জাতীয়

সন্তানকে দেখতে আসা রিয়াজের পরিবারের ঈদ কে’টেছে চোখের জলে

অ’ভিযান-১০ লঞ্চ দু’র্ঘ’ট’নায় নি’হ’ত বরগুনার বেতাগীর রিয়াজ হাওলাদারের পরিবার চোখের জলে ঈদ কাটিয়েছেন। ঈদ উৎসবের এ সময়ে তাঁদের পাশে নেই কেউ। আনন্দঘন দিনটি অসহায় ও উৎকণ্ঠায় পার হয়েছে তাদের।উপজে’লার কাজিরাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা রিয়াজ হাওলাদার কাজ করতেন ঢাকার একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে।

গত ২৩ ডিসেম্বর ২৮ দিনের সদ্যোজাত পুত্র সন্তানকে দেখতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী ওই লঞ্চে উঠেন তিনি। রাত ৩টার দিকে ঝালকাঠীর সুগন্ধা নদীতে পৌঁছালে অ’গ্নিদ’গ্ধ হয়ে মা’রা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রিয়াজও ছিলেন।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি স্বামী রিয়াজকে হারিয়ে শোকার্ত স্ত্রী’ মুক্তা বেগম আজ চরম অসহায়। তার জীবনে নেমে এসেছে বিষাদের কালো মেঘ। ঈদ আনন্দ তো দূরে থাক এখন দুবেলা দুমুঠো খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাই দুষ্কর। দুই সন্তান আর শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে দুর্বিষহ দিন কাটছে তাঁদের। তাঁদের জন্য এখন জরুরি সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা।

গতকাল বুধবার (৪ মে) বিকেলে সুগন্ধা ট্র্যাজেডিতে নি’হ’ত রিয়াজের বাড়িতে কথা হয় স্ত্রী’ মুক্তা বেগমের সঙ্গে। এ সময় কা’ন্নায় ভে’ঙে পড়েন তিনি। চোখের জলে পোশাক ভিজে একাকার। স্ত্রী’ মুক্তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন অন্য স্বজনরা। মুক্তা বেগম জানান, উপার্জনক্ষম স্বামী রিয়াজের বিদায়ের সাথে সাথে ঈদ আনন্দও বিদায় নিয়েছে।

এমনিতেই স্বামী হারিয়ে দিশেহারা মুক্তা এখন দুই ছে’লে ও শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে অভাব-অনটনে সংসার চালাচ্ছেন। ছে’লেদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন মুক্তা বেগম। ২৮ দিনের শি’শু সন্তানের মুখ দেখতে সেদিন বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন রিয়াজ। সেই ছে’লের বয়স এখন পাঁচ মাস। কিন্তু ছে’লের মুখ আর দেখতে পারেননি। তিনি আরও জানান, ছে’লেদের কীভাবে মানুষ করব সেই চিন্তায় এখন সারাবেলা কাটে।

রিয়াজের মা পিয়ারা বেগম ও বাবা আব্দুল কাদের বৃদ্ধ বয়সে শেষ সম্বল একমাত্র পুত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ। প্রিয় সন্তান হা’রা’নোর শোক যেন কিছুতেই ভুলতে পারছেন না তারা। ছে’লের কথা মনে করিয়ে দিতেই তারা অঝরে কাঁদতে থাকেন। ঈদুল ফিতরের এমন আনন্দঘন মুহূর্তে আদরের ছে’লে নেই। তাই ঈদও নেই। সেই সঙ্গে ছোট ছোট দুটি নাতি ও পুত্রবধূর ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাঁদের।

আব্দুল কাদের জানান, ‘তাঁর সামান্য যে জমি-জিরাত রয়েছে তা চাষাবাদ করে কোনোমতে সংসার চলছে। যত দিন শরীরে শক্তি আছে তত দিন সংসার চলবে। কিন্তু এরপর সংসার কীভাবে চলবে। নাতিদের ভবিষ্যৎ কী হবে সে আতঙ্কেই ঘুম হারাম হয়ে গেছে তাদের। ’

শুধু রিয়াজই নয়, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর অ’ভিযান ১০ লঞ্চে অ’গ্নিকা’ণ্ডের ঘটনায় বেতাগীর মোকা’মিয়ার আরিফুর রহমান (৩৮) ও তাঁর চার বছরের মে’য়ে কুলসুমসহ প্রিয়জন হারিয়েছেন আরো অনেকেই। এতে নি’হ’ত ৪৯ জনের মধ্যে ১৭টি ম’রদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং অ’জ্ঞা’তপরিচয় হিসেবে বরগুনায় ২৩ ও ঝালকাঠিতে একজনকে দাফন করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা’রা গেছেন আরও ৮ জন এবং এখনো নি’খোঁ’জ ২৪ জন। এসব পরিবারে এ বছরের ঈদের আনন্দ মলিন হয়ে গেছে। কেউ খুঁজছে নি’খোঁ’জ ভাইকে, কেউ খুঁজছে বোনকে। আবার কেউ খুঁজছে বাবা-মাকে। স্বজন হা’রা’নো পরিবারগুলোতে ঈদ যেন দুঃখ-ক’ষ্ট’কে আরো বাড়িয়ে দেয়।

Back to top button