সম্প্রদায় সকালে নামাজ পাঠের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা করেন। শহরের নিরিখে সবচেয়ে বড় অস্থায়ী ঈদগাহ হলো কলকাতা ফোর্ট উইলিয়াম সংলগ্ন রেড রোড। এরপরই আছে কলকাতার বাংলাদেশ লাইব্রেরি সংলগ্ন পার্ক সার্কাস, নাখোদা ম’স’জিদ সংলগ্ন জাকারিয়া স্ট্রিট এবং এসপ্ল্যান্ডে ও টালিগঞ্জে অবিস্থিত টিপু সুলতান ম’স’জিদ। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে নাখোদা ম’স’জিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর টিপু সুলতান ম’স’জিদে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে, পার্ক সার্কাস ও রেড রোড নামাজ অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে আটটায়। নামাজ শেষে সকাল ৯টা নাগাদ রেড রোডে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমা’র চিন্তা হচ্ছিল, এত বৃষ্টির মধ্যে কীভাবে আপনারা নামাজ পড়বেন সবাই। আল্লাহর কাছে বলছিলাম, এমন বৃষ্টি দিও না, যাতে ওরা নামাজ না পড়তে পারে। একমাস রোজ রেখে আমা’র ভাইয়েরা নামাজ পড়বেন, ওদের একটু শান্তি দিন। কিন্তু আপনাদের ইচ্ছাশক্তি এবং উদ্যম দেখে আমি অ’ভিভূত। এমন দৃশ্য ভা’রতের কোথাও দেখা যায় না। এটা বাংলাতেই সম্ভব, এটাই বাংলার সংস্কৃতি।

এদিন হিন্দু-মু’সলিমের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, ‘সম্প্রীতি বজায় রাখু’ন। আমাদের এক থাকতে হবে। বাংলার বাইরের শক্তি আমাদের সম্প্রীতি ভাঙার চেষ্টা করছে। তাদের কথায় কান দেবেন না। সবসময় এক হয়ে থাকবেন। দেখু’ন, সূর্যও উঠে গেল। সূর্য হাসছে। ওরা আমাদের সম্প্রীতি দেখে হিংসে করে। ওরা এই শান্তি-সম্প্রীতি দেখতে পারে না। ওদের মনোবাঞ্ছা বাংলা পূরণ হবে না। ’ তখনও সমস্বরে সবাই বলে উঠলেন আমিন।

 

Back to top button